📌 শেরপুরের বয়ড়া পালপাড়ার তরুণী যূথীমনি পাল বাবার শেখা প্রতিমা তৈরির কাজ দিয়ে পরিবারের জীবিকানির্বাহ করছেন। বাবা দিলীপ কুমার পালের মৃত্যুর পর তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন এবং এখন জেলা ও উপজেলায় চাহিদা পাচ্ছেন
শেরপুর জেলার বয়ড়া পালপাড়ার তরুণী যূথীমনি পাল শৈশব থেকেই মাটির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন। বাবার নিপুণ হাতে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখে ধীরে ধীরে তিনি নিজেও এই শিল্পে দক্ষতা অর্জন করেছেন। বাবা দিলীপ কুমার পালের মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হয়ে উঠে যূথীমনি। এখন তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজ দিয়ে পরিবারের জীবিকানির্বাহ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শেরপুরের যূথীমনি পাল বাবার শেখা প্রতিমা তৈরির কাজ দিয়ে পরিবারের জীবিকানির্বাহ করছেন
- 📌 ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর বাবা দিলীপ কুমার পালের মৃত্যুর পর তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন
- 📌 এবারের দুর্গাপূজায় ১৮টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করেছেন, প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ২০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা পেয়েছেন
- 📌 প্রতিমা তৈরির কাজের পাশাপাশি তিনি শেরপুর মডেল গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন
- 📌 মা রেখা রানি পাল ও ছোট বোন প্রিয়াঙ্কা রানি পালের পড়াশোনা ও খরচের দায়িত্বও তিনি নিচ্ছেন
📰 বিস্তারিত
শৈশব থেকেই মাটির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন শেরপুরের বয়ড়া পালপাড়ার তরুণী যূথীমনি পাল। বাবা দিলীপ কুমার পালের নিপুণ হাতে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখে তিনি ধীরে ধীরে এই শিল্পে দক্ষতা অর্জন করেছেন। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হয়ে উঠে যূথীমনি। বাবার শেখা প্রতিমা তৈরির কাজ দিয়ে তিনি পরিবারের জীবিকানির্বাহ করছেন।
২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর বাবা দিলীপ কুমার পালের মৃত্যুর পর পরিবারের অবস্থা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে সিরাজগঞ্জে, ফলে মা ও ছোট বোনের দায়িত্ব এসে পড়ে যূথীমনির কাঁধে। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রতিমা তৈরির কাজটি এত সহজ নয়; এর জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, ধৈর্য, পরিশ্রম ও শিল্পবোধ। প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন।
এ বছর শেরপুর মডেল গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন যূথীমনি। ফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা তিনি বলেছেন, ভালো ফল করে চারুকলা অনুষদে পড়বেন। তবে নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি মা ও ছোট বোনের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। তাঁর মা রেখা রানি পাল গৃহিণী এবং ছোট বোন প্রিয়াঙ্কা রানি পাল স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়েন।
শারদীয় দুর্গাপূজা শুরুর আগে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। যূথীমনি সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। নিপুণ হাতে মাটির প্রতিমায় ফুটিয়ে তুলেছেন দেবীর অবয়ব। এবারের দুর্গাপূজায় ১৮টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন তিনি। প্রতিটি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির জন্য আকারভেদে ২০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পেয়েছেন। কাজ সময়মতো শেষ করতে মায়ের পাশাপাশি তিনজন সহযোগীও নিয়েছেন।
"বাবার কাছ থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখেছি। বাবা প্রতিমার কাপড় পরাতে দিতেন। সেই থেকে এ কাজে আগ্রহ তৈরি হয়। হঠাৎ বাবার মৃত্যুর পর সাহস করে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করি। লেখাপড়ার পাশাপাশি বছরে দুই সময়ে প্রতিমা তৈরি করি। এ আয়েই এখন আমাদের সংসার চলে।"
বাবা যখন কাজ করতেন, তখন যূথীমনি মন দিয়ে বসে বসে দেখতেন। বাবার শেখানো সেই কাজ যে একদিন তাঁর করবে, তা ভাবেননি মা রেখা রানি পাল। এখন যূথীমনি লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজ করে। তিনি বলেন, “এবারের পূজায় তিন মাস ধরে রাত–দিন কাজ করতে হয়েছে। এই বয়সে এত কাজের চাপ সহ্য করে কাজ করে। তার আয়েই আমাদের সংসার চলে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুর জেলা, বয়ড়া পালপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: যূথীমনি পাল, রেখা রানি পাল, প্রিয়াঙ্কা রানি পাল, দিলীপ কুমার পাল, ধীরেন চন্দ্র পাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮টি মণ্ডপের প্রতিমা, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ২০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!