📌 নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত একটি গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা মালিক ও বিক্রেতাকে আটক করে ইউএনওর কাছে নিয়ে যান। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ায় বিক্রি করা উচিত ছিল না। এলাকাবাসীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রাধাগঞ্জ বাজারে জলাতঙ্কে আক্রান্ত একটি গরুর মাংস বিক্রির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা মালিক ও মাংস বিক্রেতাকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানার কাছে নিয়ে যান। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জলাতঙ্কে আক্রান্ত গরু জবাই করে রাধাগঞ্জ বাজারে বিক্রি করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
- 📌 ৬০ হাজার টাকা মূল্যে গরুটি মাংস ব্যবসায়ী ফারুক মিয়াকে বিক্রি করা হয়, যিনি পরে গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করেন।
- 📌 প্রাণিসম্পদ বিভাগের এআই টেকনিশিয়ান উপসহকারী রফিক গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ায় বিক্রি না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু মালিক তা অনুসরণ করেননি।
- 📌 মাংস ক্রেতারা বিষয়টি না জেনে মাংস কিনে খান, পরে জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের আটক করে ইউএনওর কাছে নিয়ে যান।
- 📌 রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেছেন, বিষয়টি প্রাণিসম্পদ বিভাগের তদারকির আওতায় রয়েছে।
- 📌 বাসিন্দারা সুষ্ঠু তদন্ত, জবাই ও মাংস বিক্রির বিষয়টি যাচাই এবং আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
রাধাগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা জুলহাসের একটি গরু জলাতঙ্কে আক্রান্ত হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের এআই টেকনিশিয়ান উপসহকারী রফিক গরুটি আলাদা করে রাখা এবং বিক্রি বা জবাই না করার পরামর্শ দেন। স্থানীয় কয়েকজনকেও গরুটি না কেনা বা জবাই না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। তবে জুলহাস পরে গরুটি গোপনে ৬০ হাজার টাকায় মাংস ব্যবসায়ী ফারুক মিয়ার কাছে বিক্রি করেন। গত শনিবার ভোরে গরুটি জবাই করে রাধাগঞ্জ বাজারে মাংস বিক্রি করা হয়। সাধারণ ক্রেতারা বিষয়টি না জেনে ওই মাংস কিনে রান্না করে খান। স্থানীয়দের দাবি, গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত থাকার বিষয়টি আজ সকালে জানাজানি হয়। এরপর ওই মাংস কেনা কয়েকজনসহ স্থানীয়রা ফারুক মিয়া ও জুলহাসকে আটক করে ইউএনওর কাছে নিয়ে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেছেন, ‘বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত দুজনকে আমার কাছে নিয়ে আসেন। ভুক্তভোগী কেউ চাইলে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাংস বিক্রেতাকে ওই স্থানে মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাংস যথাযথভাবে সিদ্ধ বা রান্না করলে ঝুঁকি কমে যাওয়ার কথা। তবে কেউ অসুস্থতা বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, ‘প্রাণিসম্পদ বিভাগের এআই টেকনিশিয়ান উপসহকারী রফিক গরুটিকে দেখে মালিককে পরামর্শ দিয়েছিলেন। গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ায় আলাদা করে রাখতে এবং কোনোভাবেই বিক্রি না করতে বলা হয়েছিল। তিনি স্থানীয় লোকজনকেও বিষয়টি নিয়ে সচেতন করেছিলেন। কিন্তু মালিক গরুটি কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে বিষয়টি আমরা জানতে পারি।’
"বিষয়টি প্রাণিসম্পদ বিভাগের তদারকির আওতায়। তাঁরা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা করা হবে।"
— রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাধাগঞ্জ বাজার, রায়পুরা উপজেলা, নরসিংদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফারুক মিয়া (মাংস বিক্রেতা), জুলহাস (গরুর মালিক), মাসুদ রানা (ইউএনও), মো. মজিবুর রহমান (ওসি), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ হাজার টাকা (গরুর বিক্রয় মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!