📌 চুরির অভিযোগে মারধর ও খুঁটিতে বাঁধা বাবার মুখে পাউরুটি তুলে দেওয়া ছোট্ট মেয়েটিকে বরিশালের উজিরপুর ইউএনও স্কুলে নিয়ে গেলেন। মেয়েটির বাবাকে মাদকসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়ে পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় চুরির অভিযোগে মারধর ও খুঁটিতে বাঁধা বাবার মুখে পাউরুটি তুলে দেওয়া ছোট্ট মেয়েটিকে আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে নিয়ে গেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা। মেয়েটি, যিনি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী, সহপাঠী ও শিক্ষকদের সাথে পুনরায় মিলিত হওয়ার মুহূর্তে অসাধারণ খুশি ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবিরসহ অন্যান্য শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেয়েটির বাবাকে মাদকসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়ে তিন মাসের জন্য সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে, খরচ বহন করছে প্রশাসন
- 📌 মেয়ের পড়াশোনা নিশ্চিত করার জন্য পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ইউএনও আমার নামের মেয়ের মায়ের নামে স্থায়ী আমানত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
- 📌 বাবাকে মারধর ও খুঁটিতে বাঁধার ঘটনায় মেয়েটি ৯ বছর বয়সে বাবার পাশে পৌঁছানোর সময় পাউরুটি তুলে দিয়েছিলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে
- 📌 সুজা ইউএনও বলেছেন, ‘আমরা সমাজের সব অসঙ্গতি দূর করতে পারব না, কিন্তু একটি পরিবারকে সুরক্ষা দিয়ে সমাজে মডেল তৈরি করতে পারি’
- 📌 ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের অনেকেই পরিবারটিকে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন
📰 বিস্তারিত
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা মেয়েটিকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি মেয়েটিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারার জন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। ইউএনও বলেছেন, ‘আমরা পরিবারটির সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি মেয়েটির পড়াশোনা নিশ্চিত করার জন্য পর্যায়ক্রমে উদ্যোগ নিচ্ছি। বাবাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রথমে তাঁকে একটি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তিন মাস তিনি সেখানে থাকবেন এবং প্রশাসন খরচ বহন করবে।’
গত ২৮ সেপ্টেম্বর মেয়েটির বাবাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বরিশাল নগরের একটি মাদকসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। ইউএনও জানান, বাবা-মেয়ের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশের অনেকেই পরিবারটিকে সাহায্য করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আর্থিক সহায়তা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা মিলিয়ে মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য মেয়েটির মায়ের নামে একটি স্থায়ী আমানত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বাবা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলে তাঁর জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন ইউএনও।
গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উজিরপুরের একটি বাজারে চুরির অভিযোগে বাবাকে মারধর করে খুঁটিতে বাঁধা হয়েছিল। পরদিন সকালে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যায় মেয়েটি। বাবাকে আর মারধর না করার জন্য তিনি উপস্থিত লোকজনের কাছে আকুতি জানান। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় বাবার মুখে পাউরুটি তুলে দেওয়া মেয়েটির অসহায় দৃষ্টি। বিষয়টি নিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
"আমরা পরিবারটির সুরক্ষার পাশাপাশি পুনর্বাসন এবং মেয়েটির পড়াশোনা নিশ্চিত করার ব্যাপারে পর্যায়ক্রমে উদ্যোগ নেব। আমরা সমাজের সব অসঙ্গতি দূর করতে পারব না। কিন্তু একটি পরিবারকে সুরক্ষা দিয়ে অন্তত সমাজে একটি মডেল তৈরি করতে পারি। সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।"
মেয়েটির মা আমার ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ইউএনও স্যার আমাদের পরিবারের দুঃসময়ে যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি এমন উদ্যোগ না নিলে আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে যেত। মেয়ের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যেত।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উজিরপুর উপজেলা, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আলী সুজা (ইউএনও), মেয়েটির মা (আমার), মেয়েটির বাবা, জাহাঙ্গীর কবির (প্রধান শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ বছর (মেয়েটির বয়স), ২৮ সেপ্টেম্বর (বাবাকে নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো তারিখ), ২৬ সেপ্টেম্বর (সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!