📌 পাবনা জেলায় হানি ট্র্যাপে পড়া মো. কারিবুরকে উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। অপহরণের পরিকল্পনা ও কার্যক্রমে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের মধ্যে একজন মহিলা। অপহরণে ব্যবহৃত অটোরিক্সা ও ৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়
পাবনা জেলায় প্রেমের ফাঁদে পড়া মো. কারিবুরকে উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে পাবনা শহরে তার অপহরণের ঘটনা প্রকাশ পায়। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের মধ্যে একজন মহিলা। অপহরণে ব্যবহৃত একটি অটোরিক্সা এবং নগদ চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনা সদর উপজেলার পূর্ব কায়েমকোলা এলাকার পলি খাতুন (৪৩) ও তার স্বামী মো. জামাল হোসেন (৪৩) সহ ৩ জনকে অপহরণ ও হানি ট্র্যাপে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়
- 📌 পাবনা সদর উপজেলার মহাদেবপুর এলাকার মো. উকিল সর্দার (৪৩)ও গ্রেফতার হন, তিনি অপহরণে সহায়তা করেছিলেন
- 📌 মো. কারিবুরকে ১৫ দিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল, পরে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়
- 📌 অপহরণের সময় ভিকটিমের কাছ থেকে নেওয়া চার হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিক্সা জব্দ করা হয়
- 📌 ভিকটিমের ছেলে কামরুল মন্ডল (২৬) পাবনা সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন, পরে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে কারিবুরকে শ্রীপুর বাজার এলাকায় উদ্ধার করা হয়
📰 বিস্তারিত
১৪ অক্টোবর সকাল ১০টায় মো. কারিবুর নিজের মোবাইল মেরামতের জন্য বাড়ি থেকে পাবনা শহরের উদ্দেশে বের হন। দুপুর ১টায় তার ছেলে কামরুল মন্ডল (২৬) জানতে পারেন যে, তাকে শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। অপহরণকারীরা ৫০ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিলেন। কামরুল মন্ডল বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও বাবার সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।
অভিযানের এক পর্যায়ে শ্রীপুর বাজার এলাকায় কারিবুরকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত দুজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভিকটিমের কাছ থেকে নেওয়া নগদ চার হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিক্সা জব্দ করা হয়। পরে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী পলি খাতুনকেও গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পলি খাতুনকে দিয়ে প্রায় ১৫ দিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে কারিবুরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাকে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে দেখা করার জন্য ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া সহযোগীরা তাকে জোর করে অটোরিক্সায় তুলে অপহরণ করে এবং বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘোরাতে থাকে। পরে শ্রীপুর বাজারের একটি বিকাশের দোকান থেকে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে ভিকটিমের পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান, এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
"আমাদের অভিযানে পাবনা সদর উপজেলার পূর্ব কায়েমকোলা এলাকার পলি খাতুনকে দিয়ে প্রায় ১৫ দিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে কারিবুরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাকে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা সদর উপজেলা, শ্রীপুর বাজার, শাপলা প্লাস্টিক মোড়, পূর্ব কায়েমকোলা, মহাদেবপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. কারিবুর, পলি খাতুন, মো. জামাল হোসেন, মো. উকিল সর্দার, কামরুল মন্ডল (২৬), আব্দুস ছালাম (পুলিশ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন গ্রেফতার, ৪৩ বছর বয়সী ৩ জন, ১৫ দিন, ৫০ হাজার টাকা দাবি, ৪ হাজার টাকা জব্দ, ১০ টা, ১ টা, ২৬ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!