📌 চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সরকারি বনভূমি উদ্ধারের অভিযানে হামলাকারীদের আক্রমণে বন বিভাগের কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। দখলকারীদের নেতৃত্বে ২০০-২৫০ জনের একটি দল বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেন, হামলাকারীদের হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্ক এলাকায় সরকারি বনভূমি উদ্ধারের অভিযানে হামলাকারীদের আক্রমণে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আহত হন। আজ বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় দখলকারীরা বাধা দেন এবং পরে স্থানীয়দের নেতৃত্বে ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীনসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায় ২০০-২৫০ জন দখলকারী
- 📌 হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিল দেশীয় অস্ত্র; বনকর্মীদের কিলঘুষি দেওয়া হয়
- 📌 তিনটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় পাঁচ একর বনভূমি মুক্ত করা হয়
- 📌 রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি নিশ্চিত তথ্য না পেলেও অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন
- 📌 বন বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে আগে থেকেই বনভূমি দখল ও গাছ কাটার মামলা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
আজ বৃহস্পতিবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্কের সংলগ্ন এলাকায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। কোদালা বিটের অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্কের গাড়ি রাখার জায়গার পাশে সরকারি বনভূমিতে অবৈধভাবে নির্মিত দুটি ঘর ও ঘেরাবেড়া উচ্ছেদ করা হয়। এরপর বনভোজনের জন্য নির্ধারিত জায়গায় নির্মিত একটি স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার সময় দখলকারীরা বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেদখল হওয়া বনভূমি উদ্ধার করতে অভিযানে যাই। খবর পেয়ে দুই থেকে আড়াইশত লোক জড়ো হন। তাঁরা কোনো কথা শুনতে রাজি হননি। মারধর শুরু করেছেন। লোকজন এসে কিলঘুষি দেওয়া শুরু করেন। পরে কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছেন এবং মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি বলেন, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবে তিনি জানান, অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্কে ১৩ জন ব্যক্তি ইজারা নিয়েছেন। ইজারাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্কের আওতাধীন জায়গায় স্থানীয় লোকজন ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। অভিযানের সময় এক নারীকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। ওসি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উচ্ছেদের আগে তাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। অভিযানের বিষয়ে পুলিশকেও অবহিত করা হয়নি।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, ‘অভিযান পরিচালনা করা ভূমিতে নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরও জানান, বনকর্মীদের কার্যালয়ে আটকে রেখে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বন বিভাগের হিসাবে উপজেলায় এখনো প্রায় দুই হাজার একর বনভূমি বেদখলে রয়েছে।
"বেদখল হওয়া বনভূমি উদ্ধার করতে অভিযানে যাই। খবর পেয়ে দুই থেকে আড়াইশত লোক জড়ো হন। তাঁরা কোনো কথা শুনতে রাজি হননি। মারধর শুরু করেছেন। লোকজন এসে কিলঘুষি দেওয়া শুরু করেন। পরে কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে এসেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহরাজ উদ্দীন (রেঞ্জ কর্মকর্তা), ওসি (রাঙ্গুনিয়া থানা), মোহাম্মদ সোহেল রানা (বন বিভাগ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০-২৫০ জন হামলাকারী, ১৩ জন ইজারাদার, ২৪টি সেগুনগাছ (২০২৫ সালে কেটে নেওয়া), ৩০টি গুলি (গত দেড় বছরে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!