📌 বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোলের ঠোটা এলাকায় শ্যালা ও পশুর নদীর মোহনায় বসবাসকারী পরিবারগুলো দারিদ্র্যের কবলে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। নদী-বনের জীবিকা নির্বাহে মাছ-কাঁকড়া ধরে জীবনযাপন করছেন তারা, যেখানে পাঁচ বছর বয়সী লাবিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছেন
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোলের ঠোটা এলাকায় শ্যালা ও পশুর নদীর মোহনায় বসবাসকারী পরিবারগুলো দারিদ্র্যের কবলে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। এই এলাকায় তিনদিকে নদী ও ওপারে সুন্দরবনের মাঝে বসবাসকারী পরিবারগুলো মাছ-কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। ২৪ অক্টোবর সকালে পৌনে সাতটায় নদীর তীরে পানি আনতে যাওয়ার সময় কুলসুম আক্তার (২৫) ও তার ছোট ছেলে জিসান খান (১৩ মাস) পানির কষ্টের কথা বলেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৪ অক্টোবর সকালে** শ্যালা নদীর তীরে পানি আনতে যাওয়ার সময় কুলসুম আক্তার (২৫) ও তার ছেলে জিসান খানের কথায় জানা যায়, ‘দুই-তিন মাস পর পানিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যাবে, তখন সব পানি টাইনে আনতে হবে’।
- 📌 **জয়মনির ঘোলের ঠোটা এলাকায়** ১০ কেলাসেরও বেশি ঘর নেই, যেখানে প্রায় সব পরিবারই নদী ও বনে মাছ-কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।
- 📌 **পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন** ছিল কুলসুমের, কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে দিতে বাধ্য হন।
- 📌 **আট বছর আগে বিয়ে হওয়া** কুলসুমের স্বামী রাজু খান নিয়মিত সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।
- 📌 **পাঁচ বছর বয়সী লাবিবা আক্তার** সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেবি শ্রেণিতে পড়ছেন, কিন্তু এলাকার অনেক পরিবারই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
শ্যালা নদীর তীরে অবস্থিত বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোলের ঠোটা এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো দারিদ্র্যের কবলে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। এই এলাকায় শ্যালা ও পশুর নদীর মোহনায় অবস্থিত সরু ভূখণ্ডে তিনদিকে নদী ও ওপারে সুন্দরবন। মাছ-কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করে এই এলাকার প্রায় সব পরিবারই।
২৪ অক্টোবর সকালে পৌনে সাতটায় নদীর তীরে পানি আনতে যাওয়ার সময় কুলসুম আক্তার (২৫) ও তার ছোট ছেলে জিসান খানের কথায় জানা যায়, ‘পানির কষ্ট তো সামনে। এখনও নদীর পানিতে লবণ তেমন বেশি নেই, কিন্তু দুই-তিন মাস পর তো কড়া লবণ হবেনে। তখন সব পানিই (গোসল ও রান্নার) টাইনে আনা লাগবেনি’। কুলসুমের বাবা মোহাজ্জেম খলিফা (৫৮) বলেন, ‘এখানে এক শর বেশি পরিবার আছে, কিন্তু কোনো পরিবারের পড়ালেখা নেই’।
এই এলাকার তিন কিশোর আবু বক্কর, মুছা সওদাগর ও শাহজাহান জানান, তারা একসময় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে অনেকেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন। আবু বক্কর স্থানীয় চাঁদপাই মেছেরশাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। অন্য দুজন তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। আবু বক্কর বলেন, ‘সিস্টেমটা হলো, এখানে পড়ালেখা না থাকলে ল্যাহাপড়া হয় না। সিজনে ছোড়া পোলাপানও ম্যালা টাকা ইনকাম করে। টাহার চোখ দেখলে আর ল্যাহাপড়া হয় না’।
কুলসুমের বিয়ে হয় আট বছর আগে রাজু খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখানে জোয়ার-ভাটা মানি সব চলে। ভাটায় যাবে, জোয়ারে আবার ফিরে আসবে। দেড় বছর হলো আমি বাদায় (সুন্দরবন) যাই না। এর আগে আমিও যাতাম। মাছ, কাঁকড়া, পোনা ধরতাম’। কুলসুমের মা তাসলিমা বেগমসহ প্রতিবেশী ছয়-সাতজন নারী এখনো নিয়মিত দল বেঁধে সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ও পোনা ধরতে যান।
কুলসুমের স্বপ্ন ছিল পুলিশ হওয়া। ছোটবেলায় তিনি খুলনা যাওয়ার সময় পুলিশের মতো পোশাক পরা মেয়েদের দেখে এই স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে দিতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, ‘মেয়েকে পড়াতে পারিনি। ও পড়তে চাইছিল, কিন্তু পয়সায় দুর্বল ছিলাম’।
পাঁচ বছর বয়সী লাবিবা আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেবি শ্রেণিতে পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক বড় জাহাজ দেখছি। আমার বাবা আগে জাহাজে লোক টানত’।
"আমি ডাক্তার হুউম। রান্না করতে হবি। সে (স্বামী) সকালে কয়েকটা সেদ্ধ আটা খেয়ে গেছে। জোয়ার আইছে, এইসে চারটা ভাত খাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোলের ঠোটা, শ্যালা ও পশুর নদীর মোহনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কুলসুম আক্তার (২৫), মোহাজ্জেম খলিফা (৫৮), লাবিবা আক্তার (৫), আবু বক্কর, মুছা সওদাগর, শাহজাহান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ অক্টোবর, ৭:৩০ টা, ২৫ বছর, ১৩ মাস, ২০০ মিটার, ১০ কেলাস, ৫৮ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!