📌 যশোরের ভবদহ অঞ্চলে বর্ষা শেষ হওয়ার তিন মাস পরও ২০০টি গ্রাম পানিবন্দী। লাখো মানুষের জীবনযাপন, শিক্ষা ও খাদ্যাভাবের মুখোমুখি। সংগ্রাম কমিটি দাবি করে টিআরএম চালু ও নদী সংস্কারের দ্রুত সমাধান
যশোরের ভবদহ অঞ্চলে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার দেড় মাস পরও ২০০টি গ্রাম পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টিপাতের পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় শরতের শেষ সময়ে এখনও লাখো মানুষের জীবনযাপন, শিক্ষা ও খাদ্যাভাবের মুখোমুখি। দীর্ঘ চার দশক ধরে এই দুর্ভোগ অব্যাহত থাকলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২০০টি গ্রামে পানিবন্দী**: যশোরের ভবদহ, অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার অন্তত ২০০টি গ্রাম তিন মাস ধরে পানিবন্দী। লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাপন ব্যাহত।
- 📌 **শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ**: জলাবদ্ধতা কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন সুন্দলী ইউনিয়নের ডহর মশিয়াহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডহর মশিয়াহাটী নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মনিরামপুরের কুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
- 📌 **৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’**: ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’ উপলক্ষে পদযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
- 📌 **৫ দফা দাবি**: টিআরএম চালু, আমডাঙ্গা খালের পুনঃখনন, নদী-খাল থেকে কচুরিপানা অপসারণ, ২০১৬ সালের পুলিশ হামলার বিচার ও নদী সংস্কারের দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
- 📌 **১৪০ কোটি টাকার অপচয় আশঙ্কা**: সেনাবাহিনীর ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কারকাজের টাকা অপচয় হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ।
📰 বিস্তারিত
বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার দেড় মাস আগে থেকে যশোরের ভবদহ অঞ্চলে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ২০০টি গ্রাম জলাবদ্ধ রয়েছে। এই অঞ্চলে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলার নিম্নাঞ্চলের অংশবিশেষ অন্তর্ভুক্ত। ভবানীপুর গ্রামে শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু পলি পড়ে নদী নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে বৃষ্টির পানি এলাকার বিলগুলোকে উপচে দিয়েছে এবং গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।
গাজী আবদুল হামিদ, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, বলেছেন, “সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কারকাজ চলমান থাকলেও টিআরএম চালু না হওয়ায় সে টাকা অপচয় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী মাঘী পূর্ণিমার আগেই (আগামী চার মাসের মধ্যে) টিআরএম চালু না করা গেলে এই জনপদের দুর্ভোগ কাটবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত জুলাই মাসের অব্যাহত বৃষ্টিতে ভবদহ অঞ্চলের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার অন্তত ২০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিন মাস ধরে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় চরম খাদ্যাভাব ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পানির নিচে তলিয়ে আছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়।
পানি নিষ্কাশনের জন্য ২১-ভেন্ট ভবদহ স্লুইসগেটের সব কটি কপাট খোলা রয়েছে। পলাশ কুমার ব্যানার্জী, পাউবোর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী, বলেছেন, “এবার ভবদহ বিলের পানি বেড়েছিল তিন ফুটের মতো। খুব দ্রুত এই পানি নেমে যাবে।”
"সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কারকাজ চলমান থাকলেও টিআরএম চালু না হওয়ায় সে টাকা অপচয় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোরের ভবদহ, অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর উপজেলা, খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গাজী আবদুল হামিদ (ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক), পলাশ কুমার ব্যানার্জী (পাউবোর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০টি গ্রাম পানিবন্দী, ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশন, ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়, ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কার, ২১-ভেন্ট ভবদহ স্লুইসগেট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!