📌 নওগাঁ জেলায় বাস ও অটোরিকশা চালকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দ্বিতীয় দিন যাতায়াত বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে। বাস চালক রুবেল হোসেনকে মারধর করে আহত করা হয়েছে এবং বাস-অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সংঘাত চলছে
নওগাঁ জেলায় বাস ও সিএনজি অটোরিকশা চালকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দ্বিতীয় দিন যাতায়াত বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে। গত শনিবার বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে সংঘর্ষের পর থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তজেলা রুটে বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস চালক রুবেল হোসেন ও তাঁর সহকারীকে মারধর করে আহত করা হয়েছে এবং বাস শ্রমিকরা অটোরিকশা চালকদের ওপর হামলা চালিয়ে ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নওগাঁ জেলায় বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের যাতায়াতে ব্যাপক অসুবিধা
- 📌 বাস চালক রুবেল হোসেনকে মারধর করে আহত করা হয়, বর্তমানে চিকিৎসাধীন
- 📌 বাস শ্রমিকরা ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে এবং অটোরিকশা চালকদের ওপর হামলা চালিয়েছে
- 📌 যাত্রীদের জন্য ভাড়া বেড়েছে এবং যাতায়াত সময়ও বেড়েছে
- 📌 জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও অটোরিকশা মালিক সমিতির মধ্যে সংঘাত চলছে
📰 বিস্তারিত
গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোর সময় সিএনজি অটোরিকশা চালক ও মহন্ত পরিবহন নামের বাসের চালক রুবেল হোসেনের সহকারীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে দুপুর ১টার দিকে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজি চালকদের সংঘবদ্ধ হামলায় রুবেল হোসেন ও তাঁর সহকারী মারধর হন। রুবেল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাস চালক ও সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে গতকাল রোববার সকাল ৭টার থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বাস শ্রমিকরা সিএনজি অটোরিকশাও চলাচল করতে দিচ্ছে না এবং যেসব অটোরিকশা চালক সড়কে যান চালানোর চেষ্টা করেছে, তাদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রায় ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে।
বাস-অটোরিকশা বন্ধ থাকায় যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত খরচ ও সময়ের ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে। রাজশাহী থেকে আসা যাত্রী মোহাম্মদ সানি জানান, আগে ভাড়া ছিল ১৮০-১৯০ টাকা, কিন্তু বর্তমানে ২৫০ টাকা দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক বেশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে এবং সবাই অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে।’ অন্যদিকে, নিয়ামতপুর থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা শফিকুল ইসলাম তিন দফায় যাতায়াত করতে বাধ্য হন, যার ফলে তাঁর সময়ের অপচয় হয় প্রায় দুই ঘণ্টা।
জেলা অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মন্ডল বলেন, ‘গত শনিবার সংঘর্ষের জেরে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে বাস চলাচল বন্ধ রাখা এবং অটোরিকশা ভাঙচুর করা ঠিক নয়।’ অন্যদিকে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং মহাসড়কে সরকারি আইন অনুযায়ী তিন চাকার যান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
"আগে রাজশাহী থেকে আসতে ভাড়া লাগত ১৮০-১৯০ টাকা, আজ দিতে হয়েছে প্রায় ২৫০ টাকা। বাস বন্ধ থাকার সুযোগে সবাই অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। বাড়তি ভাড়ার পাশাপাশি আমাদের অনেক বেশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নওগাঁ জেলা (বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, পত্নীতলা উপজেলা, নজিপুর বাসস্ট্যান্ড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চালক রুবেল হোসেন, যাত্রী মোহাম্মদ সানি, দুলাল মন্ডল, রফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, ২৫০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া, ১৮০-১৯০ টাকা আগের ভাড়া
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!