📌 রাজশাহী রাজপাড়া থানায় টাকা ভাঙতির বিতর্কে ৪০-৫০ জনের হামলায় নিহত হন বারিউল ইসলাম। তার সন্তান তানভীর হোসেন দাবি করেন, হামলাকারীরা বাবাকে ‘আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে’। ঘটনায় দোকান ভাঙচুর ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে
রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা বাকীর মোড় এলাকায় টাকা ভাঙতির একটি তুচ্ছ বিতর্কে ৪০-৫০ জনের একটি দল হামলা চালিয়ে নিহত করেন বারিউল ইসলাম (৪০)। ঘটনায় তার একমাত্র সন্তান তানভীর হোসেনের বাবাকে ‘আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে’ বলে অভিযোগ করেন। শনিবার রাত পৌনে একটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলে দোকান ভাঙচুর, পেট্রলবোমা নিক্ষেপ এবং মারধর হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টাকা ভাঙতির বিতর্কে বাবাকে হত্যা: রাজশাহী রাজপাড়া থানায় ৪০-৫০ জনের হামলায় নিহত হন বারিউল ইসলাম। তার সন্তান তানভীর হোসেন বলেন, ‘টাকা ভাঙতির মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা আমার বাবাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে’।
- 📌 হামলার পটভূমি: শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় তিনজন লোক দোকানে এসে ২০০ টাকার নোট ভাঙতে চায়। দোকানে খুচরা টাকা না থাকায় বিতর্ক শুরু হয়। পরে রাত ১২টার দিকে ৪০-৫০ জনের হামলায় বারিউলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
- 📌 দোকান ভাঙচুর ও পেট্রলবোমা: হামলাকারীরা দোকানে ইটপাটকেল ছোড়ে, পেট্রলবোমা ও ককটেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে দোকানের শাটার আগুনে পুড়ে কালো হয়ে যায়।
- 📌 হতাহতের সংখ্যা: নিহতের চাচা মো. ইমামুল ইসলামের হাতের তালুতে সাতটি সেলাই পড়েছে এবং একটি আঙুল ভেঙে যায়। নিহতের চাচাতো ভাই মো. একরামুলের বাঁ হাতেও আঘাত লাগে।
- 📌 মামলা ও আসামি: মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী মোসা. দিলরুবা পারভীন রাজপাড়া থানায় মামলা করেছেন।
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা বাকীর মোড় এলাকায় শনিবার রাত পৌনে একটার দিকে একটি মারাত্মক হামলা ঘটে। ঘটনায় নিহত হন বারিউল ইসলাম (৪০)। তার একমাত্র সন্তান তানভীর হোসেন বলেন, ‘টাকা ভাঙতির মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা আমার বাবাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। আমি এর বিচার চাই’। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তানভীরের বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় তিনজন লোক দোকানে এসে ২০০ টাকার একটি নোট ভাঙতে চায়। তাঁদের দুটি ১০০ টাকার নোট দেওয়া হয়। পরে তাঁরা ওই নোটগুলো আবার ৫০ টাকার নোটে ভাঙিয়ে দিতে বলেন। দোকানে খুচরা টাকা না থাকায় তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বারিউলকে প্রশ্ন করা হয়, কেন টাকা ভাঙিয়ে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। তানভীর বাবাকে ছাড়াতে এগিয়ে যান তিনি। পরে তাঁর চাচা ও আশপাশের লোকজনও সেখানে আসেন। দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে বিপক্ষের কয়েকজন পাশের ড্রেনে পড়ে যান। বিপক্ষের একজনের মাথায় আঘাত পান বলেও জানান তানভীর।
তানভীর বলেন, ‘এরপর পাশের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফিরে আসে এ ঘটনার জেরে ৪০-৫০ জন আসে। তাদের বেশির ভাগের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। হামলাকারীরা প্রথমে তাদের দোকানে ভাঙচুর করে। ইটপাটকেল ছোড়ে। দোকানের দিকে পেট্রলবোমা ও ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তাঁরা আতঙ্কে ছুটে পালানোর চেষ্টা করেন। তানভীর বলেন, ‘আমি তখন বাঁচার জন্য দৌড়াচ্ছিলাম। বাবা আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। তখনই তাঁকে ধরে ফেলে কুপিয়ে দেয়’।
হামলায় পরিবারের আরও কয়েকজন আহত হন। নিহত ব্যক্তির চাচা মো. ইমামুল ইসলামের হাতের তালুতে সাতটি সেলাই পড়েছে। তাঁর একটি আঙুল ভেঙে গেছে। নিহতের চাচাতো ভাই মো. একরামুলের বাঁ হাতের তালুতেও আঘাত লাগে। তাঁরা চিকিৎসা নিয়েছেন। দোকানের সামনে পেট্রলবোমা, রক্তের দাগ রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়। বারিউলের দোকানের শাটার ও তালা আগুনে পুড়ে কালো হয়ে গেছে। দোকানের কাচ ভাঙা। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা কাচ ও বিভিন্ন জিনিসপত্র। দোকানের পাশের একটি জায়গা গাছের ডালপালা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, ওই স্থানেই বারিউলকে কোপানো হয়েছিল।
"টাকা ভাঙতির মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা আমার বাবাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। আমি এর বিচার চাই"
ঘটনার পর ভয়ে স্থানীয় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি। তবে কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ডিঙ্গাডোবা বাকীর মোড়সহ আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পুলিশ ওই এলাকায় একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে বলেও জানান। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হামলাকারীদের কয়েকজন সেখানে মাদক কিনতে এসেছিলেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সন্ধ্যার দিকে তাঁদের কয়েকজনকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমানের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় বারিউল ইসলামের মুদিদোকানে তিন/চারজন লোক এসে টাকা ভাঙতি চায়। এ নিয়ে বারিউল এবং তাঁর ছেলের সঙ্গে তাদের মারামারি বাঁধে। পরে রাত ১২টার পরে ৪০-৫০ জন লোক দেশি অস্ত্র নিয়ে এসে রাবিউলের মুদিদোকানে হামলা চালায় এবং এক পর্যায়ে বারিউলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন বারিউলকে দ্রুত হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী নগর, রাজপাড়া থানা, ডিঙ্গাডোবা বাকীর মোড়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বারিউল ইসলাম (৪০), তানভীর হোসেন, মোসা. দিলরুবা পারভীন, মো. গাজিউর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০-৫০ জন হামলাকারী, ২০০ টাকার নোট, ১০০ টাকার নোট (২টি), ৫০ টাকার নোট, ২০ জনের নাম উল্লেখসহ ২০-৩০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!