📌 নরসিংদী শহরের চৌয়ালা এলাকায় তিন মাস আগের ঝুট-ভাঙারির ব্যবসায়ের দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতিতে গতকাল বিকেলে এক তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত তরুণ আবদুল্লাহ বাবু (২৬) স্কুলের সামনে ফুচকা-চটপটি বিক্রি করতেন। মামলায় আবু লালসহ ১৭ জন আসামি উল্লেখ করা হয়েছে
নরসিংদী শহরের চৌয়ালা এলাকায় তিন মাস আগের ঝুট-ভাঙারির ব্যবসায়ের দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতিতে গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় এক তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত তরুণ আবদুল্লাহ বাবু (২৬) স্কুলের সামনে ফুচকা-চটপটি বিক্রি করতেন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা তিন বন্ধুর সম্পর্কের অবনতি এবং চাঁদাবাজির ব্যবসায়ের দ্বন্দ্বের কথা জানিয়েছেন নিহত তরুণের পরিবারের সদস্যরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬ বছর বয়সী আবদুল্লাহ বাবু (মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে) গতকাল বিকেল চৌয়ালা উত্তরপাড়া এলাকায় বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি স্কুলের সামনে ফুচকা-চটপটি বিক্রি করতেন।
- 📌 মামলায় ১৭ জন আসামি উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান আসামি আবু লাল (৪২) (খাটেহারা এলাকা) এবং তাঁর অনুসারীরা।
- 📌 দ্বন্দ্বের মূল কারণ ছিল তিন মাস আগের ঝুট-ভাঙারির ব্যবসায়ের চাঁদাবাজি নিয়ে আবু লাল ও সনেটের ঝগড়া। এরপর সনেটের ওপর হামলা, ব্যাপক মারধর এবং সনেটকে এলাকায় দেখা না যাওয়ায় সম্পর্ক খারাপ হয়।
- 📌 হেলাল ও শফিককে কোপানোর পর আবদুল্লাহ ঢাকার হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর আবু লাল ও তাঁর অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আবদুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করেন।
- 📌 আবদুল্লাহর মা শায়েরা বেগম বলেন, “আমার সামনে আবু লাল ছেলেকে গুলি করেছে। আমি তাঁর হাত আটকানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু সে আমার হাতের নিচে দিয়ে গুলি করে দেয়।”
📰 বিস্তারিত
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর আল মামুন জানান, আবদুল্লাহ বাবু হত্যার ঘটনায় আবু লালসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। আসামিরা বর্তমানে এলাকাছাড়া। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান চালাচ্ছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আবদুল্লাহ গতকাল বিকেল চারটা দিকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় পূর্বশত্রুতার জেরে আবু লালের নেতৃত্বে আসামিরা পিস্তল, চাপাতি, রামদাসহ বাড়িতে ঢোকেন। তখন আবদুল্লাহকে এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়। আবদুল্লাহ ঘরে থাকা হাঁসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকলে মিরাজ নামের এক হামলাকারী আহত হন। পরেই আবু লাল হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে আবদুল্লাহকে গুলি করেন। একটি গুলি তাঁর বুকে, আরেকটি গুলি হাতে বিদ্ধ হয়। ভাইকে বাঁচাতে গেলে রুবেল মিয়া (আবদুল্লাহর বড় ভাই) কুপিয়ে আহত হন।
আবদুল্লাহর পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন মাস আগেও আবু লাল, হেলাল ও সনেট ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা একসঙ্গে ঝুট-ভাঙারির ব্যবসা ও চাঁদাবাজি করতেন। কিন্তু তিন মাস আগে আবু লালের সঙ্গে সনেটের ঝগড়া হয়। এরপর সনেটের ওপর হামলা হয় এবং ব্যাপক মারধর করা হয় তাঁকে। ওই মামলায় আবু লাল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বেরিয়ে আসেন। এরপর থেকে সনেটকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। সনেটের খালাতো ভাই হওয়ায় হেলালের সঙ্গে আবু লালের সম্পর্কও খারাপ হতে থাকে। সনেটের সঙ্গে হেলালের ছোট ভাই রাকিব চলাফেরা করতেন। সনেটকে না পাওয়ার রাগ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাকিবের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটে। ভাইয়ের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনায় আবু লালকে কল করে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন হেলাল। পরদিন রাতে ঘোড়াশালে হেলালকে ঘুমন্ত অবস্থায় কোপানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত বৃহস্পতিবার শালিধা এলাকায় হেলালের সৎভাই শফিককে কোপানো হয়। আহত দুজনকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন আবদুল্লাহ বাবু। এরপর আবু লাল ও তাঁর অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল বিকেলে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে তাঁকে হত্যা করেন।
আবদুল্লাহর মা শায়েরা বেগম বলেন, “দুই পক্ষের ঝগড়ার বলি হয়েছে আমার ছোট ছেলে। তিনি কোনো ঝামেলায় জড়াত না। হেলাল তার ফুফাতো ভাই। হেলাল ও শফিককে কোপানোর পর কেন ঢাকার হাসপাতালে নিল, সে ক্ষোভ থেকেই আবু লাল আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।”
"আমার সামনেই আমার ছেলেকে গুলি করেছে আবু লাল। কোমর থেকে পিস্তল বের করার পর আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়েই শরীর দিয়ে ঢেকে রেখেছিলাম, দুই হাত দিয়ে তাকে আটকানোর চেষ্টাও করেছি। কিন্তু সে আমার হাতের নিচে দিয়ে আবদুল্লাহকে গুলি করে দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নরসিংদী শহর, চৌয়ালা উত্তরপাড়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল্লাহ বাবু (২৬), আবু লাল (৪২), রুবেল মিয়া, শায়েরা বেগম, হেলাল, শফিক, মিরাজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ জন আসামি, ২৬ বছর বয়স, ৪২ বছর বয়স, ২৫ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!