📌 পদ্মা নদীর বন্যা রাজশাহীর পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলায় ৩০৯.৫৯ হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পটোল, শসা, করলা, লাউ, টমেটো ও কপিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি লক্ষণীয় হলেও সরকারি সহায়তা এখনো পৌঁছেনি
পদ্মা নদীর বন্যা রাজশাহী জেলার পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলায় ব্যাপক ফসল ক্ষতি করেছে। পানি জমে পটোল, শসা, করলা, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি লক্ষণীয় হলেও সরকারি সহায়তা এখনো পৌঁছেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মা নদীর বন্যা রাজশাহীতে ৩০৯.৫৯ হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার মধ্যে সবজি ৪৫.২৪ হেক্টর, মাষকলাই ৮৫.৩৯ হেক্টর এবং পেঁপে ২৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত
- 📌 পবা উপজেলার কৃষক আকবর আলী বলেছেন, তাঁর এক বিঘা পটোল, ১০ কাঠা শসা ও পাঁচ কাঠা ঝিঙের আবাদ পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 কৃষক মো. নজরুল ইসলামের হিসাব অনুযায়ী, টমেটোতে প্রায় ১০ হাজার টাকা, পটোলে ৩০ হাজার, করলায় ১০ হাজার, শসায় প্রায় ২০ হাজার, লাউয়ে ১৫ হাজার ও কপিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল
- 📌 কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, কৃষকদের প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল রক্ষা করতে পেরেছে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ নিরূপণ চলছে
- 📌 উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জহুরুল হক বলেছেন, পানি সরিয়ে ও জমির আল উঁচু করে কৃষকরা প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল রক্ষা করতে পেরেছে
📰 বিস্তারিত
পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় রাজশাহীর পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চরে আবাদ করা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের মতে, কয়েক দিন পানিতে ডুবে থাকায় পটোল, শসা, করলা, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো সহ বিভিন্ন সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সব ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। অনেক কৃষক পানি সরিয়ে ও জমির আল উঁচু করে ফসলের বড় একটি অংশ রক্ষা করতে পেরেছেন।
পবা উপজেলার আলিমগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অনেক কৃষকের আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোর গাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। খেতে থাকা পটোল, করলা, লাউ, শসা সহ বিভিন্ন ফসল পচে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক আকবর আলী বলেছেন, তাঁর এক বিঘা পটোল, ১০ কাঠা শসা ও পাঁচ কাঠা ঝিঙের আবাদ পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন যেটুকুন পটোলের গাছ ভালো আছে, সেটুকুনও তো মরে যাচ্ছে। তাহলে তো সবই শেষ। আমরা কী করে বাঁচব?’
কসবা এলাকার কৃষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, তাঁর খেতে প্রায় সাত দিন পানি জমে ছিল। এতে তাঁর প্রায় ১০ কাঠা করলা, ১০ কাঠা শসা, ১০ কাঠা লাউ, দেড় বিঘা বিভিন্ন ধরনের কপি, ১৫ কাঠা পটোল ও পাঁচ কাঠা টমেটোর আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নজরুল ইসলামের হিসাব অনুযায়ী, টমেটোতে প্রায় ১০ হাজার টাকা, পটোলে ৩০ হাজার, করলায় ১০ হাজার, শসায় প্রায় ২০ হাজার, লাউয়ে ১৫ হাজার ও কপিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের লোকজন এসে জমি দেখে গেলেও এখনো কোনো সহায়তা পাননি।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলায় হঠাৎ বন্যাকবলিত বিভিন্ন ফসলের জমির পরিমাণ মোট ৩০৯.৫৯ হেক্টর। এর মধ্যে সবজির ক্ষতি হয়েছে ৪৫.২৪ হেক্টর, মাষকলাইয়ের ৮৫.৩৯ হেক্টর, রোপা আমনের ১১.৪৬ হেক্টর, রোপা আউশের ২৫ হেক্টর, হলুদ ১০২ হেক্টর, পেঁপে ২৫ হেক্টর, পেয়ারা ১০ হেক্টর এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা ৫.৫০ হেক্টর।
"পানি সরিয়ে ও জমির আল উঁচু করে কৃষকরা প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল রক্ষা করতে পেরেছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ চলছে। কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে।"
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জহুরুল হক বলেছেন, উজান থেকে পদ্মার পানি বাড়ার কারণে চরটি ডুবে যায়। এতে পটোল, শসা, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা নদীর আশপাশের এলাকা এবার প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করার কাজ চলছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী জেলার পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আকবর আলী, মো. নজরুল ইসলাম, মো. জহুরুল হক, মোস্তাফা কামাল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০৯.৫৯ হেক্টর (ক্ষতিগ্রস্ত জমি), ১০ হাজার টাকা (টমেটো), ৩০ হাজার টাকা (পটোল), ৬০ শতাংশ (ফসল রক্ষা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!