📌 ঠাকুরগাঁও জেলায় আগাম আমন ধান কাটার সময় গবাদিপশু পালনকারীরা খড়ের সংকট মেটাতে অন্যের জমির ধান কাটছেন এবং বিনিময়ে খড় পাচ্ছেন। এই বিনিময় ব্যবস্থায় কৃষকদের শ্রমিক খরচ বাঁচছে এবং গবাদিপশু পালনকারীরা খড় পাচ্ছেন
ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম আমন ধান কাটার সময় গবাদিপশু পালনকারীরা খড়ের সংকট মেটাতে অন্যের জমির ধান কাটছেন এবং বিনিময়ে খড় পাচ্ছেন। এই অনন্য বিনিময় ব্যবস্থায় কৃষকদের শ্রমিক খরচ বাঁচছে এবং গবাদিপশু পালনকারীদের গোখাদ্য পাচ্ছে। স্থানীয়রা এই ব্যবস্থাকে ‘খড় উৎসব’ বলে অভিহিত করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঠাকুরগাঁও জেলায় গবাদিপশু পালনকারীরা খড়ের সংকট মেটাতে অন্যের জমির ধান কাটছেন এবং বিনিময়ে খড় পাচ্ছেন
- 📌 কৃষক রেজাউল করিমের ২০ জন শ্রমিক ধান কাটে, মাড়াই করে এবং বিনিময়ে খড় নিয়ে যায়; এতে তার ১২ হাজার টাকা শ্রমিক খরচ বাঁচে
- 📌 বিট বাজার এলাকার কৃষক আইনুল হক বলেন, বাড়ির খড় শেষ হওয়ায় অন্যের জমির ধান কাটে খড় জোগাড় করছেন
- 📌 মাদারগঞ্জ গ্রামের কৃষিশ্রমিক কার্তিক বর্মণ বলেন, বৃষ্টির কারণে আগের মৌসুমের খড় শুকাতে না পারায় বাজারে খড় কিনতে পারছেন না
- 📌 পাশের জমিতে ধান কাটার দলের সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, বিক্রি করে পাওয়া টাকা সবাই মিলে ভাগ করে নেবেন
- 📌 ঠাকুরগাঁও জেলায় ১০ লাখ ৪৭ হাজার বেশি গবাদিপশু রয়েছে, যার খাদ্যের প্রধান অংশ আসে খড় থেকে
📰 বিস্তারিত
সকালে কুয়াশার আবরণে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মধ্য পারপুগী এলাকায় একটি জমিতে ১৮ থেকে ২০ জনের দল ধান কাটছিল। কেউ কাস্তে চালাচ্ছিলেন, কেউ আঁটি বাঁধছিলেন। মাড়াইযন্ত্রের কাছে ধান থেকে খড় আলাদা হচ্ছিল। জমির এক পাশে জমছিল খড়ের স্তূপ। এই জমির মালিক কৃষক রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার জমির ধান আগে পেকে গেছে। খবর পেয়ে ২০ জন কৃষক-শ্রমিক এসে ধান কেটে, মাড়াই করে, বস্তায় ভরে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁদের কাউকে টাকা দিতে হয়নি। তাঁরা খড় নিয়ে গেছেন। এতে আমার প্রায় ১২ হাজার টাকা শ্রমিকের খরচ বেঁচেছে।’
রেজাউলের জমিতে ধান কাটছিলেন বিট বাজার এলাকার কৃষক আইনুল হক। তাঁর বাড়িতে তিনটি গরু রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাড়ির খড় শেষ। নিজের জমির ধান কাটতে আরও সময় লাগবে। এখন খড় কিনতে গেলে দাম বেশি। তাই অন্যদের সঙ্গে এখানে ধান কাটতে এসেছি। খড় নিয়ে বাড়ি যাব।’
মাদারগঞ্জ গ্রামের কৃষিশ্রমিক কার্তিক বর্মণের বাড়িতে চারটি গাভি রয়েছে। বৃষ্টির কারণে আগের মৌসুমের খড় শুকাতে না পারায় তিনি বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘এবার বৃষ্টির কারণে বোরোর একটুও খড় শুকাতে পারিনি। বাজারে প্রতি পণ (৮০টি আঁটিতে এক পণ) খড় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এত টাকা দিয়ে খড় কিনে গরুকে খাওয়ানো কঠিন। তাই এখানে ধান কেটে খড় বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।’
পাশের জমিতে পৌনে দুই বিঘায় আগাম আমন আবাদ করেছেন কৃষক তানজিনা বেগম। সেখানে ১৬ জনের একটি দল ধান কাটছিল। দলের সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, ধান কাটার পর প্রায় দেড় হাজার আঁটি খড় পাওয়া যাচ্ছে। এর একটি অংশ তাঁরা প্রতি আঁটি সাত টাকা দরে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির চুক্তি করেছেন। সিরাজুল বলেন, ‘বিক্রি করে যে টাকা পাব, তা সবাই মিলে ভাগ করে নেব।’
এই ব্যবস্থাকে স্থানীয় শিক্ষক আতাউর রহমান ‘খড় উৎসব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এই রীতি কয়েক বছর ধরে এলাকায় চলে আসছে। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে ১০ লাখ ৪৭ হাজার বেশি গবাদিপশু রয়েছে। এসব পশুর খাদ্যের বড় একটি অংশ আসে ঘাস ও খড় থেকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, এবার টানা বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক বোরোর খড় ঠিকমতো শুকাতে পারেননি। ফলে কোথাও কোথাও খড়ের সংকট তৈরি হয়েছে।
“আমার জমির ধান আগে পেকে গেছে। খবর পেয়ে ২০ জন কৃষক-শ্রমিক এসে ধান কেটে, মাড়াই করে, বস্তায় ভরে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁদের কাউকে টাকা দিতে হয়নি। তাঁরা খড় নিয়ে গেছেন। এতে আমার প্রায় ১২ হাজার টাকা শ্রমিকের খরচ বেঁচেছে।” — রেজাউল করিম, কৃষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঠাকুরগাঁও জেলা, মধ্য পারপুগী, শিবগঞ্জ বাজার, বিট বাজার, মাদারগঞ্জ গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজাউল করিম, আইনুল হক, কার্তিক বর্মণ, সিরাজুল ইসলাম, তানজিনা বেগম, আতাউর রহমান, মো. মাজেদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ জন শ্রমিক, ১২ হাজার টাকা, ১৮-২০ জন দল, ৩টি গরু, ৪টি গাভি, ১৬ জন দল, ১০ লাখ ৪৭ হাজার গবাদিপশু, ৬০০-৭০০ টাকা, ৮০টি আঁটি, ৭ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!