📌 পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় জৈব বালাইনাশক 'এম পেড' প্রয়োগের পর কৃষক ইসলাম উদ্দিনের তিন বিঘা করলা বাগান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণে আবাদ করা জমিতে ফসলের ক্ষতির দায় নিতে চাইছেন না বিক্রেতা ও কোম্পানি প্রতিনিধি। স্থানীয় কৃষকরা সরকারকে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানাচ্ছেন
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ঋণের বোঝায় আবাদ করা জমিতে জৈব বালাইনাশক প্রয়োগের পর কৃষক ইসলাম উদ্দিনের তিন বিঘা করলা বাগান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফসলনাশের দায় নিতে চাইছেন না বিক্রেতা আনিছুর রহমান এবং কোম্পানি প্রতিনিধি। স্থানীয় কৃষকরা সরকারকে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর তেলিপাড়া এলাকার কৃষক ইসলাম উদ্দিনের তিন বিঘা করলা বাগান জৈব বালাইনাশক 'এম পেড' প্রয়োগের পর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে
- 📌 ১ হাজার ১০০ টাকায় কেনা বালাইনাশকটি ব্যবহার করার পর গাছের ডগা মরে যাওয়ায় ফলন হারিয়ে গেছে
- 📌 বিক্রেতা আনিছুর রহমান দাবি করেছেন, কৃষক ঠিকভাবে স্প্রে করেননি, কিন্তু ইসলাম উদ্দিনের বাগানেই এলাকায় সর্বোচ্চ ফলন ছিল
- 📌 কোম্পানি প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগের পরও পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিনিধি ফোন ধরেননি
- 📌 স্থানীয় কৃষক রুবেল আলী ও আব্দুল কুদ্দুস দাবি করেছেন, বালাইনাশক বিক্রেতারা কৃষকদের নানা কথা বুঝিয়ে পণ্য বিক্রি করে, কিন্তু ক্ষতির দায় নিতে চান না
📰 বিস্তারিত
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর তেলিপাড়া এলাকার কৃষক ইসলাম উদ্দিনের তিন বিঘা জমিতে আবাদ করা করলা বাগান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, ফকিরগঞ্জ বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান থেকে কেনা 'এম পেড' নামের জৈব বালাইনাশকটি ব্যবহার করার পরই ফসল নষ্ট হয়েছে।
ইসলাম উদ্দিন বলেন, গত রোববার তিনি নিয়ম অনুযায়ী বালাইনাশকটি স্প্রে করেছিলেন। পরদিন থেকেই গাছগুলো বিবর্ণ হতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার জমিতে গিয়ে দেখেন, প্রায় তিন বিঘা জমির করলার গাছ ঝলসে গেছে। তিনি বলেন, 'এম পেড' নামের বালাইনাশক দেওয়ার পরই আমার তিন বিঘা জমির করলার বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে আর ফলন হবে না, গাছ মরে গেছে। বাগান করতে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। ধারদেনা করে আবাদ করেছিলাম। এখন এই লোকসান সামলাব কীভাবে?'
বিক্রেতা আনিছুর রহমান দাবি করেছেন, এই বালাইনাশক আরও অনেক কৃষক নিয়েছেন এবং তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি দাবি করেছেন, 'নিশ্চয়ই তিনি ঠিকভাবে স্প্রে করতে পারেননি'। তবে স্থানীয় কৃষক রুবেল আলী বলেছেন, 'আমাদের এলাকায় ইসলাম উদ্দিনের বাগানেই সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছিল। অথচ এই বালাইনাশক দেওয়ার পর পুরো বাগান নষ্ট হয়ে গেছে।'
অন্য কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা এলাকায় এসে কৃষকদের নানা কথা বুঝিয়ে পণ্য কিনতে উৎসাহিত করেন। কিন্তু এসব পণ্য ব্যবহারের পর কোনো কৃষকের ক্ষতি হলে প্রতিনিধিরা খোঁজ পাওয়া যায় না। ইসলাম উদ্দিনের বাগানের ক্ষতি দেখে স্থানীয় কৃষকরা উদ্বিগ্ন। তারা দাবি করেছেন, সরকারকে এমন বালাইনাশকের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
"এম পেড' নামের বালাইনাশক দেওয়ার পরই আমার তিন বিঘা জমির করলার বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন এই লোকসান সামলাব কীভাবে?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মির্জাপুর, তেলিপাড়া, আটোয়ারী উপজেলা, পঞ্চগড়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসলাম উদ্দিন, রুবেল আলী, আব্দুল কুদ্দুস, আনিছুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ১০০ টাকা (বালাইনাশক দাম), তিন বিঘা (নষ্ট জমি), দেড় লাখ টাকা (আবাদ খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!