📌 পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ৫৫ বছর বয়সী মুন্নি খাতুনের সঙ্গে তার ৩২ বছর বয়সী ছেলে সাগর হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধে মানসিক সংকটের চিহ্ন দেখা দিয়েছে। মা অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ছেলে তাকে নিজের সঙ্গে থাকতে রাজি হননি এবং শুনানিতে বলেছেন, 'মায়ের খরচ দেব, কিন্তু একই বাড়িতে থাকতে চাই না'। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউএনওর মধ্যস্থতায়ও সমাধান হয়নি
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নে একটি মানবিক সংকটের চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। অসুস্থ মা মুন্নি খাতুনের সঙ্গে তার ৩২ বছর বয়সী ছেলে সাগর হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধে মানসিক সংকটের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মা-ছেলের মধ্যে এই বিরোধের মূল কারণ হিসেবে আর্থিক সমস্যা নয়, বরং পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৫ বছর বয়সী মুন্নি খাতুনের সঙ্গে তার ৩২ বছর বয়সী ছেলে সাগর হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধে মানসিক সংকটের চিহ্ন দেখা দিয়েছে।
- 📌 শুনানিতে মুন্নি খাতুন বলেছিলেন, 'আমি তোর সাথে যাবোরে, ও সোনার বাজানরে। আমি আর কিছু চাই না'।
- 📌 সাগর হোসেন মায়ের খরচ দিতে রাজি হলেও তাকে নিজের সঙ্গে থাকতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন, 'আমার সঙ্গে থাকতে দিলে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না'।
- 📌 স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, মা ও ছেলের বিরোধের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও অভিমান।
- 📌 মুন্নি খাতুনের নিজের নামেও প্রায় ১০ লাখ টাকার জমি রয়েছে, তবে সাগর তাকে নিজের সঙ্গে থাকতে রাজি হননি।
📰 বিস্তারিত
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেনের মা মুন্নি খাতুন (৫৫) অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তার সঙ্গে থাকতে চান। কিন্তু সাগর তাকে নিজের সঙ্গে থাকতে রাজি হননি। গত বৃহস্পতিবার ইউএনও সেলিম আহমেদের কার্যালয়ে শুনানিতে মুন্নি খাতুনের আকুতিতে সাগরকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি অনড় ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'মাকে আমার সঙ্গে থাকতে দিলে আমি আত্মহত্যা করব'।
মুন্নি খাতুনের আকুতিতে তিনি বলেছিলেন, 'আমি তোর সাথে যাবোরে, ও সোনার বাজানরে। আমি আর কিছু চাই না'। সাগর হোসেনের বাবা সিরাজুল ইসলাম অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। বোনের বিয়ে হয়েছে এবং মুন্নি খাতুন বর্তমানে মেয়ের বাড়িতে থাকেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, মুন্নি খাতুনের নিজের নামেও প্রায় ১০ লাখ টাকার জমি রয়েছে।
সাগর হোসেনের বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে বনিবনা শুরু হয়েছিল। পরে সাগরের বোনও মায়ের পক্ষ নিয়ে জড়ালে বিরোধ আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, 'মায়ের ওপর অভিমান থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে'। তিনি বলেন, 'মায়েরও কিছু ভুল থাকতে পারে, কিন্তু একমাত্র ছেলে হয়ে মাকে নিজের কাছে রাখতে না চাওয়াটা মেনে নেওয়া যায় না'।
ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেছেন, 'আমার পর্যবেক্ষণে এটি মূলত আর্থিক সমস্যা নয়, মানসিক সমস্যা। মা ভরণপোষণের টাকা বা আর্থিক সুবিধাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁর একটাই চাওয়া, ছেলের সঙ্গে থাকবেন'। সাগর হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গিয়েছিল।
"আমি তোর সাথে যাবোরে, ও সোনার বাজানরে। আমি আর কিছু চাই না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা, নাগডেমরা ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুন্নি খাতুন (৫৫), সাগর হোসেন (৩২), হাফিজুর রহমান (ইউনিয়ন চেয়ারম্যান), সেলিম আহমেদ (ইউএনও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ বছর (মুন্নি খাতুনের বয়স), ৩২ বছর (সাগর হোসেনের বয়স), ১০ লাখ টাকা (মুন্নি খাতুনের জমির মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!