📌 রংপুরের আরাজি গ্রামে বিয়েবাড়ির পুকুরে দুটি শিশু নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। মামাতো-ফুফাতো বোন রুপা রানী (১০) ও পঞ্চমী রানী (৮) বিয়ের আনন্দে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গোসল করতে গিয়ে পুকুরে পড়ে মারা যায়। স্থানীয়রা তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে
রংপুরের আরাজি গ্রামে বিয়েবাড়ির পুকুরে দুটি শিশু নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। মমিনপুর ইউনিয়নের এই গ্রামে বিয়েতে যোগদানের জন্য বাবার বাড়িতে আসা দুটি মেয়ের মামাতো-ফুফাতো বোন দুজনেই পুকুরে পড়ে মারা যায়। স্থানীয়রা তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে, কিন্তু দুঃখের ছায়া এখনো পরিবার ও এলাকায় ছড়িয়ে আছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০ সেপ্টেম্বর রংপুরের আরাজি গ্রামে বিয়েবাড়ির পুকুরে মামাতো-ফুফাতো বোন রুপা রানী (১০) ও পঞ্চমী রানী (৮) নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
- 📌 বিয়েতে আনন্দে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গোসল করতে গিয়ে তারা পুকুরে পড়ে মারা যায়। স্থানীয়রা বেলা তিনটার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
- 📌 রুপার মা ওমালা রানী ও পঞ্চমীর মা মিনতি রানী দুঃখে ভেঙ্গে পড়েছেন। তারা বলেছেন, মেয়েদের বিয়ের আনন্দ দেখাতে নিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু এখন মরদেহ নিয়ে কীভাবে বাড়ি ফিরবেন?
- 📌 স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল হোসেন বলেছেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজনের সমাগমে দুটি শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
রংপুর সদর উপজেলার আরাজি গ্রামে বিয়েবাড়ির পুকুরে দুটি শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মমিনপুর ইউনিয়নের এই গ্রামে বিয়েতে যোগদানের জন্য বাবার বাড়িতে আসা দুটি মেয়ের মামাতো-ফুফাতো বোন দুজনেই পুকুরে পড়ে মারা যায়।
রুপা রানী (১০) বদরগঞ্জ উপজেলার চম্পাতলী মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, আর পঞ্চমী রানী (৮) তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের কাচনা গ্রামের বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো বোন। গত সোমবার রাতে আরাজি গ্রামের রতন চন্দ্র রায়ের বিয়ে হয় তারাগঞ্জের কাংলাচড়া গ্রামে। বিয়েতে যোগ দিতে রতনের বোন ওমালা রানী তার মেয়ে রুপাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আসেন। একইভাবে রতনের বড় ভাই অজয়ের শ্যালিকা মিনতি রানী রায় তার মেয়ে পঞ্চমীকে নিয়ে তারাগঞ্জের কাচনা গ্রাম থেকে আসেন।
বুধবার রতনের বাড়িতে ফিরানির অনুষ্ঠান উপলক্ষে আত্মীয়স্বজনের সমাগম ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে গোসল করতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রুপা ও পঞ্চমী। পরে দীর্ঘ সময় তারা ফিরে না আসায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন আরাজি গ্রামের সুধীর রায়ের পুকুরে তাদের খোঁজ শুরু করেন। বেলা তিনটার দিকে পুকুরের পানির নিচ থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রুপার মা ওমালা রানী বলেন, ‘মামার বিয়েতে আনন্দ করবে বলে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম। এখন মেয়েটা আমার সামনে পড়ে আছে। মেয়েকে বিয়ের আনন্দ দেখাতে এনেছিলাম, এখন মেয়ের মরদেহ নিয়ে কীভাবে বাড়ি ফিরব?’ পঞ্চমীর মা মিনতি রানী বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘বিয়ার খুশি মোর কপালো দুঃখ আনিল। মুই এখন মাওক (মেয়ে) কোনঠে পাইম। ওর বাপোক কী জবাব দেইম। মোর মাও কথা কওছে না কেন।’
"মামার বিয়েতে আনন্দ করবে বলে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম। এখন মেয়েটা আমার সামনে পড়ে আছে।"
"বিয়ার খুশি মোর কপালো দুঃখ আনিল। মুই এখন মাওক (মেয়ে) কোনঠে পাইম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আরাজি গ্রাম, মমিনপুর ইউনিয়ন, রংপুর সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুপা রানী (১০), পঞ্চমী রানী (৮), ওমালা রানী, মিনতি রানী রায়, দুলাল হোসেন (ইউপি সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ সেপ্টেম্বর (তারিখ), ৩ টা (ঘণ্টা), ১০ বছর (রুপার বয়স), ৮ বছর (পঞ্চমীর বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!