📌 পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজীরহাট লঞ্চঘাটের সংযোগ জেটি ভেঙে পড়ায় যাত্রীদের কাদা-পানিতে হাঁটতে হচ্ছে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সংস্কার কাজে দেরি করায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজীরহাট লঞ্চঘাটে সংযোগ জেটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ায় প্রতিদিন হাজারো যাত্রী কাদা-পানিতে হাঁটতে বাধ্য হয়ে পড়ছেন। নদীর তীরে খোলা ও অনিরাপদ স্থানে লঞ্চ নোঙর করা হচ্ছে, যা নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাজীরহাট লঞ্চঘাটের সংযোগ জেটি পুরোপুরি ভেঙে নদীতে ডুবে গেছে, ফলে টার্মিনাল থেকে সরাসরি লঞ্চে ওঠানামা করা সম্ভব নয়।
- 📌 কাদা-পানিতে হাঁটতে বাধ্য যাত্রীদের — বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের — যাতায়াতের সময় কোমর-হাঁটু গভীর কাদা-পানিতে পা রাখতে হয়।
- 📌 জোয়ার-ভাটার সময় ঝুঁকি বেড়ে যায় — ভাটার সময় তীর থেকে লঞ্চের দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় লঞ্চে উঠতে গিয়ে ভারসাম্য হারানোর ঘটনা ঘটছে।
- 📌 দুর্ভোগে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ভোলা ও চরফ্যাশনসহ সহস্রাধিক যাত্রী — তাদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী, রোগী ও পণ্য পরিবহনকারী।
- 📌 কর্তৃপক্ষের দেরি — বিআইডব্লিউটিএ জানায়, জেটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে, তাই দ্রুত সংস্কার সম্ভব নয়।
- 📌 ইউএনও আশ্বাস — দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেছেন, হাজীরহাট, বাঁশবাড়িয়া ও আউলিয়াপুর পন্টুন সংস্কারের জন্য দ্রুত টেন্ডার দেওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজীরহাট লঞ্চঘাট বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালিত টার্মিনালের সংযোগ জেটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ায় প্রতিদিন হাজারো যাত্রী কাদা-পানিতে হাঁটতে বাধ্য হয়ে পড়ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো জেটিটি ভেঙে নদীতে ডুবে গেছে। ফলে টার্মিনাল থেকে সরাসরি লঞ্চে ওঠানামা করা সম্ভব নয়। বাধ্য হয়েই টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে নদীর তীরে খোলা ও অনিরাপদ স্থানে লঞ্চ নোঙর করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের হাঁটু বা কোমর সমান কাদা-পানি পেরিয়ে লঞ্চে উঠতে হচ্ছে।
জোয়ারের সময় কোনোমতে তীরের কাছাকাছি লঞ্চ ভেড়ানো যায়, কিন্তু ভাটার সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে পড়ে। পানি কমে গেলে তীর থেকে লঞ্চের দূরত্ব অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী ব্যাগ হাতে জুতা খুলে কিংবা কাপড় গুটিয়ে কাদা-পানি পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন যাত্রীরা।
হাজীরহাট লঞ্চঘাট উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌযোগাযোগ কেন্দ্র। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে ঢাকা, বরিশাল, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ভোলা, চরফ্যাশন, মনপুরা এবং স্থানীয় চরাঞ্চলের সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। পণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও নানা প্রয়োজনীয় কাজে প্রতিদিন হাজারও মানুষ এই ঘাটের ওপর নির্ভর করে।
ঢাকাগামী যাত্রী জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘সংযোগ জেটি না থাকায় লঞ্চে ওঠানামা করা খুবই কষ্টের। বিশেষ করে রাত বা ভোরে যাতায়াত করা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।’ আরেক যাত্রী সালমা জাহান বলেন, ‘কোলে শিশু নিয়ে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। জরুরি ভিত্তিতে নতুন জেটি নির্মাণ করা দরকার।’ ভোলার চরফ্যাশনগামী যাত্রী আনোয়ার সিকদার বলেন, ‘কাঠের সরু সিঁড়ি দিয়ে লঞ্চে উঠতে গিয়ে অনেক সময় যাত্রীদের ভারসাম্য হারাতে দেখা যায়। সঙ্গে মালপত্র থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।’
এমভি পূবালী-৬ লঞ্চের চালক মনির হোসেন বলেন, ‘টার্মিনাল ছাড়া উন্মুক্ত স্থানে লঞ্চ ভিড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। জেটিটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার।’ ঘাটের ইজারাদার সাওফাত হোসেন বলেন, ‘ঘাটটি অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভাঙা জেটির কারণে প্রতিদিন হাজারও মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
"এলাকাটি নদীভাঙনপ্রবণ হওয়ায় নিচের মাটি সরে গিয়ে এবং পর্যাপ্ত তীররক্ষা বাঁধ না থাকায় জেটিটি ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি প্রকৌশল শাখাকে জানানো হয়েছে। তবে নতুন জেটি নির্মাণ টেন্ডার প্রক্রিয়ার কারণে সময়সাপেক্ষ।"
বিআইডব্লিউটিএ পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. জাকী শাহরিয়ার বলেছেন।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘আমি সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছি। এটি উপজেলার একমাত্র বাণিজ্যিক পন্টুন হওয়ায় এটি সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত টেন্ডারের মাধ্যমে হাজীরহাট, বাঁশবাড়িয়া ও আউলিয়াপুর পন্টুন সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাজীরহাট লঞ্চঘাট, দশমিনা উপজেলা, পটুয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাকির হোসেন হাওলাদার, সালমা জাহান, আনোয়ার সিকদার, মনির হোসেন, সাওফাত হোসেন, মো. জাকী শাহরিয়ার, মাহমুদ হাসান মৃধা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সহস্রাধিক যাত্রী, হাজারো যাত্রী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!