📌 সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে হঠাৎ ভাঙন ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা কোদাল-ঝুড়ি নিয়ে জড়ো হয়ে মাটি ফেলছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এখনো আসেনি
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে আজ সোমবার সকালে হঠাৎ ভাঙন ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে জড়ো হয়ে মাটি ফেলছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা এখনো আসেননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে সকালে ৬:৩০টায় ভাঙন ঘটে; ধসে পড়া অংশের দৈর্ঘ্য ৬০-৭০ ফুট (বাসিন্দাদের দাবি: ১০০+ ফুট)
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাসেবী হয়ে কোদাল-ঝুড়ি নিয়ে মাটি ফেলছেন; জিও ব্যাগ ও বালুভর্তি বস্তা নিয়ে ভাঙনস্থলে ছুটে যাচ্ছেন
- 📌 ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল; ২০২২-২৩ সালে নির্মিত বাঁধের নিচে বালু ব্যবহারের কারণে সম্ভবত ভাঙন ঘটেছে
- 📌 সাতক্ষীরা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম জানান, তিন দিন আগেও জায়গাটি পরিদর্শন করা হয়েছিল; এখনও জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
- 📌 প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী বলেন, ইউনিয়নের প্রায় ৩ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ; স্থায়ীভাবে মজবুত বাঁধ নির্মাণের দাবি
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া-শ্রীপুর এলাকায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে আজ সোমবার সকালে হঠাৎ ভাঙন ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ ধসে গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ধসে পড়া অংশের দৈর্ঘ্য ৬০ থেকে ৭০ ফুট।
ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক বাসিন্দা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে মাটি ফেলতে শুরু করেন। কেউ কেউ বালুভর্তি বস্তা ও জিও ব্যাগ নিয়ে ভাঙনস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় বাসিন্দা মুজাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে মাটির বড় বড় খণ্ড নদীতে পড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ ধসে যায়। এখন সরু আলের মতো বাঁধের সামান্য অংশ টিকে আছে।’
জোয়ারের পানি বাড়ার কারণে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় বাঁধের ওপর অবস্থান করছেন স্থানীয় লোকজন। তারা মাটি কেটে বস্তায় ভরে ভাঙনস্থলে ফেলছেন। স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘পাউবোর লোকজন আসা পর্যন্ত বসে না থেকে আমরা কাজ করছি। কিন্তু এত বড় ভাঙন শুধু স্থানীয় মানুষের শ্রম দিয়ে ঠেকানো সম্ভব নয়। দ্রুত জিও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় মালামাল এনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ জানান, তিন মাস আগেও এখান থেকে ১০০ থেকে ২০০ ফুট দূরে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। তখন পাউবোর ঠিকাদারের মাধ্যমে ১০০ থেকে ২০০ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। পরে স্থায়ীভাবে কাজ করার কথা বলা হলেও আর কাজ হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাঁধটি ভেঙে গিয়েছিল। পরে ২০২২-২৩ সালের দিকে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু তখন বাঁধের নিচের অংশে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার করা হয়েছিল। জোয়ারের পানির চাপে ধীরে ধীরে বালু সরে গিয়ে ভাঙন তৈরি হয়েছে।’
"আমাদের চোখের সামনেই মাটির বড় বড় খণ্ড নদীতে পড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ ধসে যায়। এখন সরু আলের মতো বাঁধের সামান্য অংশ কোনোরকমে টিকে আছে।"
সাতক্ষীরা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম জানান, ‘আমরা জায়গাটি নিয়মিত মনিটরিংয়ের মধ্যে রেখেছিলাম। তিন দিন আগেও সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে এসেছি। এর মধ্যেই আজ সকালে হঠাৎ করে বেড়িবাঁধের বেশ খানিকটা অংশ ধসে পড়েছে। ঘটনার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী বলেন, তাঁর ইউনিয়নের প্রায় তিন কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। বারবার ভাঙন দেখা দিলে জিও ব্যাগ, বালুসহ বিভিন্ন সামগ্রী ফেলে কোনোরকমে তা ঠেকানো হয়। তিনি দাবি করেন, ‘এভাবে জোড়াতালি দিয়ে কাজ না করে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে মজবুত বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কপোতাক্ষ নদী, কুড়িকাহুনিয়া-শ্রীপুর এলাকা, আশাশুনি উপজেলা, সাতক্ষীরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুজাহিদুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ, রাশিদুল ইসলাম, আবু দাউদ ঢালী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০-৭০ ফুট (পাউবো হিসাব), ১০০+ ফুট (বাসিন্দাদের দাবি), ৩ কিলোমিটার (ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ), ১০০-২০০ জিও ব্যাগ (২০২৬ সালের পূর্বের ব্যবহার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!