📌 শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে কাঠ ব্যবসায়ের কথা বলে মিজানুর রহমান মিজানসহ পাঁচ-ছয়জন তাকে আটকে মারধর, মোবাইল, মোটরসাইকেল ও ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী জান্নাতুল নাঈম আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং পিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে কাঠ ব্যবসায়ের কথা বলে মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নুরুল হকের ছেলে জান্নাতুল নাঈমকে আটকে রেখে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগমূলক ঘটনায় তার মোবাইল ফোন, আইফোন, স্মার্টওয়াচ, মোটরসাইকেল এবং ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জান্নাতুল নাঈমের দাবি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগগুলো তুলে ধরেছেন এবং আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিজানুর রহমান মিজানসহ পাঁচ-ছয়জন জান্নাতুল নাঈমকে কাঠ ব্যবসায়ের কথা বলে আটকে রেখে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন এবং তার মোবাইল, মোটরসাইকেল ও ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন।
- 📌 গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তাকে কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি সাত্তারের বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
- 📌 মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড বাধ্য করে নেওয়া হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়।
- 📌 ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া জাপানপ্রবাসী ‘Angel Moon’ নামের ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারী লিমা সাহার কাছ থেকে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
- 📌 আদালতে মামলা দায়ের করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মিজানুর রহমান মিজানও নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পাড়া পাচাশী গ্রামের নুরুল হকের ছেলে জান্নাতুল নাঈমের বিরুদ্ধে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে কাঠ ব্যবসায়ের কথা বলে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে কাঠ বিক্রির কথা বলে তাকে নালিতাবাড়ী পৌরশহরের আড়াইআনি বাজারের কালেমা চত্বরে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে একটি কফি হাউসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি সাত্তারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মিজানসহ চার-পাঁচজন তাকে আটকে রেখে মারধর করেন। তার মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়া হয় এবং কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জান্নাতুল নাঈমের দাবি, নির্যাতনের সময় তার মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড বাধ্য করে নেওয়া হয় এবং ফোনে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। তার মানিব্যাগে থাকা এটিএম ডেবিট কার্ড, মায়ের ছবি, মোটরসাইকেলের স্মার্টকার্ড ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং ব্যাগে থাকা আরও দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। তার দাবি, তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীর কথায়, তাকে আট থেকে নয়টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে তাকে অন্য একটি মোটরসাইকেলে করে হালুয়াঘাট বাজারের বাসস্ট্যান্ডে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। সেখান থেকে এক চায়ের দোকানির ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জে নিজের বাড়িতে ফিরে চিকিৎসা নেন।
"আমাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়, মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া আমার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি পুলিশের তদন্তের দাবি জানাচ্ছি এবং ন্যায়বিচারের আশা করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরশহর, কেরেঙ্গাপাড়া গ্রাম, হালুয়াঘাট বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জান্নাতুল নাঈম, মিজানুর রহমান মিজান, নুরুল হক, রাজমিস্ত্রি সাত্তার, Angel Moon (লিমা সাহা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ১০ লাখ টাকা, ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ৫টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ১০টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!