📌 পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। অভিযোগে তিন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরের পরিবার থানায় অভিযোগ দিয়েছে এবং তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কিশোরের পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগে দৈহারী গ্রামের তিন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর ও নির্যাতিত হন; তার বাবার পকেট থেকে টাকা নিয়ে মোবাইল কিনে বাড়ি ফিরতে ভয় পেয়ে মসজিদে ঘুমিয়ে পড়েন
- 📌 অভিযোগে টুটুল, ইমরান ও আলমগীর নামের তিন ব্যক্তিকে জড়িত করা হয়েছে; তাদের মধ্যে টুটুল লোহার রড দিয়ে মারধর করেন
- 📌 ভুক্তভোগী কিশোর চিলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র; তার পরিবার তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে
- 📌 অভিযুক্ত টুটুল দাবি করেন, ২-৪ পিটুনি দিয়েছেন এবং কিশোরকে ইউপি সদস্য লিটন মৃধার কাছে তুলে দিয়েছেন
- 📌 থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসান জানান, তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার চিলতলা গ্রামের মৃধা বাড়ির ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়। ঘটনায় অভিযোগ করেছেন কিশোরের পরিবারের সদস্যরা। সূত্রে জানা যায়, কিশোর তার বাবার পকেট থেকে টাকা নিয়ে একটি মোবাইল কিনে নেন। পরে বাবার ভয়ে রাতে বাড়ি ফিরতে না পেরে বাড়ির সামনে মসজিদে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে পাশের ফার্মের মালিক টুটুল তাকে জাগিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর শুরু করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরের দাবি, টুটুল লোহার রড দিয়ে মারধর করেন। তার সঙ্গে ছিলেন ইমরান ও আলমগীর। মারধরের পর কিশোর ফার্মে ঢোকার কথা স্বীকার করলেও মুরগি চুরি করেননি বলে জানান। স্বীকারোক্তির পর তাকে ইউপি সদস্য লিটন মৃধার কাছে পাঠানো হয়। পরে স্বজনেরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর মা নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে তার বাবার পকেট থেকে টাকা নিয়ে মোবাইল কিনেছিল। পরে বাবার ভয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। রাতে ছেলেকে মারধর করা থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।’
অভিযুক্ত টুটুল বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে আমার ফার্ম থেকে মুরগি এবং গাছের সুপারি চুরি হচ্ছিল। ঘটনার রাতে বাড়ির সামনের মসজিদে ছেলেটাকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তখন সে ফার্মে ঢোকার কথা স্বীকার করে। আমি ছেলেটাকে ২-৪ পিটুনি দিয়েছি। পরে তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হাতে তুলে দিয়েছি।’
ইউপি সদস্য লিটন মৃধা বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেটিকে দেখতে পাই। তবে আমি তাকে মারধর করতে দেখিনি।’
"আমার নাতিকে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে অমানবিকভাবে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
— বাবুল মৃধা, ভুক্তভোগী কিশোরের দাদা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেছারাবাদ উপজেলা, পিরোজপুর; চিলতলা গ্রাম, দৈহারী গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী (চিলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়), নাসিমা বেগম, বাবুল মৃধা, টুটুল, ইমরান, আলমগীর, লিটন মৃধা, মো. মেহেদী হাসান (থানার অফিসার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ বছর (ভুক্তভোগী কিশোরের বয়স), ২-৪ পিটুনি (টুটুলের দাবি), ১৬ বছর (অন্য ঘটনার সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!