📌 শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের একটি আবাসিক হোটেল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বাশার তালুকদারের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তার মোবাইল থেকে স্ত্রীকে টাকা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। হোটেলের মালিক ও ম্যানেজার পলাতক রয়েছেন
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানায় একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বাশার তালুকদারের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দেওয়ায় মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ স্বজনদের। ঘটনাটি ঘটে গত ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪০ বছর বয়সী শিক্ষক আবুল বাশার তালুকদারের মরদেহ শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
- 📌 মৃত্যুর আগে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দেওয়ায় মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 হোটেলের মালিক আতাউর রহমান ও ম্যানেজার মামুন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
- 📌 নিহত শিক্ষক গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে ছিলেন।
- 📌 গত ১৮ অক্টোবর সকালে গাজীপুর থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন শিক্ষক। পরে তার মোবাইল থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়।
- 📌 পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে ক্রাইম সিন তদন্ত দল পাঠানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বাশার তালুকদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হোটেলটির মালিক আতাউর রহমান ও ম্যানেজার মামুন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহত শিক্ষক গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে ছিলেন। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ১৮ অক্টোবর সকালে গাজীপুরের নিজ বাড়ি থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নে দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার। পরে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তার স্ত্রী ফোনে তার অবস্থান জানতে চান এবং সেখানে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলেন। তবে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান জানানো হয়নি। একপর্যায়ে ওই মোবাইল ফোন থেকে তাকে শুয়ে থাকা অবস্থায় একটি ছবিও পাঠানো হয়। টাকা না দিলে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করলেও আর কেউ কল রিসিভ করেননি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় যোগাযোগ করেন। পরে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের সূত্র ধরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে ঢাকা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিক্ষক আবুল বাশার তালুকদারের ভাগিনা কবির হোসেন বলেন, “আমার মামা রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রোববার থেকে তিনি বন্ধুর বাড়িতে আছেন বলে জানানো হচ্ছিল। তবে সোমবার (১৯ অক্টোবর) তার মামার মোবাইল ফোন থেকে অন্য একজন দুই দফায় চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে ভেদরগঞ্জের ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আমার মামার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
"আমার মামা রোববার সকালে গাজীপুর থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রোববার থেকে তিনি বন্ধুর বাড়িতে আছেন বলে জানানো হচ্ছিল। তবে সোমবার তার মামার মোবাইল ফোন থেকে অন্য একজন দুই দফায় চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।"
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন বলেন, “ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার তালুকদার নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের জন্য একটি ক্রাইম সিন তদন্ত দল আসবে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আবুল বাশার তালুকদারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন থেকে টাকা দাবির ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং হোটেলমালিকের পলাতক থাকার সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর; ঢাকা আবাসিক হোটেল, শরীয়তপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবুল বাশার তালুকদার (৪০), আতাউর রহমান (হোটেল মালিক), মামুন (ম্যানেজার), কবির হোসেন (ভাগিনা), মো. শামসুল আরেফীন (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ বছর (বয়স), ২০ হাজার টাকা (টাকা দাবি), ১৮ অক্টোবর (রওনা), ২০ অক্টোবর (মরদেহ উদ্ধার), ১২ টা (ঘটনার সময়), ৮২ নং (শিক্ষকের স্কুল নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!