📌 টাঙ্গাইল ভূঞাপুরের গাবসারা মৌজায় ১৯৯৬ সালের জরিপ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০ হাজার জমির মালিকের জীবন বিপদগ্রস্ত। খাজনা-খারিজ বন্ধ, জমি বেচা-কেনা ও ব্যাংক ঋণে বাধা পড়ছে। দফতর থেকে কোনো সমাধান না পেয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করছে
টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা মৌজায় ৩০ বছর ধরে জমি জটিলতার কারণে ২০ হাজার মালিকের জীবন বিপদগ্রস্ত। ১৯৯৬ সালের জরিপ বাস্তবায়ন না হওয়ায় খাজনা-খারিজ, জমি বেচা-কেনা ও ব্যাংক ঋণ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। দফতর থেকে কোনো কার্যকর সমাধান না পেয়ে এলাকাবাসীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টাঙ্গাইল ভূঞাপুরের গাবসারা মৌজায় ৩০ বছর ধরে ২০ হাজার জমির মালিকের জীবন বিপদগ্রস্ত
- 📌 ১৯৯৬ সালের জরিপ বাস্তবায়ন না হওয়ায় খাজনা-খারিজ, জমি বেচা-কেনা ও ব্যাংক ঋণ বন্ধ
- 📌 ১৯৯৩ সালে শুরু হওয়া জরিপের কাজ ১৯৯৬ সালে শেষ হলেও ৩৩০টি ধারা আপত্তি ও পরবর্তী জটিলতায় বাধা পড়ছে
- 📌 ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের পরিচালক মো: মোমিনুর রশিদ ৩ সেপ্টেম্বর জরিপ স্থগিত করে ডিজিটাল জরিপের নির্দেশ দিয়েছেন
- 📌 এলাকাবাসী প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি চালাচ্ছে ১৯৯৬ সালের জরিপ বহাল রাখার দাবিতে
📰 বিস্তারিত
টাঙ্গাইল ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের ১৬টি সিটে ১৯৯৬ সালে জরিপের কাজ শেষ হলেও ৩০ বছর ধরে জমি জটিলতা অব্যাহত রয়েছে। ১৯৯৩ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় জরিপের কাজ শুরু করে, কিন্তু পরবর্তীতে ৩৩০টি ধারা আপত্তি ও জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ পড়ে। ২০১১ সাল পর্যন্ত আপত্তিগুলো শুনানীর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলেও কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।
১৯৯৭ সালে প্রায় ১০ হাজার খতিয়ানের ওপর আপত্তি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৬টি সিটের নকশা ভেঙে ১৭টি সিট তৈরী করা হলেও জমির পরিমাণে সামান্য পরিবর্তন সত্ত্বেও কোনো সমাধান আসেনি। ৩ সেপ্টেম্বর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের পরিচালক মো: মোমিনুর রশিদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে জরিপের কার্যক্রম স্থগিত করে ডিজিটাল জরিপের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই জটিলতার কারণে এলাকার মানুষের জীবন বিপদগ্রস্ত হয়েছে। খাজনা-খারিজ বাধ্যতামূলক হওয়ায় জমি বেচা-কেনা, ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ পড়েছে। দরিদ্র পরিবার জমি বিক্রি করতে চাইলেও বাধা পাচ্ছে। এলাকাবাসীরা দফতর থেকে দফতরে ঘুরেও সমাধান পাচ্ছেন না। তারা প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন।
গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান শাহআলম শাপলা বলেছেন, ‘এ এলাকার মানুষ সত্যিই অবহেলিত। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’ বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ৩০ বছর ধরে বিপদে পড়ে আছে হাজারো মানুষ। দিন যাচ্ছে আরো জটিলতা বাড়ছে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাহবুব হাসান বলেছেন, ‘বিষয়টি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে আলোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’
"কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ৩০ বছর ধরে বিপদে পড়ে আছে হাজারো মানুষ। দিন যাচ্ছে আরো জটিলতা বাড়ছে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গাইল ভূঞাপুর উপজেলা, গাবসারা মৌজা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো: মোমিনুর রশিদ (ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের পরিচালক), শাহআলম শাপলা (গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান), আব্দুর রাজ্জাক (বাসিন্দা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ হাজার (জমির মালিক), ৩০ বছর (জটিলতা), ১৬টি সিট, ১০ হাজার খতিয়ান, ৩৩০টি ধারা আপত্তি, ১৭টি সিট, ৩ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!