📌 পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজির হাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে গত ২০-২৫ বছরে দুই শতাধিক কবর, কৃষিজমি ও বসতভিটা হারিয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাতে বেড়িবাঁধের দুটি অংশ নদীতে ডুবে পানি ঢুকে পড়ে, কবরস্থান ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। স্থানীয়রা মানববন্ধন করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজির হাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে গত ২০ থেকে ২৫ বছরে দুই শতাধিক কবর, কৃষিজমি ও বসতভিটা হারিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের দুটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে পানি ঢুকে পড়ায় এলাকার কবরস্থান, কৃষিজমি ও বসতঘর প্লাবিত হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বুধবার দুপুরে মানববন্ধন করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পটুয়াখালী তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে গত ২০-২৫ বছরে দুই শতাধিক কবর, কৃষিজমি ও বসতভিটা হারায়
- 📌 মঙ্গলবার রাতে বেড়িবাঁধের দুটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে পানি ঢুকে পড়ে, এলাকার ১৫-২০ বছর পুরনো কবরস্থান প্লাবিত হয়
- 📌 বুধবার দুপুরে হাজির হাট রক্ষার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন
- 📌 স্থানীয় নিজামউদ্দিন সুজালক বলেন, ‘১৫-২০ বছর ধরে তেঁতুলিয়া নদী আমাদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থানও গ্রাস করেছে’
- 📌 পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কোনো বিবৃতি দেননি
- 📌 প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, ‘নদীতে বিলীন বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতের কারণে দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজির হাট এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের দুটি অংশে ফাটল দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাঁধের ওই অংশ সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভাঙনের তীব্রতা দেখে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। জননিরাপত্তায় থানা-পুলিশ ও নৌ পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রাতে বেড়িবাঁধের দুটি অংশ নদীতে বিলীন হওয়ার পর পানি ঢুকে কৃষিজমি, কবরস্থান ও কয়েকটি বসতঘর আংশিক প্লাবিত হয়। বুধবার সকালে স্থানীয়রা পানিতে আটকে পড়া পরিবারগুলোর মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেন। এ সময় একটি কবরস্থান থেকে সম্প্রতি দাফন করা দুটি মরদেহ অন্যত্র নিয়ে পুনরায় দাফন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা নিজামউদ্দিন সুজালক বলেন, ‘১৫-২০ বছর ধরে হাজির হাট এলাকা তেঁতুলিয়ার গ্রাসে ছোট হয়ে গেছে। তেঁতুলিয়া নদী আমাদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থানও গ্রাস করেছে। গত রাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে গভীর রাতে পানি ঢুকে পড়ে। বুধবার সকালে একটি কবরস্থান থেকে দাফন করা দুটি মরদেহ অন্যত্র নিয়ে পুনরায় দাফন করা হয়েছে।’
বুধবার দুপুরে হাজির হাট রক্ষার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। তাঁরা দাবি করেন, গত ২০ থেকে ২৫ বছরে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে তাঁদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থান, কৃষিজমি ও বসতভিটা বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনের কারণে হাজির হাট ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। নিজামউদ্দিন সুজালক আরও বলেন, ‘নদীভাঙন নিয়ে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বহুবার মানববন্ধন করেছি। আজ আমাদের শেষ আশ্রয়স্থলও হারানোর পথে। আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই।’
"১৫-২০ বছর ধরে হাজির হাট এলাকা তেঁতুলিয়ার গ্রাসে ছোট হয়ে গেছে। তেঁতুলিয়া নদী আমাদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থানও গ্রাস করেছে। গত রাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে গভীর রাতে পানি ঢুকে পড়ে। বুধবার সকালে একটি কবরস্থান থেকে দাফন করা দুটি মরদেহ অন্যত্র নিয়ে পুনরায় দাফন করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাজির হাট, দশমিনা উপজেলা, পটুয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিজামউদ্দিন সুজালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০-২৫ বছর (কবর হারানো), ৮ সেপ্টেম্বর (ভাঙনের তারিখ), ১৫-২০ বছর (কবরস্থান হারানো)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!