📌 বরিশালের মুলাদীতে অপহরণের ৬ মাস পর স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয় এবং দু’জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপহরণের পিছনে ছিল বিয়ের প্রলোভন দিয়ে কিশোরীকে ফুসলিয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির একটি স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ৬ মাস পর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১) দু’জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং কিশোরীকে উদ্ধার করে। সোমবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের মো. আসলাম ভূঁইয়া (৩০) ও মো. সজিব (২০) দু’জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- 📌 ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করা হয়, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ফুসলিয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
- 📌 ৬ মাস পর উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রীর বাবা বলেছেন, মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তিনি ২৪ এপ্রিল মুলাদী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
- 📌 ২৯ জুন বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে নেন।
- 📌 ১ জুলাই মুলাদী থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়, এতে পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
📰 বিস্তারিত
মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আসলাম ভূঁইয়া (৩০) ও মো. সজিব (২০) দু’জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্কুলছাত্রীকে তার বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে আসলাম ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। পরিবার থেকে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি তা মানেননি। অপহরণের দিন তিনি আগে থেকে ওত পেতে ছিলেন এবং সহযোগীদের সহায়তায় কিশোরীকে অপহরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অপহরণের পর স্কুলছাত্রী স্কুল থেকে বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজ করলে তাঁদের গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। থানায় অভিযোগ বা মামলা করলে কিশোরীকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেন, মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তিনি ২৪ এপ্রিল মুলাদী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২ মে সকালে মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ না করে তাঁকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর তিনি বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
২৯ জুন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা নথিভুক্ত করতে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে ১ জুলাই মুলাদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। এতে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, এসআরবির সহায়তায় অপহরণ মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার ও স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ছাত্রীর বক্তব্য গ্রহণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কার্যক্রম আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
"মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে আমি মুলাদী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। পরে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হলেও আমি বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশালের মুলাদী উপজেলা, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আসলাম ভূঁইয়া (৩০), মো. সজিব (২০), জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম, খন্দকার মো. সোহেল রানা (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ মাস, ২ জন আসামি, ২১ এপ্রিল, ২৪ এপ্রিল, ২ মে, ২৯ জুন, ১ জুলাই
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!