📌 পাবনা সদর উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুরের রবিউল ইসলাম তার আড়াই বছরের সন্তান আলফে সানিকে একা রেখে বাবাই হয়ে উঠেছেন। স্ত্রীর পরিত্যাগের পর তিনি অটোরিকশা চালিয়ে সন্তানকে কোমরে বেঁধে কাজ করেন। জেলা প্রশাসক জানান, সরকারি সহায়তা দিতে চলেছেন
পাবনা শহরের অলিগলিতে অটোরিকশায় বাবাই হয়ে উঠেছেন রবিউল ইসলাম। তার কোমরে বেঁধে বসা আড়াই বছরের ছোট্ট সন্তান আলফে সানি তার একমাত্র আশ্রয়। স্ত্রীর পরিত্যাগের পর দারিদ্র্যের লড়াইয়ে বাবাই পৃথিবী হয়ে উঠেছেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনা সদর উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুরের রবিউল ইসলাম তার ২ বছর বয়সী সন্তান আলফে সানিকে একা রেখে বাবাই হয়ে উঠেছেন। স্ত্রী ৫ মে চলে যাওয়ার পর তিনি সন্তানকে কোমরে বেঁধে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
- 📌 রবিউল ৮০ হাজার টাকা দিয়ে অটোরিকশা কেনেছিলেন, কিন্তু স্ত্রীর পরিত্যাগের পর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভীষণ সংকটের মুখোমুখি হন।
- 📌 জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সরকারি সহায়তা দিতে চলেছেন এবং রবিউলের নিজস্ব জায়গায় একটি ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
- 📌 রবিউলের প্রতিবেশীরা দাবি করেছেন, সরকার যেন এই অসহায় বাবা-ছেলের পাশে দাঁড়ায়।
📰 বিস্তারিত
পাবনা শহরের অলিগলিতে অটোরিকশায় বাবাই হয়ে উঠেছেন রবিউল ইসলাম। তার কোমরে বেঁধে বসা আড়াই বছরের ছোট্ট সন্তান আলফে সানি তার একমাত্র আশ্রয়। রবিউল জানান, তিনি ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি বিয়ে করেন। ২০২৪ সালের ১ মে তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় আলফে সানি। কিন্তু পারিবারিক বিরোধের কারণে ৫ মে স্ত্রী সন্তানকে রেখে চলে যান। সেই থেকে রবিউল একা সন্তানকে আগলে রাখছেন।
দারিদ্র্যের কারণে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার পর রবিউল অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি বলেন, নিজের মায়ের কাছ থেকে পাওয়া আধা কাঠা জমি বিক্রি করে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে অটোরিকশা কেনেছিলেন। অটোরিকশা চালিয়ে প্রতিদিন তাঁর আয় হতো ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। কিন্তু স্ত্রীর পরিত্যাগের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তিনি বলেন, “নিজের মা-বাবা মারা যাওয়ায় শিশুসন্তানকে একা রেখে বাইরে কাজে বের হতে পারি না। আবার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশাও ঠিকমতো চালাতে পারি না।”
রবিউলের বাসস্থান হলো খালাতো ভাইয়ের ছেলের ভাঙাচোরা দুটি টিনের ঘর। তিনি জানান, দীর্ঘদিন তিনি একটি সরিষার তেলের মিলে কাজ করতেন। কিন্তু মিলটি বন্ধ হয়ে গেলে অটোরিকশা চালানো শুরু করেন। বাবা-ছেলে দুজনেই ভাঙাচোরা ছোট্ট ছাপড়া টিনের ঘরে বসবাস করছেন।
"রবিউল ও তাঁর শিশুসন্তানের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় যা যা করা দরকার, সরকারিভাবে আমরা করব। তাঁর নিজস্ব জায়গা থাকলে সেখানে আমরা একটি ঘর করে দেব। আর রবিউল ও তাঁর স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মধ্যে কী সমস্যা আছে, জেনে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।"
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের কথায়, সরকারি সহায়তা দিতে চলেছেন। তিনি বলেন, রবিউলের নিজস্ব জায়গা থাকলে সেখানে একটি ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, রবিউলের স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা সদর উপজেলা, দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রবিউল ইসলাম (বাবা), আলফে সানি (সন্তান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ জানুয়ারি (বিয়ের তারিখ), ১ মে (সন্তানের জন্ম তারিখ), ৫ মে (স্ত্রীর পরিত্যাগের তারিখ), ৮০ হাজার টাকা (অটোরিকশার মূল্য), ৮০০-১০০০ টাকা (দৈনিক আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!