📌 ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সায়ন (৮) বাসচাপায় নিহত হন। বাবা সাজু আহমেদ সেলিম স্কুল কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন। ঘটনায় বাসচালকের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন তিনি
ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সায়ন (৮) গত ১৩ অক্টোবর স্কুল ক্যাম্পাসে বাসচাপায় নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় বাবা সাজু আহমেদ সেলিমের মনে হয়নি যে তিনি এমন দৃশ্য দেখতে পাবেন। তিনি দাবি করেছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষকে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮ বছর বয়সী শাহরিয়ার সায়ন (৮) বাসচাপায় নিহত হন গত ১৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটায়
- 📌 বাবা সাজু আহমেদ সেলিম বলেন, ‘বাসের নিচে আমার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল’
- 📌 সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, বাসে কোনো সহকারী না থাকায় সায়ন বাম পাশের চাকার নিচে চাপা পড়েন
- 📌 স্কুল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সেলিম দাবি জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে
- 📌 নিহত সায়নের মরদেহ ১৪ অক্টোবর গ্রামের বাড়ি পৌঁছায়, ১৫ অক্টোবর দাফন করা হয়
📰 বিস্তারিত
গত ১৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের ক্যাম্পাসে একটি বাসচাপায় শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সায়ন (৮) নিহত হন। সায়ন ছিলেন দ্বিতীয় শ্রেণির ‘সি’ শাখার শিক্ষার্থী। তার বাবা সাজু আহমেদ সেলিম ঢাকার খিলক্ষেতের বটতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সেলিম বলেন, ‘প্রতিদিন সায়নের ক্লাস শেষ হয় বেলা তিনটায়। আর ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে স্কুল বাস ছাড়ে। আমি তখন ধানমন্ডিতে অফিসে ছিলাম। স্কুল থেকে ৩টা ৪০ মিনিটে আমাকে ফোন দিয়ে দ্রুত স্কুলে যেতে বলা হয়। মোটরসাইকেল নিয়ে ৪০ মিনিটের মধ্যে আমি স্কুলে পৌঁছাই। সেখানে গিয়ে যেটা দেখলাম তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বাসের নিচে আমার ছেলে সায়ন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্কুল ড্রেস পরা, গলায় আইডি কার্ড ঝুলানো।’
সেলিম আরও বলেন, ‘স্কুলের অধ্যক্ষের সহায়তায় আমি স্কুলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখি। সেখানে দেখা যায়, একটি বাস ক্যাম্পাস থেকে বের হচ্ছে। তবে বাসে কোনো সহকারী ছিল না। আমার ছেলে হয়তো সে সময় খেলাধুলা করছিল। বাসটি বামে বাঁক নিতে ছেলেটা বাম পাশের চাকার নিচে চাপা পড়ে।’ তিনি দাবি করেন, ‘এত বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২০টির মতো বাস আর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সেখানে এত বড় অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। চালক বাস চালাচ্ছেন ক্যাম্পাসের ভেতরেই, অথচ সেখানে তার সহকারী নেই। এখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ, বাস চালকের গাফিলতি রয়েছে।’
সেলিম জানান, ‘ছেলের মরদেহ ময়নাতদন্তে কাটাকটি হবে, মামলা চালানোর ঝামেলা, চাকরি করি, সময়ের অভাব — সবমিলিয়ে আমি আইনি ঝামেলায় জড়াতে চাই না। তবে লিখিত দিয়ে দাবি জানিয়েছি, এ ঘটনা তদন্ত করে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
"আমার দুনিয়া যেন অন্ধকার হয়ে গেলে। সেখানে পুলিশ ও সেনা সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সন্তানের মরদেহ বুঝে নিই।"
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। বুধবার ভোরে নিহত সায়নের মরদেহ ঢাকা থেকে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পৌঁছায়। সকাল ৯টার দিকে জানাজার নামাজ শেষে তাকে রামচন্দ্রপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত সায়নের চাচা সোহেল রানা বলেন, ‘আগামী নভেম্বর মাসের ১২ তারিখ সায়নের জন্মদিন। এদিন তার ৯ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ছেলেটা এভাবে চলে যাবে ভাবতে পারছি না। সবাই খুব ভেঙে পড়েছে। সায়নের বাবা-মাকে স্বান্তনা দিতে পারছি না।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহরিয়ার সায়ন (৮), সাজু আহমেদ সেলিম, শারমিন খাতুন, সোহেল রানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ বছর বয়স, ১৩ অক্টোবর, ২০টি বাস, ৩টা ৪০ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!