📌 ঢাকার সদরঘাটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লঞ্চকর্মীদের সাথে মারধর ও কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। ৪০ হাজার টাকা দাবি করে মীমাংসা হয় ২০ হাজারে। ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী
ঢাকার সদরঘাটে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লঞ্চকর্মীদের সাথে মারধর ও কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল ৪০ হাজার টাকা, কিন্তু মীমাংসা হয় ২০ হাজারে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাটি ঘটে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সদরঘাটে লঞ্চে প্রবেশের সময় জবি শিক্ষার্থীদের লঞ্চকর্মীদের সাথে মারধর ও কথা-কাটাকাটি ঘটে।
- 📌 জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মী আলিমুল, সৈকত, কাব্য, ইমন ও আসিফ সহ ৭ জন শিক্ষার্থী জড়িত ছিলেন।
- 📌 বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের অনুসারী, ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
- 📌 মোবাইল ভাঙা ও চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়, শেষ পর্যন্ত ২০ হাজারে মীমাংসা হয়।
- 📌 লঞ্চ কর্মীরা জানান, জবি শিক্ষার্থীরা প্রায়ই লঞ্চে গাঁজা ও মাদক সেবন করে।
- 📌 সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার সময় ছাত্রদল কর্মীদের সাথে বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং তাদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়।
- 📌 জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের রাজনৈতিক সংযোগ থাকার কথা জানা গেছে।
📰 বিস্তারিত
সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সন্ধ্যা সময়ে লঞ্চে প্রবেশের সময় কর্মীরা তাদের বাধা দিলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থী একজন লঞ্চকর্মীকে মারধর করেন। ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন, তাদের মধ্যে ছিলেন জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মী আলিমুল, সৈকত, কাব্য, ইমন ও আসিফ। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাইদ ও নাইম, থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থী নাইম, আইইআর বিভাগের তাজ এবং বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলীও উপস্থিত ছিলেন।
লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। দাবির কারণ হিসেবে মোবাইল ফোন ভাঙা ও চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখ করা হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। লঞ্চের কর্মী জানান, জবি শিক্ষার্থীরা প্রায়ই লঞ্চে গাঁজা ও মাদক সেবন করে এবং পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
ঘটনায় জড়িত ছাত্রদল কর্মীদের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একটি কর্মী বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে গাঁজা ও বিভিন্ন মাদক সেবন করেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।’
"আমরা লঞ্চ মালিক সমিতির অফিসে বসি। সেখানেও এক দফা কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।"
লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, ‘পুরান ঢাকা, বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রদূত ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আমরা চাই, কেউ যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট না করে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সদরঘাট, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলিমুল, সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ, শের আলী, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, শামছুল আরেফিন, মেহেদী হাসান হিমেল, মো. জিল্লু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ হাজার টাকা (দাবি), ২০ হাজার টাকা (মীমাংসা), ৫ টা (বিকেল), ৪ নম্বর (টার্মিনাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!