📌 আবদুল্লাহপুর কাউন্সিলর কাশেম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করার পর তার জীবন ঝুঁকিতে পড়লে পল্টুদা ফেসবুক লাইভে হ্যাকিং দাবি করে বিরোধী দলকে গালাগালি করেন। কিন্তু কাশেম ব্যাপারীর মৃত্যুর খবর শুনে পল্টুদা বুঝতে পারেন যে তার নিজের জীবনও ঝুঁকিতে পড়েছে
আবদুল্লাহপুর এলাকার কাউন্সিলর কাশেম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি পোস্ট করার পর তার জীবন ঝুঁকিতে পড়লে এলাকাবাসী পল্টুদা এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। কাশেম ব্যাপারীর সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও পল্টুদা তার বিরুদ্ধে পোস্ট করার পর কাশেমের হাতে তার জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে শুরু করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কাশেম ব্যাপারীর উন্নয়ন প্রকল্পের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর তার বিরুদ্ধে ঝগড়া শুরু হয় এবং পল্টুদা তার জীবন ঝুঁকিতে পড়ে
- 📌 পল্টুদা ফেসবুক লাইভে হ্যাকিং দাবি করে বিরোধী দলকে গালাগালি করেন এবং কাশেম ব্যাপারীর নামে সুনাম করেন
- 📌 লাইভ চলাকালীন কাশেম ব্যাপারীর মৃত্যুর খবর পেলে পল্টুদা বুঝতে পারেন তার নিজের জীবনও ঝুঁকিতে পড়েছে
- 📌 পল্টুদা মারা যান কাশেম ব্যাপারীর হাতে, যিনি তার নিজের জীবনের অ্যাকসেস হারিয়ে ফেলেন
📰 বিস্তারিত
মোড়ের চায়ের দোকানে বসে পল্টুদা একটা লিকার-চা হাতে নিয়ে পা নাড়াচ্ছিলেন। তিনি ছিলেন কাশেম ব্যাপারীর বাঁহাত, যিনি এলাকার কাউন্সিলর। পল্টুদার মাধ্যমে কাশেমের বেশ কিছু খারাপ কাজের বাস্তবায়ন হত। কিন্তু কিছুদিন আগে থেকে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হয় যে কাশেম ব্যাপারীর সাথে পল্টুদার সম্পর্ক দহরম-মহরমের মতো হয়ে গেছে।
পল্টুদার পাশে বসে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “কী পল্টুদা, টেনশনে মনে হচ্ছে!” তিনি উত্তর দিলেন, “জীবন রিস্কে, টেনশন না কইরা কী করব?” আমি আরও জিজ্ঞাসা করলাম, “আবার ঝগড়া হয়েছে ঘরে?” তিনি বললেন, “আরে ধুর! হেই সব না।”
তিনি বললেন, “ভাই খুলে বলেন, সমস্যা কী হয়েছে? সমাধান আমি দেব।” পল্টুদা বললেন, “দুঃখের কথা কী কম? তোরা তো জানস, কাশেম ব্যাপারীর লগে আমার গোঁজামিল চলতাছে। হের সব অকাজের ফাইলপত্র আমার কাছে। গত রাতে জসিমের বিয়ায় গিয়ে, উল্টাপাল্টা খেয়ে আমি একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছি। ছবিতে ছিল কাশেম ব্যাপারীর প্রাইমারি স্কুলের দেয়াল বরাবর ‘এক নম্বর’ বাথরুমের কাজ। পোস্টে লিখেছিলাম, ‘কাশেম ব্যাপারীর উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে আবদুল্লাহপুর!’”
পল্টুদা বললেন, “পোস্ট তো সকালে হুঁশ হওয়ামাত্রই ডিলিট করেছি। কিন্তু মাঝরাতে ওই পোস্ট দেখে কাশেম ব্যাপারীর স্ট্রোক হয় এবং তিনি আইসিইউতে চলে যান। এখন যদি কাশেম পটল তুলে, তো পল্টু ভাই তো চৌদ্দ শিকের ভাত খাইব। ভাই মফিজ, আমারে তুই বাঁচা...”
পল্টুদার মাথায় একটা পরিকল্পনা এল। তিনি বললেন, “আমি ফেসবুক লাইভ করব। ওখানে বলবো যে আমার আইডি হ্যাক হয়েছে এবং বিরোধী দল আমার নামে পোস্ট করেছে। সাথে কাউন্সিলরের নামে ননস্টপ সুনাম করব। সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” আমি লাইভ করালাম। পল্টুদা বিরোধী দলকে গালাগালি করে কাশেমের নামে সুনাম করলেন। লাইভ চলাকালীন দেখলাম, নোটিফিকেশন এল—‘কাশেম ব্যাপারী (কাউন্সিলর আবদুল্লাহপুর) is watching your live’।
লাইভ শেষে আমরা খুশিতে ৩০ টাকার লোকাল বিরিয়ানি খাচ্ছিলাম। এমন সময় বন্ধু বুলবুলের ফোন এল। তিনি বললেন, “কাশেম ব্যাপারীর মৃত্যু হয়েছে।” পল্টুদা বুঝতে পারলেন যে তার নিজের জীবনের অ্যাকসেসও আর নেই। তিনি বললেন, “দাদা, জলদি এলাকার অ্যাকসেস ছাড়েন। নয়তো আপনার জিন্দেগি এমনভাবে হ্যাক হইব, হাজারবার রিস্টোর মারলেও আর ফিরে আসবে না।”
"পল্টুদা বিরোধী দলকে গালাগালি করে কাশেমের নামে যা সুনাম করল, এই সুনাম যদি কাশেম শোনে, তাহলে হয় ৬০ বছরের কাশেমের আয়ু ১০০ হবে, নয়তো খুশিতে আজই সে অক্কা পাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আবদুল্লাহপুর, মোড়ের চায়ের দোকান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পল্টুদা, কাশেম ব্যাপারী (কাউন্সিলর), আমি (রিপোর্টার), বুলবুল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর (কাশেমের বয়স), ১০০ বছর (আশা করা আয়ু), ৩০ টাকা (বিরিয়ানির দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!