📌 সিরাজগঞ্জে অনুমোদিত অটোরিকশার সংখ্যা পাঁচ হাজার হলেও বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। এতে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দিনে দু’বার যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যা কর্মজীবীদের, শিক্ষার্থীদের ও রোগীদের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন
সিরাজগঞ্জ শহর ও আশপাশের সড়কে দিন দিন বেড়েই চলেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীদের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। সিরাজগঞ্জ পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরে অনুমোদিত অটোরিকশার সংখ্যা মাত্র পাঁচ হাজার। কিন্তু বর্তমানে শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলাচল করছে ১০ হাজারেরও বেশি অটোরিকশা ও ইজিবাইক। অনুমোদিত সংখ্যার দ্বিগুণ যানবাহন সড়কে চলাচল করায় স্বাভাবিক যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জে অনুমোদিত অটোরিকশার সংখ্যা পাঁচ হাজার, কিন্তু বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে
- 📌 অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়ে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে
- 📌 অটোরিকশা চালকরা উল্টোপথে চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে
- 📌 শহরের যানজটের প্রভাব পড়ছে যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর ও মহাসড়কেও
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নগরবাসীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে
📰 বিস্তারিত
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের প্রধান সড়কগুলোতে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শুরুর ও ছুটির সময়ে যানবাহনের চাপ বেড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। অটোরিকশাগুলো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় পেছনে থাকা যানবাহনগুলো আটকে পড়ে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চালকদের উল্টোপথে চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং এবং যাত্রী ওঠানামা করানোর ঘটনাও দেখা যায়। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
পথচারীদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় চালকরা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম মানছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা শামসুন্নাহার বলেছেন, ‘যানজটের কারণে প্রতিদিনই আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস ও স্কুলের সময় রাস্তায় চলাচল করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।’ আরেকজন বাসিন্দা আজাহার আলী বলেছেন, ‘অনেক অটোরিকশার কোনো অনুমোদন নেই। তারা যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট সৃষ্টি হয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শুধু পৌরসভার অনুমোদিত অটোরিকশা দিয়ে শহরের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বাইরের এলাকা থেকে অটোরিকশা ও মিশুক শহরে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘পৌরসভা থেকে পাঁচ হাজার অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন এলাকা থেকে অটোরিকশা ও মিশুক শহরে প্রবেশ করায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অননুমোদিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
"নগরবাসীদের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়, নিয়মিত অভিযান, অনুমোদনহীন অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। তা না হলে দিন দিন বাড়তে থাকা অটোরিকশার চাপে সিরাজগঞ্জ শহরের যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ শহর ও যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর, মুলিবাড়ি, কড্ডার মোড়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শামসুন্নাহার, আজাহার আলী, রফিকুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার (অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইক), ৫ হাজার (অনুমোদিত অটোরিকশা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!