📌 নওগাঁর ধামইরহাটে নিঃসন্তান বৃদ্ধা হালিমা বেগমের (৬৫) হত্যাকাণ্ডে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ভাই-ভাবির জমানো টাকা ও জমিজমা লোভের পেছনে এই হত্যা সংঘটিত হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়েছে
নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় নিঃসন্তান বৃদ্ধা হালিমা বেগমের (৬৫) হত্যাকাণ্ডের পেছনে পাঁচজন আসামির জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল হালিমার জমানো টাকা ও গবাদিপশু, পাশাপাশি জমিজমা নিয়ে বিরোধ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নওগাঁর ধামইরহাটে নিঃসন্তান বৃদ্ধা হালিমা বেগমের (৬৫) লাশ ধানখেত থেকে উদ্ধার করা হয়
- 📌 পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার: মজনু রহমান, হোসনে আরা, রবিউল ইসলাম, হামিদুর রহমান ও মোশারফ হোসেন
- 📌 হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়েছে, হালিমার কানে থাকা সোনার দুলও চুরি করা হয়
- 📌 পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত রোববার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে হামিদুর কৌশলে হালিমাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান
- 📌 লাশ বাঁশঝাড়ের আড়ালে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়
📰 বিস্তারিত
নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামে বসবাসকারী স্বামীহীন নিঃসন্তান বৃদ্ধা হালিমা বেগমের (৬৫) লাশ গত সোমবার সকালে ধানখেত থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হালিমা বেগম বাবার বাড়িতে ছোট ভাইয়ের ঘরের পেছনে একটি ছাপরা ঘরে বসবাস করতেন। তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন এবং গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করতেন।
পুলিশের তথ্য মতে, হালিমার জমানো টাকা ও গবাদিপশুর প্রতি লোভ ছিল তার ছোট ভাই মজনু রহমান ও তার স্ত্রী হোসনে আরার। এছাড়াও, হালিমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের তথ্য দিয়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে রবিউল হালিমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। পাশাপাশি, প্রতিবেশী হামিদুর রহমান ও মোশারফ হোসেনের সঙ্গে হালিমার জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। এসব কারণে পাঁচজন মিলে হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আজ বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত রোববার রাত সাড়ে ১১টায় হামিদুর কৌশলে হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। পরে আসামিরা তাঁর মুখ চেপে ধরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যান। সেখানে রশি দিয়ে হাত বেঁধে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় হোসনে আরা হালিমার কানে থাকা সোনার দুল খুলে নেন এবং একটি কানের লতি কেটে যায়। পরে আসামিরা লাশ বাঁশঝাড়ের আড়ালে ফেলে রেখে চলে যান।
"হালিমার জমানো টাকা ও গবাদিপশুর প্রতি লোভ ছিল মজনু ও তাঁর স্ত্রীর। অন্যদিকে, রবিউল ইসলামের মাদক ব্যবসার তথ্য দেওয়ার কারণে হালিমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল হামিদুর ও মোশারফের সঙ্গে। এসব কারণে পাঁচজন মিলে হালিমাকে হত্যা করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ধামইরহাট উপজেলা, নওগাঁ, ছিলিমপুর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হালিমা বেগম (৬৫), মজনু রহমান, হোসনে আরা, রবিউল ইসলাম, হামিদুর রহমান, মোশারফ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ বছর বয়সী হালিমা বেগম, ২০০ গজ দূরত্ব, ১১:৩০ রাতের সময়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!