📅 ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা হাসপাতালে জনবল সংকটে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে, প্রসূতি মা-শিশুকে বাধ্য করছে নেত্রকোনা যাত্রা

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা হাসপাতালে জনবল সংকটে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে, প্রসূতি মা-শিশুকে বাধ্য করছে নেত্রকোনা যাত্রা

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম সেবা বন্ধ, অপারেশন থিয়েটার অব্যবহৃত। প্রসূতি মা-শিশুদের নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জে অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য করছে সংকট

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে কোটি টাকার মূল্যের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এক্স-রে সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র বিকল হয়ে পড়েছে। অপারেশন থিয়েটার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকটে হাওরবেষ্টিত ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা পেতে কষ্ট ভোগ করছেন।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 **চিকিৎসক সংকটে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি**: ধর্মপাশা হাসপাতালে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম সেবা বন্ধ এবং অপারেশন থিয়েটার অব্যবহৃত পড়ে আছে।
  • 📌 **৩৬টি চিকিৎসক পদে কর্মরত মাত্র ১১ জন**: জুনিয়র কনসালট্যান্ট থেকে সহকারী সার্জন পর্যন্ত ২৫টি পদ শূন্য।
  • 📌 **প্রসূতি মা-শিশুদের বাধ্য করছে নেত্রকোনা যাত্রা**: প্রতি মাসে ৫০-৬০ জন প্রসূতি মা সিজার অস্ত্রোপচারের জন্য নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ যেতে বাধ্য হন।
  • 📌 **রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বারান্দায়**: ৫০টি শয্যা থাকলেও ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
  • 📌 **সরকারি কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বারবার চিঠি পাঠাচ্ছেন**: জনবল সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতি মাসে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে।

📰 বিস্তারিত

ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০ জন রোগী চিকিৎসা নেন এবং গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। তবে চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবা প্রদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শুভেন্দু শেখর দাশ জানান, "প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৪০০-৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। জরুরি বিভাগে ৯০-১০০ জন রোগী চিকিৎসা নেন এবং ভর্তি থাকেন গড়ে ৫৫-৬০ জন।"

১৯৭৮ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে শুরু হওয়া এই হাসপাতাল ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু জনবল বাড়েনি। দুটি ভবনে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একটি ভবনে বহির্বিভাগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও জরায়ুমুখের ক্যানসার পরীক্ষাকেন্দ্র এবং প্রসূতিদের সেবাকেন্দ্র রয়েছে। অন্য ভবনে অপারেশন থিয়েটার ও আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষ রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটারটি কোনো কাজে আসছে না।

চিকিৎসকের ৩৬টি পদে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। শূন্য রয়েছে ২৫টি পদ, যার মধ্যে রয়েছে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, অ্যানেস্থেসিয়া), ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার, সহকারী সার্জন, মেডিক্যাল অফিসার (অপথালমোলজি) ইত্যাদি। এছাড়া নার্স, মিডওয়াইফ, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, অফিস সহকারী, ওয়ার্ডবয়, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

প্রসূতি মা-শিশুদের জন্য বিশেষ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে ৫০-৬০ জন প্রসূতি মা সিজার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জে গিয়ে অস্ত্রোপচার করতে হয়। এতে প্রত্যেকের খরচ হয় ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

"এক সপ্তাহ আগে আমার বোনের মেয়েরে নিয়া সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালও আইনা ভর্তি করছিলাম। ডাক্তার পরীক্ষা–নিরীক্ষা কইরা কইছে, সিজার লাগব। পরে হেরে নিয়ে আমরা নেত্রকোনা গিয়ে সিজার করাইছি। বেকতায় মিইল্যা ৩০ হাজার টেহা খরচ অইছে।"

সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন ভবনের বহির্বিভাগে রোগীদের ভিড়। এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষে তালা ঝুলছে। অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে আছে। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৪১ জন রোগী। তাদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নয়জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত চারজন। ডায়রিয়া রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় বারান্দায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৫০টি শয্যা থাকলেও অনেককে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুবীর সরকার জানান, "এক্স-রে যন্ত্র থাকলেও জনবল না থাকায় সেবা বন্ধ। আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটি প্রায় এক মাস ধরে বিকল। এটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইসিজি করারও প্রয়োজনীয় জনবল নেই।" সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেছেন, জনবল সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে প্রতি মাসেই লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে।

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুনামগঞ্জ
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরএমও শুভেন্দু শেখর দাশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুবীর সরকার, সিভিল সার্জন জালাল উদ্দিন মুর্শেদ
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬টি চিকিৎসক পদ (কর্মরত ১১ জন), ২৫টি শূন্য পদ, ৪০০-৪৫০ জন দৈনিক বহির্বিভাগে রোগী, ৫০-৬০ জন দৈনিক ভর্তি, ৫০-৬০ জন মাসিক প্রসূতি মা, ২৫-৩৫ হাজার টাকা সিজার খরচ

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖