📌 সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের সুচিত্রা রানী দাসের দারিদ্র্যের কারণে তিনবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ধুমধামে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে সহায়তা করে দেশ-বিদেশের মানুষ।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানী দাসের জীবনে দারিদ্র্যের কষ্টের গল্প। দারিদ্র্যের কারণে তিনবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর মানবিক সহায়তায় অবশেষে ধুমধামে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এই বিয়েতে সহায়তা করে দেশ-বিদেশের মানুষ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের সুচিত্রা রানী দাসের তিনবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর মামুন বিশ্বাসের প্রচেষ্টায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়
- 📌 বিয়েতে সহায়তা করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ, মামুন বিশ্বাসের ফেসবুক পেজে অর্থ পাঠান
- 📌 বিয়েতে ২৩ হাজার টাকা সুচিত্রার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়, বাকি অর্থ বিয়ের আয়োজন শেষ করার জন্য ব্যবহার করা হয়
- 📌 বিয়েতে সুচিত্রা রানী দাসের বিয়ে হয় পলাশ কুমার ভৌমিকের সাথে, যিনি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানী দাসের পরিবার দারিদ্র্যের কষ্টে ভুগছে। সুচিত্রার বাবা সেলুনে কাজ করেন, মা আগে চালকলে কাজ করতেন কিন্তু অসুস্থতার কারণে আর কাজ করতে পারেন না। চার সদস্যের পরিবারে দুবেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন। এই দারিদ্র্যের কারণে সুচিত্রার বিয়ে তিনবার ভেঙে যায়।
মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মামুন বিশ্বাস সুচিত্রার গল্পটি ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেই পোস্ট দেখে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ মামুন বিশ্বাসের অ্যাকাউন্টে অর্থ সহায়তা পাঠাতে থাকেন। এই সহায়তায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সেই অর্থের সহায়তায় সুচিত্রার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
সুচিত্রার মা কামনা রানী দাস বলেন, ‘আমি একসময় চালকলে কাজ করতাম। অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করতে পারি না। সুচিত্রার বাবা সেলুনে কাজ করেন, তারও আগের মতো কাজ নেই। তিনি যে টাকা আয় করেন, তা দিয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে আমাদের খুব কষ্টে চলতে হয়। ঘরবাড়ির অবস্থাও ভালো নয়। টাকার অভাবে সুচিত্রার তিনবার বিয়ে ভেঙে যায়। মামুন বিশ্বাস ভাই আমাদের পাশে না দাঁড়ালে এবারও বিয়ে ভেঙে যেত।’
সুচিত্রা রানী দাস বলেন, ‘এর আগে তিনবার তার বিয়ে ঠিক হলেও টাকার অভাবে বিয়ে হয়নি। এবারও বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে আমি ও আমার মা-বাবা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু মামুন বিশ্বাস মামা এসে আমাদের পাশে দাঁড়ান। কোনো দিন ভাবিনি আমার মতো অসহায় মেয়ের এত বড় আয়োজন করে বিয়ে হবে। তার প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’
"সুচিত্রার বিষয়টি জানতে পেরে ফেসবুকে পোস্ট দিই। দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষের সহযোগিতায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়। সেই অর্থে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার পর ২৩ হাজার টাকা সুচিত্রার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই কৃতিত্ব আমার নয়; দেশ-বিদেশ থেকে যারা সহযোগিতা করেছেন, কৃতিত্ব তাদের। আমি শুধু চেষ্টা করে যাচ্ছি।"
মামুন বিশ্বাস আরও জানান, সুচিত্রার বিয়ের মতো ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক অসহায় মেয়ের বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাদের সবাই সুখে-শান্তিতে সংসার করছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রাম, উল্লাপাড়া উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুচিত্রা রানী দাস, মামুন বিশ্বাস, পলাশ কুমার ভৌমিক, কামনা রানী দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা (সহায়তা), ২৩ হাজার টাকা (মায়ের হাতে তুলে দেওয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!