📌 চট্টগ্রামের পটিয়া বন্ধুসভা দুর্ঘটনায় পা হারানো ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইফতিকার হোসেন সাকিবের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছে। সাকিবের পরিবার দৈন্যদশায় পড়াশোনা ও উপার্জনের মধ্যে সংগ্রাম করছিল
চট্টগ্রামের পটিয়া বন্ধুসভা প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীকে অর্থসহায়তা প্রদান করেছে। ২৪ অক্টোবর এই সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় পা হারানো এই শিক্ষার্থীর নাম ইফতিকার হোসেন সাকিব।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের পটিয়া বন্ধুসভা দুর্ঘটনায় পা হারানো ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইফতিকার হোসেন সাকিবের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছে
- 📌 ১৩ অক্টোবর রংমিস্ত্রির কাজে গিয়ে সাকিব বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসেন এবং পা হারান
- 📌 সাকিবের পরিবার দৈন্যদশায় পড়াশোনা ও উপার্জনের মধ্যে সংগ্রাম করছিলেন
- 📌 চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন সাকিবের বাবা মো. ইদ্রিস বলেছেন, ‘আমাদের পরিবার গরিব, এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালানো সম্ভব নয়’
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের পটিয়ার দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকায় বসবাসকারী ইফতিকার হোসেন সাকিব হুলাইন ছালেহ নুর ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ছয় সদস্যের পরিবারের বড় সন্তান তিনি। পরিবারের দৈন্যদশায় ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি উপার্জনের দায়িত্ব নেন। অসুস্থ বাবার সংসারে সহায়তা করতে নবম শ্রেণি থেকেই রংমিস্ত্রির কাজ শেখেন। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন এবং বাড়ির ছাদে দেশি মুরগি পালন করেও নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাতেন।
১৩ অক্টোবর পটিয়ার একটি ভবনে রঙের কাজ করতে গিয়ে সাকিব ছাদের ওপর অসাবধানতাবশত ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসেন। প্রায় এক মিনিট বিদ্যুতের সংস্পর্শে থাকার পর এক পথচারী তাঁকে দেখতে পান। পথচারী রং করার দড়ি নাড়িয়ে সাকিবকে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শ থেকে বাঁচাতে গেলে তিনি ছিটকে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে পটিয়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করতে হয় পুরো বাঁ পা।
সাকিবের বাবা মো. ইদ্রিস বলেন, ‘আমার ছেলের পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। সে ঘরের ছাদে মুরগির খামার গড়ে তুলেছিল ক্ষুদ্র পরিসরে। পরে পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে এসবের পাশাপাশি রংমিস্ত্রির কাজ শুরু করে। ছেলের এমন অবস্থা দেখে আমরা দিশাহারা। আইসিইউতে চিকিৎসা করানো অনেক ব্যয়বহুল। আমরা গরিব মানুষ, এত খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’
"আমার ছেলের পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। সে ঘরের ছাদে মুরগির খামার গড়ে তুলেছিল ক্ষুদ্র পরিসরে। পরে পরিবারের অভাব–অনটনের কারণে এসবের পাশাপাশি রংমিস্ত্রির কাজ শুরু করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের পটিয়া, দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইফতিকার হোসেন সাকিব (শিক্ষার্থী), মো. ইদ্রিস (বাবা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার টাকা (সহায়তা), ১৯ বছর (বয়স), ১৩ অক্টোবর (দুর্ঘটনা), ১১ হাজার ভোল্ট (বিদ্যুৎ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!