📌 বরগুনা জেলার বিষখালী ও পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ৭২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে ৩০ হাজার পরিবারের বসতবাড়ি হারানোর আতঙ্কে আছেন। পাউবো সূত্রে জানা যায়, ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৭২ কিলোমিটার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে
বরগুনা জেলায় বিষখালী ও পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ৭২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের আতঙ্কে ৩০ হাজার পরিবারের বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কা জাগিয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বেড়িবাঁধের ভাঙন পরিস্থিতি তীব্রতর হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে, যার মধ্যে ৭২ দশমিক ৫০৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরগুনা জেলায় বিষখালী ও পায়রা নদীর ভাঙনে ৭২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে
- 📌 ৩০ হাজার পরিবারের বসতবাড়ি হারানোর আতঙ্কে আছেন, তাদের মধ্যে ৫০টি পরিবারের বাড়ি গত ছয় মাসে নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে
- 📌 বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, বেতাগী, আমতলী, তালতলী ও বামনা উপজেলার বেড়িবাঁধের মধ্যে সর্বাধিক ঝুঁকিতে রয়েছে বরগুনা সদর উপজেলার ২৬ দশমিক ৯৪৯ কিলোমিটার
- 📌 বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ি এলাকায় ৮৮ বছরের পুরোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০ শতক জমি বিষখালী নদীর ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে
- 📌 ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের প্রতিটি কিলোমিটারে টেকসই ব্লকবাঁধ নির্মাণে ৯০ কোটি টাকা লাগবে, মোট ৭২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজন সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা
- 📌 পাউবো সূত্রে জানা যায়, জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তীর সুরক্ষার কাজ করার জন্য ঢাকায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বরগুনার বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ি এলাকার সত্তরোর্ধ্ব মোস্তফা মুসল্লী একসময় সচ্ছল জীবন যাপন করতেন। স্ত্রী ও ছয় ছেলেমেয়ে নিয়ে নিজের পাঁচ বিঘা জমিতে বসবাস করতেন। কিন্তু বিষখালী নদীর ভাঙনে দুই বছর আগে তাঁর ভিটেমাটি বিলীন হয়ে গেছে। এরপর তিনি কালিকাবাড়ি লঞ্চঘাটের পাশে খাসজমিতে বাড়ি তৈরি করেন, কিন্তু সেই বাড়িও ছয় মাস আগে নদীভাঙনে হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে তিনি অন্য এক ব্যক্তির বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। মোস্তফা বলেন, “সব জমি হারিয়ে এখন কী করবেন, সেই চিন্তায় আছি।”
মোস্তফার মতোই বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ী ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি এলাকায় গত ছয় মাসে ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে। গত এক বছরে শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি হারিয়েছে। পাউবো সূত্রে জানা যায়, বরগুনার পায়রা ও বিষখালী নদী এবং বলেশ্বর নদের ভাঙনে জেলার সাড়ে ৭২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে বাঁধের আশপাশে থাকা ৩০ হাজার পরিবারের লাখো মানুষ ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে আছেন।
প্রথম আলো সরেজমিন পরিদর্শনে দেখতে পায়, বামনা উপজেলার দক্ষিণ রামনা এলাকায় বিষখালী নদীর গর্ভে চলে গেছে বেড়িবাঁধের একটি অংশ। বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ি এলাকায় বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনের মুখে রয়েছে ৮৮ বছরের পুরোনো কালিকাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য ভাঙনস্থলে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “বর্তমানে অবশিষ্ট ৪০ শতক জমিতে বাড়ি করে আছি। সেটাও কখন বিষখালী নদী গিলে খাবে বলা যায় না।”
পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে বিষখালী নদীতে চলে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, “২০০৭ সালের সিডর ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে এখানে টেকসই বাঁধ নির্মাণ হয়নি। নদীভাঙনে আমরা প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্য মজবুত বাঁধ দরকার।”
"বর্তমানে অবশিষ্ট ৪০ শতক জমিতে বাড়ি করে আছি। সেটাও কখন বিষখালী নদী গিলে খাবে বলা যায় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরগুনা জেলা (বেতাগী, পাথরঘাটা, বরগুনা সদর, বামনা উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তফা মুসল্লী, আলমগীর হোসেন, মো. রাজু মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২.৫০৩ কিলোমিটার (বেড়িবাঁধের ঝুঁকির মুখে), ৩০ হাজার (পরিবার), ৫০টি (পরিবার বাড়ি হারানো), ৮০৫ কিলোমিটার (মোট বেড়িবাঁধ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!