📌 পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলির হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ি বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর করে। জনতা ফাঁসির দাবি জানিয়ে বাড়ির মূল গেট ও প্রাচীর ভেঙে দেয়। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তার সহযোগী ইয়াছিন আলী (২৫)
পাবনা সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামে শিশু হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তের বাড়ি বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর করে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর থেকে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে এই ঘটনা ঘটে। ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলির হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হাতুড়ি, শাবল ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনা সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে শুক্রবার জুমার নামাজের পর
- 📌 বিক্ষুব্ধ জনতা হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে বাড়ির মূল গেট ও প্রাচীর ভেঙে দেয়, ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙে
- 📌 শত শত নারীও উপস্থিত হয়ে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেন এবং ফাঁসির দাবি জানান
- 📌 পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তার সহযোগী ইয়াছিন আলী (২৫), তাদের রোববার আদালতে তোলা হবে
- 📌 ৯ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়া কামরুন্নাহার কলির মরদেহ ১৬ সেপ্টেম্বর উদ্ধার করা হয়, পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটন করে
📰 বিস্তারিত
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে শিশু হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ এসে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির সামনে জড়ো হন। তারা স্লোগান দিতে দিতে হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে বাড়ির মূল গেট ও সীমানা প্রাচীর ভেঙে চুরমার করে ফেলেন। জনরোষের মুখে সাধারণ মানুষ ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। এ সময় শত শত নারীও উপস্থিত ছিলেন এবং ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেন। তারা প্রশাসনের কাছে ফাঁসির দাবি জানান, যদি বিচার না হয় তবে তারা নিজেরা অপরাধীদের হাতে ছেড়ে দেবেন বলে স্পষ্ট বক্তব্য দেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে আগে থেকে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও গ্রামবাসীর বিশাল জনস্রোতের তুলনায় সংখ্যায় কম থাকায় তারা বাধা দিতে পারেননি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে পাবনা সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামের স্থানীয় আল ফালাহ একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও পাওয়ারলুম তাঁত কারখানার মালিক কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কামরুন্নাহার কলি বাড়ি থেকে আইসক্রিম কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর তার মরদেহ একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, কলিকে গণধর্ষণ করে পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং বস্তায় পুরো শরীর ভরার ময় ঘাতকরা দুপা কেটে ফেলেন। এরপর তারা স্যাভলন দিয়ে ঘরের মেঝে পরিষ্কার করে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করেন।
"প্রশাসন যদি এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার না করে, তবে যেন অপরাধীদের তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা সদর উপজেলা, কুলুনিয়া গ্রাম, দোগাছী ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরুন্নাহার কলি (১০), মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫), ইয়াছিন আলী (২৫), ওসি তরিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ সেপ্টেম্বর (ভাঙচুরের তারিখ), ৯ সেপ্টেম্বর (নিখোঁজ হওয়ার তারিখ), ১৬ সেপ্টেম্বর (মরদেহ উদ্ধার), ৫৫ (মোস্তফা প্রামাণিকের বয়স), ২৫ (ইয়াছিন আলীর বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!