📌 সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে পাউবোর বেড়িবাঁধে ১৫০ ফুট এলাকা ভাঙনের কারণে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাসেবীভাবে মেরামত শুরু করেছেন। পাউবো কর্তৃপক্ষের অজরামর দায়িত্বহীনতার কারণে বাঁধের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়ে পড়ছিল
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে কপোতাক্ষ নদের প্রবল জোয়ারের তোড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন ঘটে। পাউবো বিভাগ-২-এর অধীনে ৭/২ পোল্ডারের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে প্রায় ১৫০ ফুট এলাকাজুড়ে বাঁধের ভাঙন ঘটলে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দ্রুত মেরামত না হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার ভোরে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটে পাউবো বিভাগ-২-এর ৭/২ পোল্ডারের বেড়িবাঁধে ১৫০ ফুট এলাকা ধসে পড়ে।
- 📌 পাউবো উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: রাশেদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বাঁধের বিষয়টি জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
- 📌 প্রতাপনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী স্থানীয়দের সাথে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবীভাবে মেরামত কাজ শুরু করেছেন।
- 📌 পাউবো কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে মোট অঙ্কের টাকা বাজেটের ১০ শতাংশ হাতিয়ে নেওয়ার পর জোড়াতালি দিয়ে মেরামত শুরু করেছেন।
- 📌 সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, ভাঙন পয়েন্টে জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও জিও টিউব দিয়ে প্রতিরোধমূলক কাজ চলছে।
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে সোমবার ভোরে ভয়াবহ ভাঙন ঘটে। কপোতাক্ষ নদের প্রবল জোয়ারের তোড়ে পাউবো বিভাগ-২-এর অধীনে ৭/২ পোল্ডারের ওই স্থানে প্রায় ১৫০ ফুট এলাকাজুড়ে বেড়িবাঁধ নদের গর্ভে ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীর প্রবল জোয়ারের চাপ ও বাঁধের অবহেলার কারণে এই ভাঙন ঘটেছে।
বাঁধ ভাঙনের খবর পেয়ে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাঁধের ভাঙন পয়েন্টে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ চলছে।
কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, বাঁধে প্রাথমিকভাবে ভাঙন দেখা দিলেও পাউবো কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর তারা জোড়াতালি দিয়ে মেরামত শুরু করেন। জরুরি ভিত্তিতে মোট অঙ্কের টাকা বাজেটের ১০ শতাংশ হাতিয়ে নেওয়ার পর কাজ শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, পাউবো বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: রাশেদুল ইসলাম কমিশন ছাড়া কোনো কাজ দেখাশুনা করেন না। ফলে পাউবোর কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে জনগণের দুর্ভোগ ক্রমাগত বাড়ছে।
"আগে থেকেই ব্যবস্থা নিলে সরকারের মোটা অঙ্কের টাকা সাশ্রয় হতো। প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষ আগে থেকেই বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে পাউবো কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন।"
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। বর্তমানে ভাঙন পয়েন্টের রিভার সাইডে জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও ল্যান্ড সাইডে জিও টিউব দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ধার আগে ভাঙন পয়েন্টে মেরামতের কাজ শেষ করা যাবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রতাপনগর ইউনিয়ন, আশাশুনি উপজেলা, সাতক্ষীরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু দাউদ ঢালী (ইউপি চেয়ারম্যান), মো: রাশেদুল ইসলাম (পাউবো প্রকৌশলী), শফিকুল ইসলাম (বাসিন্দা), মো: আব্দুর রহমান তাযকিয়া (পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০ ফুট (বাঁধের ভাঙন এলাকা), ১০ শতাংশ (বাজেটের অংশ), ২৮ সেপ্টেম্বর (ভাঙনের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!