📌 পদ্মার বুকে অবস্থিত ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’খ্যাত মিডল চরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকলেও মানুষের জীবনমান অত্যন্ত দুর্বিষহ। চিকিৎসা, শিক্ষা, বাজার ও বাসস্থানের অভাবসহ নানা সংকটে ভুগছেন সাত শতাধিক বাসিন্দা। বন্যা ও দুর্যোগে আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন তারা
রাজশাহীর পবা উপজেলাধীন হরিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত পদ্মার বুকে অবস্থিত মিডল চরকে অনেকে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে অভিহিত করেন। প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ও চার কিলোমিটার প্রস্থের এই চরে রয়েছে প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০টি বসতি। এখানে সাত শতাধিক মানুষের পাশাপাশি চার হাজারের বেশি গরু, পাঁচ শতাধিক মহিষ ও অসংখ্য ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। ধান, পাট, গম ও কালাই চাষ হলেও চরবাসীর জীবনমান অত্যন্ত দুর্বিষহ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীর পদ্মার মিডল চরকে অনেকে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে ডাকেন
- 📌 প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ও চার কিলোমিটার প্রস্থের চরে রয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০টি বসতি
- 📌 সাত শতাধিক মানুষের বসবাসের পাশাপাশি রয়েছে চার হাজারের বেশি গরু ও পাঁচ শতাধিক মহিষ
- 📌 চরে কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ফার্মেসি নেই; জরুরি চিকিৎসার জন্য নদী পার হয়ে শহরে যেতে হয়
- 📌 মৃতদেহ দাফনের জন্য নদীর ওপারে নিয়ে যেতে হয়; নিজ ভূমিতে দাফনের ব্যবস্থা নেই
- 📌 চরে কোনো মুদি দোকান বা কাঁচাবাজার না থাকায় দৈনন্দিন পণ্য কিনতে নদী পার হয়ে যেতে হয়
- 📌 ভাদ্র-আশ্বিন মাসে বন্যায় পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়; দেড় থেকে দুই মাস স্থায়ী হয় বন্যা
- 📌 চরে একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে ২৪০ শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক
- 📌 চরে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ভরসা সোলার প্যানেল
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর পবা উপজেলাধীন হরিয়ান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত মিডল চর পদ্মার বুকে অবস্থিত। প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ও চার কিলোমিটার প্রস্থের এই চরে রয়েছে প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০টি বসতি। এখানে সাত শতাধিক মানুষের পাশাপাশি চার হাজারের বেশি গরু, পাঁচ শতাধিক মহিষ ও অসংখ্য ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। ধান, পাট, গম ও কালাই চাষ হলেও চরবাসীর জীবনমান অত্যন্ত দুর্বিষহ।
চরের অধিবাসীদের প্রধান সমস্যা হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাব। এখানে কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ফার্মেসি নেই। ফলে জরুরি রোগী বা সাপে কাটা মানুষকে নদী পার হয়ে শহরে নেওয়ার পথেই অনেকের মৃত্যু হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও আশঙ্কাজনক রোগীদের ক্ষেত্রে রাতে বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যাতায়াত ও সময়ক্ষেপণ প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
মৃতদেহ দাফনের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বাসিন্দারা সাধারণত নদীর ওপারে খোজাপুর এবং দাসমারি এলাকার কবরস্থান ব্যবহার করেন। নিজ ভূমিতে দাফনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মৃত্যুর পরও তাদের প্রিয়জনদের স্বদেশ ভূমিতে সমাহিত করা সম্ভব হয় না। এছাড়া চরে কোনো মুদি দোকান বা কাঁচাবাজার না থাকায় দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য বাসিন্দাদের নদী পার হয়ে ওপারে ‘সাহেব বাজার’ বা ‘কাটাখালি’ এলাকায় যেতে হয়। খারাপ আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি প্রতিকূল থাকলে বাজারে যাওয়া সম্ভব হয় না।
ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে চরে বন্যা দেখা দেয়, যা প্রায় দেড় থেকে দুই মাস স্থায়ী হয়। পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায় এবং আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে গৃহহীন হয়ে পড়া বাসিন্দাদের সহায়-সম্বল ও গবাদিপশু নিয়ে দূরের উঁচু স্থান বা মেইনল্যান্ডে আশ্রয় নিতে হয়। বন্যার পানিতে ধান, পাট ও কালাইসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় চরের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে।
চরের শিক্ষা ব্যবস্থাও অত্যন্ত অপ্রতুল। এখানে একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে ২৪০ শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। যাতায়াত সমস্যার কারণে ওপার থেকে আসা শিক্ষকরা নিয়মিত বা পর্যাপ্ত সময় পাঠদান করতে পারেন না। অন্যদিকে প্রাথমিকে পড়া শেষ হলেও চরে উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় অধিকাংশ শিশুর শিক্ষাজীবন থেকে যায়।
চরে জাতীয় গ্রিডের কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ভরসা সোলার প্যানেল। তবে এই সোলার প্যানেল সবাই পায় না। অনেকের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে থাকায় বা মেঘলা দিনে আলো না পাওয়ায় অন্ধকারে থাকতে হয়। সোলার দিয়ে শুধু আলো জ্বালানো বা মোবাইল চার্জ দেওয়ার মতো সামান্য কাজ হলেও চরম গরমে বা রাতে সাপের আতঙ্কে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
"চরের মানুষেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অধিকারী হলেও জীবনমান উন্নয়নে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। চিকিৎসা, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহীর পবা উপজেলা, হরিয়ান ইউনিয়ন
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: চরবাসী, স্থানীয় ইউপি সদস্য
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪০-১৫০টি বসতি, সাত শতাধিক মানুষ, চার হাজারের বেশি গরু, পাঁচ শতাধিক মহিষ, ২৪০ শিক্ষার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!