📌 সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার ১৬ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহ হয়েছে। গত দেড় বছরে ৩টি বিয়ে ভেঙে গেলেও ১৩ জন ছাত্রী এখনও শ্বশুরবাড়িতে আছেন। ইউএনওর সভায় অভিভাবকদের কাছে ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির ১৬ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। গত দেড় বছরে এই মাদ্রাসার ছাত্রীদের মধ্যে ১৬ জনের বিয়ের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে তিনটি বিয়ে ভেঙে গেছে। তবে বাকি ১৩ জন ছাত্রী এখনও শ্বশুরবাড়িতে আছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহ: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীদের মধ্যে গত দেড় বছরে ১৬ জনের বিয়ের ঘটনা ঘটেছে।
- 📌 ৩টি বিয়ে ভেঙে গেছে: তিনজন ছাত্রীর বিয়ে ভেঙে গেছে এবং তারা আবার মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।
- 📌 ১৩ জন ছাত্রী শ্বশুরবাড়িতে: বাকি ১৩ জন ছাত্রী এখনও শ্বশুরবাড়িতে আছেন এবং তাদের পড়াশোনা বন্ধ রেখেছে।
- 📌 ইউএনওর সভায় অভিভাবকদের সতর্কতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ইউএনও অর্ণব দত্তের সভায় অভিভাবকদের কাছে ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়েদের শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।
- 📌 অভিভাবকদের স্বীকারোক্তি: অভিভাবকরা স্বীকার করেছেন যে, তাদের মেয়েরা মাদ্রাসায় পড়ার সময় স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বিয়ে করেছে।
- 📌 মাদ্রাসা সুপারিনটেনডেন্টের তথ্য: মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. নুরুল ইসলাম জানান, ১৬ জন ছাত্রীর বিয়েগুলো গত দেড় বছরে হয়েছে এবং এর মধ্যে দুই থেকে তিনজন পড়াশোনা বন্ধ রেখেছে।
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ইউএনও অর্ণব দত্তের সভায় ১৬ জন ছাত্রীর অভিভাবকদের ডাকা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ১৩ জন ছাত্রী। সভাকক্ষে সাতক্ষীরা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা ছাত্রীদের জন্মনিবন্ধন, অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি ও বিয়ের কাগজপত্রের তালিকা নিচ্ছিলেন। ইউএনও অর্ণব দত্ত অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান যে, কোনো ছাত্রী বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকলে বিষয়টি আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে জানাতে হবে।
অভিভাবকদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তাদের মেয়েরা মাদ্রাসায় পড়ার সময় স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বিয়ে করেছে। এক অভিভাবক জানান, তাঁর মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিবারের অজান্তে ওই ছেলেকে বিয়ে করে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিয়ে মেনে নেন। আরেক অভিভাবক বলেন, তাঁর মেয়ে মুঠোফোনের মাধ্যমে পঞ্চগড়ের এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং গোপনে বাড়ি থেকে চলে গিয়ে ওই ছেলেকে বিয়ে করে। পরে তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন এবং ছেলেটিকে আবার বিয়ে দেন, তবে বিয়েটি নিবন্ধিত হয়নি।
ইউএনও অর্ণব দত্ত সতর্ক করে বলেন, কেউ এ নির্দেশ অমান্য করে মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠালে নিয়মিত মামলা করা হবে। সভায় অভিভাবকদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নেওয়া হয় যে, মেয়েদের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো যাবে না এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। ছাত্রীদের জন্মনিবন্ধন ও অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য প্রশাসনের নথিতে রাখা হয়।
"কোনো ছাত্রী বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকলে বিষয়টি আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে জানতে হবে। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।"
"শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন ছাত্রী ভর্তি থাকা অবস্থায় তাঁর বাল্যবিবাহ ঠেকানোর দায়িত্ব থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিজেকে দূরে রাখতে পারেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শাল্য, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা, সাতক্ষীরা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ইউএনও অর্ণব দত্ত, মাদ্রাসা সুপারিনটেনডেন্ট মো. নুরুল ইসলাম, প্রকল্প কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা
- 📌 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ জন ছাত্রী, ১৩ জন শ্বশুরবাড়িতে, ৩টি বিয়ে ভেঙে গেছে, ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী, ১৮ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!