📌 সাভার পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ বিল ও চার্জিং খরচ বৃদ্ধির কারণে অটোরিকশাচালকরা ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ করে। চালক ও গ্যারেজ মালিকরা দাবি জানান, খরচ বাড়ার কারণে তাদের আয় কমে যাচ্ছে এবং আর্থিক সংকটে পড়ছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরোধ নিবৃত্ত করে দেন
সাভার পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ বিল ও চার্জিং খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে অটোরিকশাচালকরা আজ বুধবার সড়ক অবরোধ ও ধর্মঘটের মাধ্যমে তাদের দাবি জানান। চালক ও গ্যারেজ মালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি খরচ এবং রিকশার দৈনিক জমার বৃদ্ধি তাদের আর্থিক অবস্থাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাভার পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ বিল ও চার্জিং খরচ কমানোর দাবিতে অটোরিকশাচালকরা ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
- 📌 চালক ও গ্যারেজ মালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ বিলের খরচ এক মাসে ৫০-৫২ হাজার থেকে বেড়ে এক লাখ টাকার বেশি হয়েছে।
- 📌 প্রতিদিন ২০টি অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার খরচ বেড়ে ২৫০ টাকা করে দাঁড়িয়েছে, যা আগে ছিল ১৭০ টাকা।
- 📌 রিকশার দৈনিক জমা বেড়ে ৬০০ টাকা হয়েছে, যা আগে ছিল ৫০০ টাকা। চালকদের দাবি, আয় না বাড়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
- 📌 পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সড়ক অবরোধ থেকে বিরত রাখে এবং দাবি মেটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেয়।
📰 বিস্তারিত
সাভার পৌর এলাকায় আজ বুধবার সকাল থেকে অটোরিকশাচালকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, চালকরা সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। দুপুরের দিকে চালকদের প্রতিনিধি দল এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে তারাপুর মাঠে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
অটোরিকশাচালকদের প্রতিনিধিদল পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি জানান। চালক ও গ্যারেজ মালিকদের দাবি, বিদ্যুতের বিল অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার খরচ অনেক বেড়েছে। ফয়সাল আহমেদ, সাভার পৌরসভার চাঁপাইন এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক জানান, তাঁর গ্যারেজে প্রতিদিন গড়ে ২০টি অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হয়। এক মাস আগেও প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত ৫০ থেকে ৫২ হাজার টাকা। গত মাসে বিল এসেছে এক লাখ টাকার বেশি। তিনি বলেন, আগে প্রতিটি অটোরিকশা চার্জ দিতে ১৭০ টাকা নেওয়া হতো, কিন্তু বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ায় এখন ২৫০ টাকা করে নিতে হচ্ছে।
অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ আরিফ বলেন, আগে রিকশার দৈনিক জমা ছিল ৫০০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৬০০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে চার্জের খরচ ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। বাবার চিকিৎসা ব্যয় ও পরিবারের ছয় সদস্যের ভরণপোষণ আমার একার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক অবরোধ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
"আমার বাবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। বাবার চিকিৎসা ব্যয় ও পরিবারের ছয় সদস্যের ভরণপোষণ আমার একার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাভার পৌর এলাকা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ আরিফ, ওসি মোহাম্মদ সাইফুল আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি অটোরিকশা, ৫০-৫২ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, ১৭০ থেকে ২৫০ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!