📌 সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় জামায়াত নেতা হেকমত আলী সরকারের পরিবার সরকারি জমি দখল করে চাষাবাদ করছিলেন। ডেইলি বাংলাদেশের সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও মাঠটিকে খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছেন
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় সরকারি খাসজমি দখল করে চাষাবাদ করা হলে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা দাবি জানালে মাঠটি উদ্ধার করে খেলাধুলার জন্য আবার উন্মুক্ত করা হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেলে তিনি নওকৈড় পূর্বপাড়া গ্রামের মাঠটি পরিদর্শন করে সরকারি দখলে নিয়ে চাষাবাদ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও মাঠটিকে শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় জামায়াত নেতা হেকমত আলী সরকারের পরিবার সরকারি জমি দখল করে চাষাবাদ করছিলেন, যা স্থানীয়দের খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হতো
- 📌 স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল
- 📌 ইউএনও মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম মাঠটি পরিদর্শন করে সরকারি দখলে নিয়ে চাষাবাদ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেন
- 📌 স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত এবং ২০১৯ সালে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনায় মাটি ভরাট হয়েছিল
- 📌 হেকমত আলী সরকার দাবি করেছেন, জমিটি তাদের নিজস্ব এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের জমি দখল করা হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত একটি সরকারি খাসজমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও শুক্রবার সকালে ট্রাক্টর দিয়ে মাঠটি চাষ করা হয়। এর ফলে মাঠটি চাষাবাদের জমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয়রা জানান, মাঠটি চাষ করে দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতা হেকমত আলী সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে।
ডেইলি বাংলাদেশের সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইউএনও মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম শনিবার বিকেলে মাঠটি পরিদর্শন করে সরকারি দখলে নিয়ে চাষাবাদ বন্ধের নির্দেশ দেন। তিনি মাঠটিকে খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। ২০১৯ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনায় মাটি ভরাট করেছিলেন। তবে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়নি। এরপর থেকে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা মাঠটিতে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতেন।
হেকমত আলী সরকার দাবি করেছেন, জমিটি তাদের নিজস্ব এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের জমি দখল করে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। তিনি বলেন, খাজনা-খারিজ নেই, তবে এ নিয়ে মামলা চলছে। অন্যদিকে, সলপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জমিটি সরকারি সম্পত্তি বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট করেছিলেন। এরপর জমিটি অব্যবহৃত ছিল। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণেরা সেখানে খেলাধুলা করেন বলে তিনি জানেন।
"মাঠটি পরিদর্শন করে সরকারি দখলে নেয়া হয়েছে। চাষাবাদ সম্পূর্ণ বন্ধ এবং শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।"
— ইউএনও মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নওকৈড় পূর্বপাড়া গ্রাম, সলপ ইউনিয়ন, উল্লাপাড়া উপজেলা, সিরাজগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হেকমত আলী সরকার (জামায়াত নেতা), ইউএনও মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম, আবুল হোসেন (ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য), আবদুল মান্নান (প্রশাসনিক কর্মকর্তা), শওকত ওসমান (সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ নম্বর ওয়ার্ড, ২০১৯ (গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!