📌 পদ্মার পলিমাটির রাজবাড়ীতে জ্বালানি তেল, শ্রমিক মজুরি ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণ হলেও ফসল বিক্রিতে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রাখায় ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে
পদ্মার পলিমাটির রাজবাড়ীতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে চাষাবাদের খরচ দ্বিগুণ হলেও ফসল বিক্রিতে ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশঙ্কা কমে যাচ্ছে। জ্বালানি তেল, শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। ফলে কৃষকরা ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারানোর আশঙ্কা করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজবাড়ীর কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, কিন্তু ফসল বিক্রিতে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না
- 📌 জ্বালানি তেল, শ্রমিক মজুরি ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় সেচ ও চাষাবাদের খরচ বেড়েছে
- 📌 কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রাখলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে
- 📌 কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, সার ও কীটনাশকের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা হলেও কৃষকদের দাবি পূরণ হয়নি
- 📌 রাজবাড়ীর এক নারী কৃষক মরিয়ম বলেছেন, “গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু ফসল বিক্রিতে ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না”
📰 বিস্তারিত
পদ্মার পলিমাটির রাজবাড়ী জেলায় ধান, পাট, সবজি ও মৌসুমি ফসলের চাষাবাদে ব্যস্ত থাকা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে বীজ বপন, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সেচ এবং ফসল কাটা — প্রতিটি ধাপেই আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সেচযন্ত্র ও কৃষিযন্ত্র পরিচালনার খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিও মোট উৎপাদন ব্যয়ে বড় প্রভাব ফেলছে।
কৃষকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে একই জমিতে চাষ করতে উল্লেখযোগ্য হারে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিঘাপ্রতি উৎপাদন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ বাজারে ফসলের দাম উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ছে না। ফলে ভালো ফলন হলেও শেষ পর্যন্ত লাভের বদলে লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
রাজবাড়ীর এক নারী কৃষক মরিয়ম বলেন, “এবার গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিটি জিনিসের দাম বেশি। শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে। জ্বালানির দামও বেশি। কিন্তু ফসল বিক্রি করতে গেলে ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, কৃষক যেন তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান।”
কৃষকদের মতে, শুধু কৃষি উপকরণের দাম কমালেই তাদের সমস্যা দূর হবে না। উৎপাদনের পর ফসলের ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ বেশি খরচ করে ফসল ফলানোর পর বাজারে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হলে কৃষকের পুরো বছরের শ্রম ও বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এতে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
"বিগত বছরের চেয়ে এ বছর কীটনাশক পর্যাপ্ত আছে। নির্ধারিত ডিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামে নেওয়ার জন্য কৃষকদের বলা হচ্ছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।"
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সার ও কীটনাশকের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষকদের নির্ধারিত ডিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে কৃষি উপকরণ কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাজারে কেউ অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিগত বছরের চেয়ে এ বছর কীটনাশক পর্যাপ্ত আছে। নির্ধারিত ডিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামে নেওয়ার জন্য কৃষকদের বলা হচ্ছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজবাড়ী জেলা, পদ্মার পলিমাটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মরিয়ম (নারী কৃষক), ডা. মো. শহিদুল ইসলাম (জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: উৎপাদন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!