📌 বাবুগঞ্জের এক নারী সৌদি আরবে দশ বছর কাজ করে চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করলেও শেষ বয়সে একা মরলেন। পুলিশ ভাড়া বাসায় পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মৃত্যুর কারণ এখনো অজানা
বাবুগঞ্জ উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় পচনধরা অবস্থায় মায়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সৌদি আরবে দশ বছর কাজ করে চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করলেও শেষ বয়সে একা মরলেন ৬৫ বছর বয়সী তাহমিনা বেগম। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৫ বছর বয়সী তাহমিনা বেগম বাবুগঞ্জের ভাড়া বাসায় একা মরলেন, পুলিশ পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে
- 📌 স্বামীর মৃত্যুর পর সৌদি আরবে ১০ বছর কাজ করে চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করলেন তিনি, বড় ছেলে ঢাকার উত্তরায় কারখানা পরিচালনা করছেন
- 📌 ৩ মাস ধরে একা বাসায় থাকার পর শনিবার বিকাল থেকে বাসার আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়ায়, রবিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করা হয়
- 📌 সন্তানদের কেউ মায়ের দেখতে আসেননি বলে স্থানীয়রা দাবি করলেন, তবে সন্তানদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি
- 📌 ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুন হাট এলাকায় অবস্থিত একটি ভাড়া বাসায় গত রবিবার দুপুরে পুলিশ তাহমিনা বেগমের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক থেকে দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
তাহমিনা বেগমের স্বামী মৃত্যুর পর তিনি সৌদি আরবে প্রায় ১০ বছর কাজ করেন। উপার্জিত অর্থ দিয়ে চার সন্তানকে লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। বড় ছেলে সুমন ঢাকার উত্তরায় ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা পরিচালনা করছেন। ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কর্মরত। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তার বিয়ে হয়েছে।
তাহমিনা বেগম বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি নতুন হাট এলাকার ওই ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করছিলেন। বাসার মালিক আব্দুর বারেক জানান, তাহমিনাকে তার বড় ভাই প্রায় তিন মাস আগে বাসাটি ভাড়া নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগতেন, যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ। মাঝেমধ্যে বাজারের দোকানগুলোতে ঘোরাফেরা করতেন।
শনিবার বিকাল থেকে বাসার আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়ালেও প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বাসার মালিক। রবিবার সকালে দুর্গন্ধের উত্স খুঁজতে গিয়ে কক্ষ থেকে গন্ধ আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তাহমিনার বড় ভাইকে খবর দেওয়া হলে তিনি বাসায় এসে কক্ষের ভেতরে বোনের মরদেহ দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, গত তিন মাসে সন্তানদের কেউ তাকে দেখতে আসেননি। তবে এ বিষয়ে সন্তানদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মরদেহ উদ্ধারের সময় পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দিয়েছিলেন।
"মরদেহ উদ্ধারের সময় পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দিয়েছিলেন"
বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাবুগঞ্জ উপজেলা, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাহমিনা বেগম (৬৫), সুমন, আওলাদ, হিরা, মুক্তা, আব্দুর বারেক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ বছর বয়স, ১০ বছর সৌদি আরবে কাজ, ৩ মাস একা বাসায় থাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!