📌 ৭৫ বছর বয়সী মিরপুরের মিস্ত্রি শাহ আলম উচ্ছেদ অভিযানে কাজের সরঞ্জাম হারানোর পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সহায়তায় নতুন করে রিকশা-ভ্যান মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। ২০ হাজার টাকা ঋণ সহায়তা পেয়ে তিনি আবার ফুটপাতের গাছের ছায়ায় বসে কাজ করছেন
৭৫ বছর বয়সী মিরপুরের মিস্ত্রি শাহ আলম উচ্ছেদ অভিযানে কাজের সরঞ্জাম হারানোর পর আবার কাজে ফিরেছেন। শনিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-১০ কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতের গাছের ছায়ায় বসে তিনি ভ্যানের চাকা মেরামত করছিলেন। উচ্ছেদের শিকার হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া পুরোনো বাক্সের জোড়াতালি দিয়ে আবার ব্যবহার করছেন শাহ আলম। ভেতরে নতুন করে কেনা সেলাই রেঞ্চ, হাতুড়ি, ডাল রেঞ্চ, চাকার টিউবসহ নানা সরঞ্জাম দিয়ে তিনি আবার কাজ শুরু করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭৫ বছর বয়সী শাহ আলম উচ্ছেদ অভিযানে কাজের সরঞ্জাম হারানোর পর আবার কাজে ফিরেছেন মিরপুরের ফুটপাতে
- 📌 ২০ হাজার টাকা ঋণ সহায়তা পেয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক থেকে
- 📌 উচ্ছেদের দিন পুলিশের হাতে বাক্স ভেঙে যাওয়ার পর শাহ আলম মাথায় হাত দিয়ে বসেছিলেন
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহ আলমের দুর্দশা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসক তাঁকে খুঁজে পান
- 📌 একাই সংসারের জোগান দিচ্ছেন শাহ আলম — দৈনিক আয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত
📰 বিস্তারিত
শাহ আলমের পাশে পড়ে ছিল কাঠের পুরোনো একটি বাক্স, যা উচ্ছেদ অভিযানের সময় ভেঙে গিয়েছিল। সেই ভাঙা বাক্সের জোড়াতালি দিয়ে আবার ব্যবহার করছেন তিনি। ভেতরে নতুন করে কেনা সেলাই রেঞ্চ, হাতুড়ি, ডাল রেঞ্চ, চাকার টিউবসহ নানা সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করছেন। শাহ আলম বলেন, ‘আমি চাইসিলাম বাক্সটা সরাইয়া হালাই। পরে দেহি আমার বাক্স সহকারে ভাইঙ্গা দিতাসে। আমি বাক্স বাঁচাইতে গেসি। আমারে চার-পাঁচজন পুলিশ টাইনা নিয়ে গেসে। এহানদিয়া আমার মালসামানা, বাক্স ভাইঙগা যা ছিল সব নিয়ে গেসে।’
উচ্ছেদের দিন পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছিল। পরে একটি ভবনে আগুন ধরে যায়। পুলিশ সরে যাওয়ার পর দুপুরের দিকে প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। বেলা তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে বুলডোজার ও সিটি করপোরেশনের গাড়ি আসে। শাহ আলম পুলিশের হাতে বাক্স ভেঙে যাওয়ার পর মাথায় হাত দিয়ে বসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিরীহ মানুষ। আমি তো আর ফুটে দোকান করি না। রোডে দোকান করি, রিকশা সাইকেলের কাম করি। এ ছাড়া আমার আর কিছু নাই।’
৭৫ বছর বয়সী শাহ আলমের বর্তমান বাসস্থান মিরপুরের বাইশটেকি আয়না মসজিদ এলাকায়। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী, বড় মেয়ে ও দুই নাতির সঙ্গে থাকেন। ছোট মেয়ে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। নিজের আয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এইটা ঠিক নাই। কাজের ওপরে নির্ভর করে। ৩০০, ৪০০, কোনো দিন ঠেইলা–মেইলা ৫০০ টাকা।’
ফেসবুকে শাহ আলমের দুর্দশা ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান তাঁকে খুঁজে পান। প্রশাসকের সহকারী একান্ত সচিব আল-আমীন আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃদ্ধের ঘটনাটি নজরে আসে। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে শাহ আলমকে খুঁজে বের করা হয়। তাঁকে নগর ভবনে ডেকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন প্রশাসক। শাহ আলম প্রশাসককে জানিয়েছিলেন, তিনি ২০ হাজার টাকা ঋণ করে রিকশা–ভ্যান মেরামতের কিছু নতুন সরঞ্জাম কিনেছিলেন। উচ্ছেদ অভিযানে তাঁর পুরোনো সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার পর নতুন করে কাজ শুরু করতে সমস্যায় পড়েছিলেন। পরে প্রশাসক তাঁকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেন।’
"আমি চাইসিলাম বাক্সটা সরাইয়া হালাই। পরে দেহি আমার বাক্স সহকারে ভাইঙ্গা দিতাসে। আমি বাক্স বাঁচাইতে গেসি। আমারে চার-পাঁচজন পুলিশ টাইনা নিয়ে গেসে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর-১০, ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-১০ কার্যালয়ের সামনে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিস্ত্রি শাহ আলম (৭৫ বছর), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ বছর (শাহ আলমের বয়স), ২০ হাজার টাকা (ঋণ সহায়তা), ৩০০-৫০০ টাকা (দৈনিক আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!