📌 রংপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালীন ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ফলে নগরীতে একদিনের জন্য যানজট, ফুটপাত দখল ও ধুলোবালি থেকে মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু এই পরিবর্তন স্থায়ী নয়—নগরবাসীরা প্রতিদিনের বাস্তবতা হিসেবে পরিচ্ছন্নতা ও সুব্যবস্থার দাবি করছেন
রংপুরের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালীন সৌন্দর্য বর্ধন অভিযান নগরবাসীদের মনে একদিনের স্বপ্ন সৃষ্টি করেছে। সফরকালীন সকল সড়ক, ফুটপাত ও রোড ডিভাইডার পরিষ্কার ও সাজানো হলেও, এই পরিবর্তন স্থায়ী নয়। নগরবাসীরা প্রতিদিনের বাস্তবতা হিসেবে পরিচ্ছন্নতা ও সুব্যবস্থার দাবি করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালীন রংপুরে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হলেও, এই পরিবর্তন স্থায়ী নয়
- 📌 সফরকালীন ফুটপাত দখলমুক্ত, যানজটহীন ও ধুলোবালি-মুক্ত সড়ক দেখা গেলেও, প্রতিদিনের বাস্তবতা ভিন্ন
- 📌 রংপুরে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার অটোরিকশা চলাচল করলেও অনুমোদিত মাত্র ৮ হাজারের বেশি
- 📌 ফুটপাত দখলকারী হকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় উচ্ছেদ অভিযান স্থায়ী সমাধান নয়
- 📌 নগরবাসীরা দাবি করছেন, পরিচ্ছন্নতা ও সুব্যবস্থা প্রতিদিনের অভ্যাস হওয়া উচিত
📰 বিস্তারিত
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরীর তদারকিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন অভিযান চালানো হয়। সফরকালীন সড়ক ও রোড ডিভাইডার ধুয়ে-মুছে রং করা হয় এবং ফুলের গাছ লাগানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সড়কগুলো, বিশেষ করে ডিসির মোড় থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয় এবং যানজটহীন পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
সফরকালীন নগরীর চিত্র ছিল ভিন্ন। ফুটপাতে দোকান দখলমুক্ত ছিল, জাহাজ কোম্পানি ও পায়রা চত্বরে যানজট ছিল না। মর্ডাণ মোড়ে বাস থামিয়ে যাত্রী তোলার নামে জট তৈরি হয়নি। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জটলাও ছিল না। ডিসির মোড় থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত ধুলোবালির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছিল নগরবাসী। তবে এই পরিবর্তন স্থায়ী নয়। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির চিত্রটি ভিন্ন।
রংপুর নগরীর ফুটপাতের বড় অংশ দখল করে বসেছে কাপড়, ফল, সবজি, খাবার, জুতা-স্যান্ডেলসহ নানা পণ্যের দোকান। কোথাও আবার স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়েছে। ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর বিনিময়ে প্রভাবশালী চক্র নিয়মিত টাকা আদায় করছে। শাপলা চত্বর এলাকার বাসিন্দা একরামুল হক বলেছেন, ‘ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচলের কোনো উপায় নেই’।
রংপুরে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার অটোরিকশা চলাচল করলেও অনুমোদিত মাত্র ৮ হাজারের বেশি। মুলাটোল এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেছেন, ‘১০ মিনিটের রাস্তা যেতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট লাগে’। প্রশাসন মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও পরদিনই হকাররা আগের জায়গায় ফিরে আসে। নগরবাসীরা এটিকে ‘উচ্ছেদ ও পুনর্দখল’-এর চক্র হিসেবে দেখেন।
"ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবতা হলো, অনেক হকার জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে ব্যবসা করেন। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা না করে শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।"
সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী স্বীকার করেছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবতা হলো, অনেক হকার জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে ব্যবসা করেন। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা না করে শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নগরবাসীরা প্রত্যাশা করছেন, এই পরিচ্ছন্নতা ও সুব্যবস্থা প্রতিদিনের অভ্যাস হওয়া উচিত। কারণ, একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর শুধু একদিনের প্রদর্শনী নয়—এটি প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী, নগরবাসীরা (এক্রামুল হক, আরিফুর রহমান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫-৬০ হাজার অটোরিকশা, ৮ হাজার অনুমোদিত অটোরিকশা, ১০ মিনিটের রাস্তা যেতে ২৫-৩০ মিনিট লাগে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!