📌 পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে 'ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ'-এর ডাকে অবরোধ শুরু হয়। দুপুর ১২টায় অবরোধ শেষ হওয়ায় সড়ক-নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়। অবরোধকালে টায়ার জ্বালানো ও গাছের গুঁড়ি ফেলা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় আজ শনিবার ভোরে শুরু হওয়া অবরোধ কর্মসূচি দুপুর ১২টায় শিথিল হয়। ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে এই কর্মসূচি শুরু হয়, যা সাজেকবাসীদের দাবি ও সাজেক এলাকায় লাঠিপেটা ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে পরিচালিত হয়। অবরোধ শেষ হওয়ায় দু’জেলায় সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে যায়। পুলিশ জানায়, অবরোধ চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তবে বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয় ভোর ৫টায়, দুপুর ১২টায় শেষ হয়
- 📌 অবরোধকালে টায়ার জ্বালানো ও গাছের গুঁড়ি ফেলা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়, কিন্তু কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি
- 📌 খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী ব্রিজ, স্বনির্ভর এলাকা ও দীঘিনালা সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীরা ব্যারিকেড দিয়েছিল
- 📌 রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে অবরোধের কারণে বাস চলাচল বন্ধ ছিল, দুপুর ১২টার পর শুরু হয়
- 📌 নৌপথে অবরোধের কোনো প্রভাব পড়েনি, লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক ছিল
- 📌 অবরোধ শিথিল করার পর সাজেকবাসীরা আরও কঠোর কর্মসূচির সম্ভাবনা উত্থাপন করে
📰 বিস্তারিত
খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় অবরোধ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর সকাল থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। অবরোধ শেষ হওয়ার পর খাগড়াছড়ি শহরের নারকেলবাগান এলাকায় চট্টগ্রাম যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন সুমাদ্রী চাকমা। তিনি বলেন, অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম যেতে পারেননি, কিন্তু অবরোধ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার খবর পেয়ে বেলা ১টার পর চট্টগ্রামের বাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। অন্যদিকে, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য পানছড়ি থেকে খাগড়াছড়িতে আসা শামিমা আক্তার অবরোধ শেষ হওয়ার পর সিএনজি অটোরিকশায় এসেছেন।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায় কিসলু জানান, অবরোধকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে শহর ও শহরের বাইরের কিছু এলাকায় অবরোধকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিংয়ের চেষ্টা করেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত হলে অবরোধকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যেত। অবরোধকালে চেঙ্গী ব্রিজ, স্বনির্ভর এলাকা, দীঘিনালা সড়কের কৃষি গবেষণা এলাকা এবং গুইমারা জোড়াব্রিজ এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। এছাড়া সাপমারা এলাকায় গাছ কেটে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল।
রাঙামাটি শহরের বনরূপা ও কল্যাণপুর বাজারসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কেও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করছিল। তবে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে সকাল থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। সাপছড়ি খামারপাড়া ও কুতুকছড়ি ধর্মঘর এলাকায় অবরোধকারীরা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করেছিলেন। কুতুকছড়ি হাফ বাজার থেকে ধর্মঘর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলও বের করা হয়েছিল। দুপুর ১২টার পর এই সড়কেও যান চলাচল শুরু হয়।
রাঙামাটি-চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুপ বলেন, অবরোধের কারণে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। অবরোধ তুলে নেওয়ায় বাস চলাচল শুরু হলেও যাত্রী সংখ্যা কম। অন্যদিকে, রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে জানান, নৌপথে অবরোধের কোনো প্রভাব পড়েনি। লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
"আমাদের আহ্বানে ডাকা অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হয়েছে। ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মসূচি ছিল। সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি ও অধিকার উপেক্ষা করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।" — উষাতন চাকমা, ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, চেঙ্গী স্কয়ার, নারকেলবাগান, চেঙ্গী ব্রিজ, স্বনির্ভর এলাকা, দীঘিনালা সড়ক, গুইমারা জোড়াব্রিজ, সাপমারা, সাপছড়ি খামারপাড়া, কুতুকছড়ি ধর্মঘর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উষাতন চাকমা, মো. কায় কিসলু, শামিমা আক্তার, সুমাদ্রী চাকমা, মো. ইউছুপ, বিশ্বজিৎ দে, মুহম্মদ আবদুর রকিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫টা (অবরোধ শুরু), ১২টা (অবরোধ শেষ), ১২টার পর (চলাচল শুরু), ৯৩৩ (পর্যটক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!