📌 সিরাজগঞ্জের তারাশ ও রায়গঞ্জে শীতের আগমনে খেজুরগাছের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গাছিরা ডালপালা ছাঁটাই ও রস সংগ্রহের ব্যবস্থা করছেন, কিন্তু গাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই পেশায় নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাচ্ছে
সিরাজগঞ্জের তারাশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় শীতের আগমনে খেজুরগাছের রস সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়েছে। গাছিরা শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে গাছ পরিষ্কার ও রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রস সংগ্রহের মৌসুমে গাছের নির্দিষ্ট অংশ কাটা, হাঁড়ি ঝুলিয়ে রস সংগ্রহ করা হয়, যা পরে সুস্বাদু গুড় ও পাটালি তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের তারাশ ও রায়গঞ্জে শীতের আগমনে খেজুরগাছের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
- 📌 গাছিরা ডালপালা ছাঁটাই ও রস সংগ্রহের জন্য গাছে হাঁড়ি ঝুলিয়ে রস সংগ্রহের ব্যবস্থা করছেন।
- 📌 খেজুরের রস থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু গুড় ও পাটালি, যা পিঠা-পায়েসসহ নানা খাবারে ব্যবহৃত হয়।
- 📌 স্থানীয়দের আক্ষেপ, আগের তুলনায় খেজুরগাছ ও গাছির সংখ্যা কমে গেছে।
- 📌 বসতি সম্প্রসারণ ও পুরোনো গাছ নষ্ট হওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
- 📌 রাজশাহী থেকে আগত শ্রমিকরা মৌসুম শুরুতে গাছের মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে কাজ শুরু করেন।
- 📌 খেজুরগাছের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ।
- 📌 রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেছেন, খেজুরগাছের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে বেশি করে গাছ রোপণ ও সংরক্ষণ প্রয়োজন।
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জের তারাশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় শীতের আগমনে খেজুরগাছের রস সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়েছে। গাছিরা শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে গাছ পরিষ্কার ও রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রস সংগ্রহের মৌসুমে গাছের নির্দিষ্ট অংশ কাটা, হাঁড়ি ঝুলিয়ে রস সংগ্রহ করা হয়, যা পরে সুস্বাদু গুড় ও পাটালি তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। পিঠা-পায়েসসহ নানা মুখরোচক খাবারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় পুরো মৌসুমজুড়েই খেজুর গুড়ের কদর থাকে। ফলে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি অনেক গাছির মৌসুমি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।
তবে স্থানীয়দের আক্ষেপ, আগের তুলনায় রায়গঞ্জ ও তারাশে খেজুরগাছ ও গাছির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। বসতি সম্প্রসারণ, জমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং পুরোনো গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, এ কাজটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই এ পেশায় আসতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না।
রাজশাহী থেকে আগত রস সংগ্রহের শ্রমিক হান্নান জানান, আগের মতোই রায়গঞ্জ ও তারাশে তারা রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির জন্য আসেন। তারা মৌসুম শুরুর আগেই গাছের মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে গাছ প্রস্তুত, রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ শুরু করেন। শীতের কয়েক মাস এই এলাকায় থেকে এসব কাজ করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন।
ওপর এক গাছি সোবাহান বলেন, প্রতিদিন ভোরে ও বিকেলে গাছে উঠে নির্দিষ্ট অংশ কাটা, হাঁড়ি নামানো এবং রস সংগ্রহ করা বেশ কষ্টসাধ্য। পরে সেই রস দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় গুড়। পুরো প্রক্রিয়ায় শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি রয়েছে নানা ঝুঁকিও। তবুও শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে তাদের নিয়মিত এ কাজ চালিয়ে যেতে হয়।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, খেজুরগাছ আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য ঐতিহ্যের পাশাপাশি রস ও গুড় উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে বেশি করে খেজুরগাছ রোপণ ও বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে গ্রামীণ কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
"আমরা মৌসুম শুরুর আগেই গাছের মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে গাছ প্রস্তুত, রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ শুরু করি। শীতের কয়েক মাস এই এলাকায় থেকে এসব কাজ করেই আমরা জীবিকা নির্বাহ করি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের তারাশ ও রায়গঞ্জ উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মমিনুল ইসলাম (রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা), হান্নান (রাজশাহী থেকে আগত শ্রমিক), সোবাহান (গাছি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: খেজুরগাছ ও গাছির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!