📌 ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধে মাছ ধরার উৎসব চলছে। শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য নির্মিত এই বাঁধে প্রতিবছর অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে পানি ছেড়ে মাছ ধরার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মাছের পরিমাণ কমলেও স্থানীয়রা আনন্দে মাছ ধরতে আসছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধে মাছ ধরার উৎসবের আনন্দে কমতি নেই। শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য নির্মিত এই বাঁধে প্রতিবছর অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে পানি ছেড়ে মাছ ধরার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই বছর মাছের পরিমাণ কমলেও স্থানীয়রা উৎসাহ হারায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধে মাছ ধরার উৎসব চলছে, তবে মাছের পরিমাণ কমলেও উৎসাহ কমেনি
- 📌 ১৯৫১-৫২ অর্থবছরে নির্মিত বাঁধে ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে ১১ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সেচখাল নির্মিত, যা ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করে
- 📌 প্রতিবছর অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে বাঁধের পানি ছেড়ে মাছ ধরার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত চলতে পারে
- 📌 স্থানীয়রা মাছ ধরার আনন্দে বন্ধু-স্বজন নিয়ে দলবেঁধে আসেন, মাছ পাওয়ার আশায় জাল ফেলেন
- 📌 পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার তপন রায় (২৯) জাল ফেলতে ফেলতে আধা কেজির মতো ছোট মাছ পেয়েছেন, কিন্তু আনন্দে কমতি নেই
- 📌 বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা গ্রামের জয়ন্ত বর্মন (৪৭) মাছ পেলে না বউয়ের জন্য পুঁটি মাছ কিনে নিয়ে যাবেন
- 📌 রুহিয়া উপজেলার রামনাথ এলাকার ইয়াসিন আলীর জালে উঠে আসে এক কেজির ওপরের ‘জাপানি রুই’
📰 বিস্তারিত
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী উপজেলার কার্তিকতলা গ্রামের বাসিন্দা পরিমল রায় মাছ ধরার অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন, একবার, দুবার, তিনবার জাল ফেলেও মাছের দেখা পেলেন না। কিন্তু প্রতিবারই খালি জাল তুলে হতাশ হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন। পাশে থলে হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সুজন রায় সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘এইবার বড় একখান মাছ উঠিবে’। শেষবারের মতো জাল ফেললেন পরিমল। ঝপাৎ করে পানিতে ডুবে যাওয়া জালটি টেনে তুলতেই দেখা গেল, সেখানে আটকে আছে দুটি পুঁটি মাছ। ছোট্ট এই প্রাপ্তিতেই মুখে হাসি ফুটল তাঁর।
বুড়ির বাঁধে মাছ ধরার উৎসব শুধু মাছ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধু-স্বজন নিয়ে দলবেঁধে মাছ ধরা, খুনসুটি এবং জাল ফেলা-এসবই স্থানীয়দের জন্য একটা উৎসব। গত শুক্রবার রাতের আঁধার তখনো কাটেনি। আবছায়ায় চারপাশ থেকে ভেসে আসছিল ঝপাৎ ঝপাৎ শব্দ। একটু একটু করে পুব আকাশে লাল আভা ছড়িয়ে পড়তেই দৃশ্যমান হয়ে উঠল সেই শব্দের উৎস। বাঁধ এলাকায় নানা বয়সী মানুষ কেউ বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে, কেউ কোমরসমান পানিতে নেমে জাল ফেলছেন। তবে অধিকাংশের জালই ফাঁকা হলেও কারও উৎসাহে ভাটা পড়ছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সম্পূরক সেচের সুবিধা দিতে সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সীমানায় ১৯৫১-৫২ অর্থবছরে বুড়ির বাঁধ সেচ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। বাঁধের পানি ধরে রেখে সেচের সুবিধা দেওয়াই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। পরে ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয় ১১ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সেচখাল। যার মাধ্যমে ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, বাঁধে আটকে থাকা পানিতে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য বিভাগ। আর বুড়ির বাঁধ পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে এসব মাছের দেখভাল করা হয়। প্রতিবছর অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে বাঁধের পানি ছেড়ে দিয়ে মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
"চার-পাঁচ বছর ধরে এই বাঁধে মাছ ধরতে আসি। হইহুল্লোড় করে দিন কেটে যায়। কোনো বছরই আশানুরূপ মাছ পাই না। তবু আসি। এখানে এলে সবার সঙ্গে দেখা হয়, আনন্দ করা যায়।"
সদর উপজেলার পূর্ব বেগুনবাড়ি গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৩৫) বলেছেন, “চার বন্ধু মিলে গত শুক্রবার রাতে বাঁধে মাছ ধরতে আসি। পালা করে জাল ফেলতে ফেলতে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। বিশ্রামের ফাঁকে বললাম, ‘চার-পাঁচ বছর ধরে এই বাঁধে মাছ ধরতে আসি। হইহুল্লোড় করে দিন কেটে যায়। কোনো বছরই আশানুরূপ মাছ পাই না। তবু আসি। এখানে এলে সবার সঙ্গে দেখা হয়, আনন্দ করা যায়’।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকার তপন রায় (২৯) বলেছেন, “এইঠে খালি কী মাছ মারিবা আইচ্ছু?। আনন্দও-তো হচে।” তিনি জাল ফেলতে ফেলতে তিন ঘণ্টা কাটিয়ে দিয়েছেন। এ সময় তাঁর ভাগ্যে জুটেছে আধা কেজির মতো ছোট মাছ।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা গ্রামের জয়ন্ত বর্মন (৪৭) জাল ফেলতে ফেলতে হাঁপিয়ে উঠেছেন। হঠাৎ হাতের জালটি রেখে তিনি গান ধরলেন, ‘সারা দিন ধাপ ঠেলিয়ে/ হলাম কেবল বলসারা/ কই হল মোর মাছ ধরা’। তিনি বললেন, “মোর আর মাছ ধরা হবেনি। বাড়ি ফিরে যাবা হবে। ফেরার আগতে কিছু মাছ কিনে নিবা হবে। বউ আমার ভাত খাবার চাইছে পুঁটি দিয়ে/ কই হল মোর মাছ ধরা/ ফাটি যায় হিয়া।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বুড়ির বাঁধ, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা, ঠাকুরগাঁও
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পরিমল রায়, সুজন রায়, আনোয়ার হোসেন (৩৫), তপন রায় (২৯), জয়ন্ত বর্মন (৪৭), ইয়াসিন আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৫১-৫২ অর্থবছর, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছর, ১১ দশমিক ৩০ কিলোমিটার, ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!