📌 টাঙ্গাইল কালিহাতীর জমি বিরোধে শহীদুল ইসলাম মন্ডলকে হত্যার পর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ বেড়েছে। হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন পরও প্রধান আসামি ইউসুফ আলী গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষোভ মিছিলে দাবি জানানো হয়েছে দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির।
টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলায় জমি বিরোধে শহীদুল ইসলাম মন্ডলকে (৬২) হত্যার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল দুর্গাপুর ইউনিয়নের চরহামজানি গ্রামে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘটে। নিহত শহীদুল ইসলাম মন্ডল ছিলেন কাশেম আলী মন্ডলের ছেলে এবং জমির ওয়ারিশ নিয়ে তার আত্মীয় ইউসুফ আলীর সাথে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন পরও** প্রধান আসামি ইউসুফ আলী গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবার ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ বেড়েছে
- 📌 **নিহতের পরিবার** দাবি করে, হত্যাকাণ্ডের পর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি এবং আসামিরা হুমকি দিচ্ছে
- 📌 **পুলিশ তদন্তকারী এসআই হালিম** জানান, ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে অতীতে ৪-৫টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলাও আছে
- 📌 **বিক্ষোভ মিছিলে** স্থানীয়রা দাবি জানান, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেবেন
- 📌 **হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে** ইউসুফ আলীর অবস্থান শনাক্ত হলেও পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যায়
📰 বিস্তারিত
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল দুর্গাপুর ইউনিয়নের চরহামজানি গ্রামে শনিবার সন্ধ্যায় নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় শহীদুল ইসলামের ওপর হামলা হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা লাভের পর মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতের পরিবার জানায়, হত্যাকাণ্ডে তার ফুফাতো ভাই মৃত আমজাদ আলীর ছেলে ইউসুফ আলী ও তার সহযোগীরা জড়িত। তারা দাবি করেন, ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে নিজের বাবাকে গলা টিপে হত্যা ও দুই চাচাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগও রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইউসুফ আলীকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষুব্ধ নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ-প্রশাসনের কেউ নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কোনো খোঁজ নেননি। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুলিশ তদন্তকারী এসআই হালিম জানান, মামলার অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে আরও চার থেকে পাঁচটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একাধিক হত্যা মামলাও রয়েছে। তবে তিনি অস্বীকার করেন যে, পুলিশের পক্ষ থেকে কেউ আসামিদের সহযোগিতা করছে।
এসআই হালিম আরও জানান, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ ইতোমধ্যে ইউসুফ আলীর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। কীভাবে অভিযানের তথ্য ফাঁস হলো, সে বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার বিকেলে উপজেলার পটল বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। কর্মসূচিতে তারা দাবি জানান, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেবেন।
"হত্যাকাণ্ডের পরও বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা পুলিশকে জানানো হলেও এখনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। একজন স্বজনকে হারিয়ে শোকাহত অবস্থায় আমরা আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গাইল জেলা, কালিহাতী উপজেলা, দুর্গাপুর ইউনিয়ন, চরহামজানি গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শহীদুল ইসলাম মন্ডল (৬২), ইউসুফ আলী, এসআই হালিম, নিহতের পরিবার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬২ (নিহতের বয়স), ১৯ সেপ্টেম্বর (হত্যাকাণ্ডের তারিখ), ৪-৫ (ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!