📌 পাবনা থেকে দেশত্যাগের উদ্দেশ্যে কুড়িগ্রাম সীমান্তে এসে পুলিশের হাতে আটক হয় তিন কিশোরী। তাদের মধ্যে দুজন মামাতো-ফুফাতো বোন এবং একজনের বয়স মাত্র ১২ বছর। তাদের মধ্যে একজন কালোচামি এবং চোখের সমস্যা থাকায় জীবনে কষ্ট পাচ্ছিলেন
পাবনা জেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্রী দেশত্যাগের চেষ্টায় কুড়িগ্রাম সীমান্তে পুলিশের হাতে আটক হন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় তাদের আটক করে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ। পরে পাবনা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয় এই তিন কিশোরীকে। তাদের মধ্যে একজন ১৪ বছর বয়সী এবং বাকি দুজন ১২ বছর বয়সী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনা থেকে দেশত্যাগের উদ্দেশ্যে কুড়িগ্রাম সীমান্তে আটক ৩ কিশোরী — তাদের মধ্যে দুজন মামাতো-ফুফাতো বোন
- 📌 ১৪ বছর বয়সী একজনের বাবা ফার্নিচার মিস্ত্রী, অন্যদুজনের বাবা ওয়ার্কশপের মিস্ত্রি
- 📌 কালোচামি ও চোখের সমস্যা থাকায় জীবনে কষ্ট পাচ্ছিলেন ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী
- 📌 বিটিএস-এর অনুষ্ঠান দেখে দেশত্যাগের পরিকল্পনা করে তিনজন — তাদের মধ্যে একজন ২৭ সেপ্টেম্বর বাবার জমানো এক লাখ টাকা নিয়ে বের হন
- 📌 পাবনা বাস টার্মিনাল থেকে রংপুর ও নাটোর বাসে করে কুড়িগ্রামে আসেন — সন্ধ্যায় হোটেল না পেয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজের স্ত্রী তাদের আশ্রয় দেন
- 📌 পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং নিরাপদে পাবনা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়
📰 বিস্তারিত
পাবনা জেলার চর আশুতোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্রী দেশত্যাগের চেষ্টায় কুড়িগ্রাম সীমান্তে পুলিশের হাতে আটক হন। তাদের মধ্যে একজন ১৪ বছর বয়সী এবং বাকি দুজন ১২ বছর বয়সী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই তিনজন কিশোরীর মধ্যে দুজন মামাতো-ফুফাতো বোন। তাদের বাবাদের মধ্যে একজন ফার্নিচার মিস্ত্রী এবং অন্যজনের বাবা ওয়ার্কশপের মিস্ত্রি।
১২ বছর বয়সী একজন কিশোরীর গায়ের রং কালো এবং চোখের সমস্যা থাকায় চশমা পরতে হয়। এই বিষয়টি তার জন্য কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। তার বাবা-মা প্রায়ই তার গায়ের রং এবং চোখের সমস্যা নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে থাকেন। এই তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের কারণে কিশোরী জীবন থেকে মুক্তি পেতে দেশ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। বিটিএস-এর অনুষ্ঠান দেখে তিনি বিটিএস-এর ভক্ত হয়ে পড়েন এবং দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করেন। তার এই পরিকল্পনার কথা সহপাঠী দু'জনকে জানান এবং তারা বান্ধবির সাথে সীমান্ত অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নেন।
২৭ সেপ্টেম্বর সকাল দশটার দিকে তিনজন একত্রিত হয়ে তাদের বিদ্যালয় থেকে বের হন। তৃতীয় কিশোরী তার পিতার জমানো এক লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তারা পাবনা বাস টার্মিনালে আসেন এবং নাটোর বাসে উঠে নাটোরে নামেন। এরপর নাটোর হতে রংপুর বাসে উঠে রংপুরে নামেন এবং কুড়িগ্রামের বাস ধরে কুড়িগ্রামে আসেন। সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে নেমে তারা অচেনা শহরে রাত্রি যাপনের চিন্তায় হোটেল বা বাসা খুঁজতে থাকে। এসময় কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজের স্ত্রী তাদের দেখে আশ্রয় দেন। তিনি তাদেরকে তার বাড়িতে আশ্রয় দেন এবং খাবার খাওয়ান। বিষয়টি তার স্বামী এসআই তাজকে জানান। পরে তারা কৌশলে তাদের পিতা-মাতার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করেন এবং তাদের পরিবারে খবর দেন।
এই ঘটনার পর পাবনা জেলা পুলিশ হন্যে হয়ে তিন কিশোরীর অনুসন্ধান করতে থাকে। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম পুলিশ পাবনা সদর থানায় অবগত করে এবং রাতেই এসআই রায়হানের মাধ্যমে তিন কিশোরীকে পাবনা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, তিন কিশোরীকে নিরাপদে পাবনা সদর থানার পুলিশের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
"তিন কিশোরীকে নিরাপদে পাবনা সদর থানার পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নাটোর, চর আশুতোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তিনজন কিশোরী (১৪, ১২, ১২ বছর), এসআই তাজ, কামাল হোসেন (কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (কিশোরী), ১৪ (বয়স), ১২ (বয়স), ২৮ (সেপ্টেম্বর), ২৭ (সেপ্টেম্বর), ১ (লাখ টাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!