📌 সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় বসবাসকারী আদিবাসী নারীরা শরতের বিন্নার ফুল দিয়ে ঝাড়ু তৈরি করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করে তারা সংসার চালাচ্ছেন
সিরাজগঞ্জের আদিবাসী নারীরা জীবিকার সন্ধানে শরতের বিন্নার ফুল দিয়ে ঝাড়ু তৈরি করছেন। চলনবিল এলাকার রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় বসবাসকারী এই নারীরা শুভ্র বিন্নার ফুল দিয়ে সুন্দর ঝাড়ু তৈরি করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করে দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় বসবাসকারী আদিবাসী নারীরা বিন্নার ফুল দিয়ে ঝাড়ু তৈরি করে বিক্রি করছেন
- 📌 দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করে তারা সংসার চালাচ্ছেন
- 📌 শরতের এই নির্দিষ্ট সময়ে মাঠে কৃষিকাজের সুযোগ না থাকায় ঝাড়ু বিক্রি তাদের একমাত্র জীবিকার পথ
- 📌 জেলার প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী কৃষিশ্রম বিক্রি করেই সংসার টিকিয়ে রেখেছেন
- 📌 আদিবাসী নারীরা আগাম শ্রম বিক্রি করে দিনে মাত্র ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করছেন
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বাসাইল ও পশ্চিম আটঘোরিয়া এলাকায় বসবাসকারী আদিবাসী নারীরা বিন্নার ফুল দিয়ে ঝাড়ু তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এই ঝাড়ুগুলো স্থানীয় হাট-বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা করে বিক্রি হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা আদিবাসী বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি নির্মল মাহাতো জানান, জেলায় বসবাসকারী আদিবাসীদের সিংহভাগই অত্যন্ত দরিদ্র। বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে কাজ না থাকায় শ্রমজীবী পরিবারগুলো সংসার চালাতে গিয়ে চরম হিমশিম খায়।
তাড়াশ উপজেলার আদিবাসী নারী মিনতি রানী ওঁরাও বলেন, “আশ্বিন ও কার্তিক মাসে আমাদের হাতে কোনো কাজ থাকে না। তাই অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে মাঠে বোরো ধান লাগানো কিংবা ধান কাটার কাজের জন্য এখন থেকেই অনেকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি। পরিবার বাঁচানোর তাগিদে দিনে মাত্র ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় আগাম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। তবে গৃহস্থালি কাজের ফাঁকে বিন্না ঘাসের ফুল দিয়ে ঝাড়ু বানিয়ে বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করতে পারি। এতে করে এই চরম মন্দার দিনেও সংসারে বাড়তি কিছুটা আয় যুক্ত হয়।”
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার আদিবাসী নারীদের মধ্যে জেসনা রানী মাহাতো, কুসুম রানী মাহাতো, চন্দনা রানী ওঁরাও, রাজবংশী, রবিদাস, কনকদাস, মুরারী, বসাইক ও সাঁওতালসহ নানা সম্প্রদায়ের নারী এই ঝাড়ু তৈরিতে জড়িত। কালের পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহী জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বিন্নার ফুল দিয়ে ঝাড়ু তৈরিতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
"আশ্বিন ও কার্তিক মাসে আমাদের হাতে কোনো কাজ থাকে না। তাই অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে মাঠে বোরো ধান লাগানো কিংবা ধান কাটার কাজের জন্য এখন থেকেই অনেকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি। পরিবার বাঁচানোর তাগিদে দিনে মাত্র ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় আগাম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিনতি রানী ওঁরাও, জেসনা রানী মাহাতো, কুসুম রানী মাহাতো, চন্দনা রানী ওঁরাও, নির্মল মাহাতো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫-৮০%, ৩৫০-৪০০ টাকা, ১০০-১২০ টাকা, ২০০-২৫০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!