📌 সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ ইউনিয়নে বটগাছ বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছের ১৬ বছরের বিয়ের জীবন চলছে। স্থানীয় দম্পতি রাজেন্দ্রনাথ-করিবালা তাদের স্বপ্নের বিয়ের আচার পালন করছেন। প্রতিবছর পূজা-অর্চনা, উপহার ও মানত পূরণের অনুষ্ঠান চলতে থাকে
সিরাজগঞ্জ জেলার সায়দাবাদ ইউনিয়নের খিদির বটতলায় একটি অস্বাভাবিক বিয়ের জীবন ১৬ বছর ধরে চলছে। বটগাছ বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছের এই স্বামী-স্ত্রী জীবন গ্রামবাসীদের বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় দম্পতি রাজেন্দ্রনাথ সরকার ও তার স্ত্রী করিবালা সরকারের পরিবারে এই ব্যতিক্রমী বিয়ের গল্প শুরু হয় ২০১০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ ইউনিয়নে বটগাছ বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছের ১৬ বছরের বিয়ের জীবন চলছে
- 📌 প্রতিবছর বটেশ্বরীর জন্য নতুন শাড়ি ও পাকুড়গাছের জন্য ধুতি দেওয়া হয়
- 📌 সপ্তাহে তিন দিন পূজা-অর্চনা, দেওয়া হয় দুধ-কলা ও ভোগ
- 📌 ২০১০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছের বিয়ের বন্ধন গড়ে ওঠে
- 📌 মুক্তি সরকারের স্বামী দিরেশ চন্দ্র মণ্ডল জানান, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গ্রামবাসীদের সহযোগিতায়
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ ইউনিয়নের খিদির বটতলায় বটগাছ বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছের এই অস্বাভাবিক বিয়ের জীবন শুরু হয় ১৬ বছর আগে। রাজেন্দ্রনাথ সরকার ও তার স্ত্রী করিবালা সরকারের পরিবারে ছয় মেয়ে থাকলেও তাদের ষষ্ঠ মেয়ে কোনো মানুষ নয়, বরং বটগাছ বটেশ্বরী। বটেশ্বরীর জামাই হলেন পাকুড়গাছ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই দুটি গাছ আজও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে জীবন যাপন করছে। প্রতিবছর বটেশ্বরীর জন্য নতুন শাড়ি ও পাকুড়গাছের জন্য ধুতি দেওয়া হয়। সপ্তাহে তিন দিন পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেওয়া হয় দুধ-কলা ও নানা রকম ভোগ।
এই ব্যতিক্রমী বিয়ের পেছনে রয়েছে একটি স্বপ্ন ও পরিবারের দুশ্চিন্তা। রাজেন্দ্রনাথ সরকারের মেয়ে মুক্তি সরকারের বিয়ের আগে এক রাতে তিনি স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্নে বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছ এসে বলেন, মুক্তির বিয়ের আগেই তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। কিন্তু স্বপ্নের বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে মুক্তির বিয়ে দিতে গিয়ে রাজেন্দ্রনাথ স্বপ্নের কথা ভুলে যান। পরে তিনি পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীদের কাছে স্বপ্নের কথা জানান। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুক্তি সরকারের স্বামী দিরেশ চন্দ্র মণ্ডল জানান, মুক্তির সঙ্গে তার বিয়ের পরে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় বটগাছ ও পাকুড়গাছের বিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমার শ্বশুর ও গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আচার পালন করা হয়েছে। তাদের বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানগুলি এখনও চলতে থাকে।”
"স্বপ্নে বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছ এসে আমাকে বলে, মুক্তির বিয়ের আগেই তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। কিন্তু সেই স্বপ্নকে গুরুত্ব না দিয়ে আমি প্রথমে মেয়ের বিয়ে দেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সায়দাবাদ ইউনিয়ন, খিদির বটতলা, সিরাজগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজেন্দ্রনাথ সরকার, করিবালা সরকার, দিরেশ চন্দ্র মণ্ডল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ বছর, ১০ ফেব্রুয়ারি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!